১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিএমপির মোবাইল কোর্টে তিন চালকের দণ্ড ৬ গাড়ি ডাম্পিং

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুলিশের সিগন্যাল অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে পালানোর সময় আটক করে চালক মনোয়ারকে (৩৮) ৬ মাসের কারাদ- দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটায় উত্তরার জসিমউদ্দীন সড়কে ডিএমপির ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাকে এ কারাদ- দেয়া হয়। একই অভিযানে আরও দু’জন চালক ও সহকারীকে এক মাস করে কারাদ- দেয়া হয়েছে। এই সময় ছয়টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়। ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানটি বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মশিউর রহমান জানান, সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত বাসের তিন চালক ও এক হেলপারকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়া হয়। ছয়টি বাসকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, সপ্তাহে ৪ দিন ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ডিএমপির অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত আমি মোট ৫১টি যানবাহন ডাম্পিংয়ে পাঠিয়েছি। কোন গাড়িকে ছাড় দেয়া হয়নি। অনেক মালিক তাদের গাড়ির কাগজ নবায়ন করছেন। আগামীতে এর সুফল আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জসিমউদ্দীন মোড়ে যাত্রাবাড়ী-গাজীপুর রোডের তুরাগ সিটিং নামের একটি বাসকে পুলিশ থামতে সিগন্যাল দেয়। ওই সময় চালক মনোয়ার সিগন্যাল অমান্য করে বাসটি দ্রুতগতিতে চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ মোটরসাইকেল যোগে উত্তরার আজমপুরে বাসটি থামিয়ে চালকসহ আটক করে। এ বিষয়ে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মশিউর রহমান জানান, বাসটি ফিটনেসবিহীন বলে পুলিশ তাকে থামার জন্য নির্দেশ দিলেও চালক দ্রুতগাতিতে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে উত্তরার আজমপুর থেকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, চালক মনোয়ারের কাছে গাড়ির কোন কাগজের মেয়াদ ছিল না। গাড়ি চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সরকারী কাজে বাধা দেয়ায় তাকে দ-বিধির ৩৫৬ ধারায় ৬ মাসের কারাদ-াদেশ দেয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে উত্তরার জসিমউদ্দীন সড়কে ৬টি ফিটনেসবিহীন বাস আটক করে ডাম্পিং করা হয়েছে। এছাড়া দুই চালক ও একজন গাড়ির হেলপারকে কারাদ- দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে ৬ মাসের ও বাকি দু’জনকে এক মাস করে কারাদ- দেয়া হয়েছে।

অভিযান চলাকলে গুলিস্তান-গাজীপুর রোডের একটি সুপ্রভাত (ঢাকা মেট্রো-জ ১৪-০০৮৫) পরিবহনের চালক গাড়ি রেখেই দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে ওই বাসের কাগজপত্র ঠিক ছিল না। চালকের পলায়নের কারণে বাসের হেলপার রুবেলকে এক মাসের কারাদ- দেয়া হয়েছে। অপরদিকে আজমেরি পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৩২৩১) বাসের চালক মোঃ বাবুলের (৪৫) ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে এক মাসের কারাদ- দেয়া হয়েছে। এদিকে রোড পারমিট না থাকায় গাবতলী-গাজীপুর রোডের বসুমতি পরিবহনের একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৭৩৩৮) ডাম্পিং করা হয়েছে। কাগজের মেয়াদোত্তীর্ণ থাকায় আশুলিয়া ক্লাসিক পরিবহনের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-জ ১১-০৫৩৪) ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে।