২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস কার্যত অচল, দুভোর্গ

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ টানা পাঁচদিন ধরে নাব্য সংকটে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে এখানে মানুষের চরম দুভোর্গ ছাড়াও বহু পন্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ায় ব্যবসা বানিজ্যে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। মঙ্গলবার সকালে দু’প্রান্তে এখনও সাড়ে ৪’শ যান আটকা ছিল। এর অধিকাংশই পন্যবাহী ট্রাক। ছোট গাড়ি ও বাসগুলো বেশির ভাগই ঘুরিয়ে অন্য পথে চলে গেছে। এছাড়া আজ এই রুটে নতুন করে আসা গাড়ির সংখ্যাও কম। এসব তথ্য দিয়ে বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহা ব্যবস্থাপক আশিকুজ্জামান জানান, ফেরি ‘কুসুমকলি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামের দুটি কে-টাইপ আকারের ফেরি জোয়ারের সময় কোন রকম টিপ দিচ্ছে। যেখানে আগে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ টি টিপ হতো। আর ১৬টি ফেরিই অলস বসে আছে।

এদিকে শিমুলয়া-কাওড়াকান্দি নৌ রুটের এই নাব্য সঙ্কট রোধে আজ মঙ্গলবার যৌথ জরিপ শুরু হয়েছে। জরিপ শেষে পদ্মা সেতুর সেতু বড় ড্রেজার এখানে ড্রেজিং শুরু করবে। এর আগে সোমবার ১২ সদস্যের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম দিনভর লৌহজং টানিং পয়েন্টসহ নৌ রুটটির গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন শেষে এই সার্ভের সিদ্ধান্ত নেন। বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সুলতান উদ্দিন খান এই তথ্য দিয়ে জানান, মঙ্গলবার পদ্মা সেতুর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি যৌথ জরিপ হবে। কি পরিমান বালু অপসারণ করা হবে তার একটি পরিকল্পনা গ্রহন করা হবে। এরপরই বুধবার থেকে পদ্মা সেতুর কাজে চাইনিজদের ব্যবহৃত বড় আকারে ড্রেজারটি ব্যবহার করা হবে। তিনি মনে করেন এই ড্রেজার ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই নৌ রুটের নাব্যতা ফিরে আসবে এবং ফেরি সার্ভিস স্বাভাবিক হবে।

এদিকে এই উত্তাল পদ্মায় যাত্রীদের লঞ্চ ও স্পীডবোটে জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। প্রায় তিন সপ্তাহ সময় ধরে ফেরি চলাচল নানাভাবে ব্যহত হয়ে আসছে। নাব্য সঙ্কটরোধে ড্রেজিং করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তীব্র ¯্রােতে ভরা বর্ষায় পলি পরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে লৌহজং টানিং পয়েন্টের মুখ। স্বাভাবিক ফেরি চলার জন্য চ্যানেলে পানির গভীরতা প্রয়োজন সাড়ে ৭ ফুট। কিন্তু পানির গভীরতা এখন সর্বনি¤œ ৬ ফুটের নিচে নেমে এসেছে।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিমুলিয়ায় এখন দুভোর্গ আর বিড়ম্বনার স্থান। আটকে পরা মানুষগুলো কষ্টের যেন সীমা নেই। তারা না পারছে ফিরে যেতে না পারছে পার হতে। দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে বিপর্যয় নানা রকম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। দক্ষিাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের কষ্ট ছাড়াও সেখানে মালামাল নেয় বা সেখানকার উৎপাদিত পন্য বাজারজাতেও সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ