১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বার কাউন্সিল নির্বাচন বুধবার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কয়েক দফা ভোটার তালিকা সংশোধনের পর অবশেষে আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সারা দেশের ৭৭টি কেন্দ্রে এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার কাউন্সিলে প্রতি তিন বছর পর পর নির্বাচন হয়ে থাকে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল) এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য (নীল প্যানেল) পরিষদ ছাড়াও আরো দুটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। বার কাউন্সিলের ১৪টি সদস্য পদের বিপরীতে এবার ৬১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এবার নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেল জয়ের আশা করছেন সব প্যানেলের প্রার্থীরাই।

সংশোধিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে সারাদেশে ৪৪ হাজার ৩০২ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র, প্রতিটি জেলা আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র এবং বাজিতপুরসহ ১২টি উপজেলার দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণে ভোট গ্রহণ করা হবে।

এর আগে বার কাউন্সিল ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুসারে ২০ মে এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে বার কাউন্সিলের ভোটার তালিকায় অসংখ্য দ্বৈত ভোটার থাকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনকণ্ঠ। এরপর গত ১৭ মে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত ও বার কাউন্সিল আইন (সংশোধন) ২০০৩ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে ২১ মে হাইকোর্টের বেঞ্চ বার কাউন্সিল নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। এর পর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে আপীল করে বার কাউন্সিল কতৃপক্ষ। এর পর গত ৮ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে থাকা আপীল বেঞ্চকে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, নির্বাচনের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। পরে এ-সংক্রান্ত করা রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়ে বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য ২৬ আগস্ট দিন ঠিক করে দেন আপীল বিভাগ।

এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে। আদালতকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এর আগে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুলাই সংশোধিত ভোটার তালিকা ৩০ জুলাই প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এরপর নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়।

এই নির্বাচনে ১৪ সদস্যের মধ্যে সারাদেশে সনদপ্রাপ্ত আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে ৭ জন এবং দেশের সাতটি অঞ্চলের স্থানীয় আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে মোট ৭ জন নির্বাচিত হবেন। সাধারণ আসনে ৭ জন সদস্যের বিপরীতে ৩২ এবং সাতটি অঞ্চলের স্থানীয় আইনজীবী সমিতির সাতটি সদস্য পদে মোট ২৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। সাতটি অঞ্চল হচ্ছেথ ‘গ্রুপ-এ’ সাবেক বৃহত্তর ঢাকা জেলার সব আইনজীবী সমিতি। ‘গ্রুপ-বি’ বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর জেলার আইনজীবী সমিতি। ‘গ্রুপ-সি’ বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার আইনজীবী সমিতি। ‘গ্রুপ-ডি’ বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ও সিলেট জেলা অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি। ‘গ্রুপ-এফ’ বৃহত্তর খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি। ‘গ্রুপ-এইচ’ বৃহত্তর রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি এবং ‘গ্রুপ-জি’ বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার আইনজীবী সমিতি।

সাধারণ আসনে সাতটি পদে ও অঞ্চলভিত্তিক সাতটি পদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সমমনা আইনজীবী সংগঠন সমর্থিত ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল)’ এবং বিএনপির নেতৃত্বে সমমনা আইনজীবীদের সমর্থিত ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (নীল প্যানেল)’ রয়েছে। এ ছাড়া আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে রয়েছে ‘আইনজীবী ঐক্য ফ্রন্ট (গোলাপী প্যানেল)’ এবং আইনজীবী মোঃ ইউনুস আলী আকন্দের নেতৃত্বে একটি প্যানেল রয়েছে।

সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ: সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের নেতৃত্বে সাধারণ আসনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সমর্থিত অন্য প্রার্থীরা হলেনথ ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, এ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, আবদুল মতিন খসরু, পরিমল চন্দ্র গুহ, জেড আই খান পান্না এবং শ.ম. রেজাউল করিম।

জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদ: সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে সাধারণ আসনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেনথ ব্যারিস্টার এ. জে মোহাম্মদ আলী, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, মোঃ বোরহান উদ্দিন ও মহসিন মিয়া।

আইনজীবী ঐক্য ফ্রন্ট: এ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে আইনজীবী ঐক্য ফ্রন্টে অন্য প্রার্থীরা হলেনথ শাহ মোঃ খসরুজ্জামান, একেএম জগরুল হায়দার আফ্রিক, আবদুল মোমেন চৌধুরী, সারওয়ার-ই দীন, মোঃ হেলালউদ্দিন ও শামসুল হক।

আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার কাউন্সিলের মোট ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪ জন আইনজীবীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ১৪ জনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে একজন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (এ্যাটর্নি জেনারেল) পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের সভাপতি থাকেন।