২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মার্কিন-তুর্কি সমন্বিত অভিযান

  • আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে

তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই তুরস্কের সীমান্তবর্তী উত্তর সিরিয়ার একটি অঞ্চলকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গীমুক্ত করার জন্য ‘সমন্বিত’ বিমান হামলা শুরু করব তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু সোমবার একথা বলেন। এক সাক্ষাতকারে কাভুসোগলু বলেন, রবিবার ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে বিমান হামলার পরিকল্পনা বিষয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা শেষ হয়েছে এবং সৌদি আরব, কাতার ও জর্দানসহ আঞ্চলিক মিত্রদেশগুলো এবং সেই সঙ্গে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সও এতে অংশ নিতে পারে। তিনি বলেন, গতকাল (রবিবার) কারিগরি আলোচনা শেষ হয়েছে এবং অচিরেই আমরা দায়েশের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযান সমন্বিত অভিযান শুরু করতে যাচ্ছি। খবর ইয়াহু নিউজের।

যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়শিংটন কর্তৃক বিবেচিত মধ্যপন্থী সিরীয় বিদ্রোহীদের বিমান ছত্রছায়া প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েছেÑ যার লক্ষ্য মোটামুটি ৮০ কিমি দীর্ঘ আয়তাকার সীমান্তবর্তী ভূখ- আইএস জঙ্গীশূন্য করা। পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত কর্মকর্তারা একথা বলেন। কূটনীতিকরা বলছেন, তুর্কি সীমান্তে আইএসের প্রবেশ বন্ধ করা একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হতে পারে। সীমান্ত দিয়ে তারা বিদেশী যোদ্ধা ও রসদ এনে থাকে। মার্কিন জঙ্গী বিমানগুলো ইতোমধ্যে তুর্কি ঘাঁটিগুলো থেকে তাদের বিরুদ্ধে আগাম বিমান হামলা শুরু করেছে।

কাভুসোগলু বলেন, এই অভিযান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে একটি বার্তা পাঠাতে পারে এবং আলোচনার টেবিলে এসে সিরিয়ার ব্যাপকতর যুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে তাঁর প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টিতেও সহায়ক হতে পারে। আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে, আসাদের বিদায়ের মধ্য দিয়েই শুধু সিরিয়ায় স্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, জোটের অভিযান সরাসরি আইএসকে হটিয়ে দেয়ার ওপরই কেন্দ্রীভূত থাকবে। কাভুসোগলু বলেন, দায়েশকে (আইএস) সিরিয়া ও ইরাক উভয়স্থান থেকে নির্মূল করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, না হলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি আসবে না। তবে পরিস্থিতির (সিরিয়ায়) মূল কারণের উৎপাটন অপরিহার্য, যা অবশ্যই সিরীয় সরকার।

পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র বলেন, মার্কিন ও তুর্কি সামরিক কর্মকর্তারা রবিবার আইএসের বিরুদ্ধে বিমান হামলায় তুর্কি যুদ্ধ বিমানকে সংযুক্ত করে কৌশলগত খুঁটিনাটি প্রণয়নের লক্ষ্যে আলোচনা করেছেন। নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস ওয়াশিংটনে বলেন, আমরা অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সম্মিলিত বিমান অভিযান কেন্দ্রে তুরস্ককে স্বাগত জানানোর অপেক্ষা করছি।

কাভুসোগলু বলেন সিরীয় কুর্দি পিওয়াইডি মিলিশিয়া বাহিনী, যারা সিরিয়ার অন্যত্র আইএসের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বিমান হামলায় স্থলভাগে একটি উপকারী মিত্র হিসেবে নিজেদের প্রমাণিত করেছেÑ তারা তাদের নীতি পরিবর্তন না করলে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার যৌথ অভিযানের লক্ষ্যে তাদের কোন ভূমিকা থাকবে না। আঙ্কারা এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন যে, পিওয়াইডি এবং তাদের মিত্রদের লক্ষ্য উত্তর সিরিয়ার কুর্দি অঞ্চলগুলোকে একত্রিত করা। সরকারের আশঙ্কা ওইসব উচ্চাকাক্সক্ষা তুরস্কের কুর্দিদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার মনোভাব উস্কে দিতে পারে। তিনি বলেন, হ্যাঁ, পিওয়াইডি দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াই করছে... তবে তারা সিরিয়ার আঞ্চলিক অখ-তা কিংবা রাজনৈতিক ঐক্যের জন্য লড়ছে না। এটি অগ্রহণযোগ্য। আমরা চাই মধ্যপন্থীবিরোধী শক্তি প্রকৃতপক্ষে উত্তর সিরিয়ার নিরাপদ অঞ্চল কিংবা দায়েশমুক্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করুক, পিওয়াইডি নয়Ñ যদি না তারা ওই অর্থে তাদের নীতির আমূল পরিবর্তন না করে।’ তিনি বলেন, আঙ্কারা ও ওয়াশিংটন দুই পক্ষই পিওয়াইডিকে সরাসরি এই বার্তা দিয়েছে।

তুরস্কের সঙ্গে প্রস্তাবিত নিরাপদ অঞ্চলের পূর্ব প্রান্তের ভূখ- নিয়ন্ত্রণকারী পিওয়াইডির সম্পর্কে জটিলতায় আক্রান্ত আঙ্কারার কর্মকর্তারা এর কারণ হিসেবে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে ওই গোষ্ঠীর গভীর বন্ধনের বিষয়কে উল্লেখ করেছেন। পিকেকে তিন দশক ধরে তুরস্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে। কাভুসোগলু বলেন, তুরস্ক উত্তর ইরাক ও দক্ষিণপূর্ব তুরস্কে পিকেকের লক্ষ্যবস্তুর ওপর সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। গত মাসজুড়ে আঙ্কারা সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং গোষ্ঠীটি অস্ত্র সংবরণ না করা পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকবে। তুর্কি সরকার বলছে, তারা তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা বৃদ্ধির জবাবে পিকেকের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। কাভুসোগলু বলেন, সাম্প্রতিক সামগুলোতে গোষ্ঠীর হাতে ৬১ জন সৈন্য ও পুলিশ অফিসার নিহত হয়েছে। সমালোচকরা অবশ্য বলছেন, তুরস্ক পিকেকের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলাকে আড়াল করতে আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটে বৃহত্তর ভূমিকা পালনসহ তাদের ভাষায় এই সন্ত্রাসবিরোধী যুগপৎ যুদ্ধকে ব্যবহার করছে। আঙ্কারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।