২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সারা বিশ্বের জঙ্গী

গোত্রে গোত্রে, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে হানাহানি সহস্র বছরেরও পুরনো। তারপর নানা নদীর জল গড়াতে গড়াতে মানুষ সভ্যতার দিকে ক্রমশ ধাবিত হতে হতে বিশ্বটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। মানুষে মানুষে আরও কাছাকাছি হওয়ার, পরস্পরকে বোঝার, জানার ক্ষেত্রগুলো যখন সম্প্রসারিত হচ্ছে তখনও বিশ্বজুড়ে হানাহানি, সন্ত্রাস, জঙ্গীপনা, গণহত্যা, সম্পদহানি, ঐতিহ্য ধ্বংস চলছে। দিন দিন এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের তৎপরতা তথা সন্ত্রাসের মাত্রা তীব্রতর হচ্ছে। জঙ্গীরা নির্বিচারে নির্বিকারে মানুষ হত্যা যেমন করছে, তেমনি অস্ত্রের ঝঙ্কার তুলছে দেশে দেশে। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের কোন ধর্ম নেই। স্বজ্ঞানে, সচেতনভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে এরা মানুষ হত্যা করে আসছে। যাদের প্রশ্রয়ে তারা বেড়ে উঠেছে সেই রাষ্ট্রনামক মহাদেশটি জঙ্গী হামলার শিকার হওয়ার পরও জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদকে লালন-পালন থেকে সরে আসেনি। বরং নানাভাবে উস্কে দিচ্ছে, মদদ দিচ্ছে কোথাও কোথাও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রথমে মুজাহিদ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে আফগানিস্তান থেকে রুশ সেনাদের হটে যেতে বাধ্য করে। এ সময় অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটানো হয় দেশ দুটিতে। এরপর তালেবান তৈরি করে কট্টরপন্থী জঙ্গীদের ক্ষমতায় বসায়। কিন্তু জঙ্গীরা এক সময় তাদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র শানায়। টুইন টাওয়ার ধ্বংস করে। এরপর শুরু হয় মার্কিনী তৎপরতা। উগ্রপন্থী, চরমপন্থী, কট্টর মুসলিমদের দিয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি শুধু নয়, সশস্ত্র প্রশিক্ষণও দেয়। মার্কিনসহ ইউরোপীয় সেনারা আফগান দখল করে পুতুল সরকার বসালেও তালেবান থেকে সৃষ্ট আল কায়দার চোরাগোপ্তা জঙ্গী হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই জঙ্গী সংগঠনটির বিস্তৃতি পাকিস্তান ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। এরা কেউই ধর্ম প্রচারক নয়। বরং ধর্মকে বর্ম করে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে।

আল কায়দা থেকে ক্রমশ গড়ে ওঠা ইসলামিক স্টেট বা আইএস নামক জঙ্গী সংগঠনটি এখন বিশ্বত্রাসে পরিণত হয়েছে। এদের অর্থ ও অস্ত্রবল কম নয়। সিরিয়া, ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে তারা খলিফা শাসিত রাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে। লিবিয়ার একাংশও তাদের নিয়ন্ত্রণে। এদের সন্ত্রাসী তৎপরতা সৌদি আরব, মিসর, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এমনিতেই নিজেদের মধ্যকার পুরনো হানাহানি নতুন করে চাগাড় দিয়েছে। সেসব দেশে অস্ত্রের ঝনঝনানি এখনও চলছে। আইএস জঙ্গীদের আত্মঘাতী হামলা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মসজিদে নামাজরত অবস্থায় বোমা হামলা চালিয়ে বহু মানুষ ইতোমধ্যেই হতাহত করেছে। আইএস সৌদি আরবেও নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বলয়ের দেশগুলো আইএসের টার্গেট। আফ্রিকার দেশ নাইজিরিয়া, সোমালিয়াও জঙ্গীদের সন্ত্রাসকবলিত। প্রতিবেশী কেনিয়াতেও হামলা করেছে এরা। ইউরোপের দেশগুলোও তাদের হামলার শিকার হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিপাকে ফেলেছে এই জঙ্গীরা। এরা মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ও অঞ্চলে মুসলমানদের ওপরও হামলা চালাচ্ছে। শান্তির ধর্ম, সহিষ্ণুতার ধর্ম ইসলাম কখনই এমন হত্যাকা- সমর্থন করে না। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মূলত ইসলামবিরোধী। অথচ এরাই ইসলামের প্রতিভূ বলে নিজেদের জাহির করে আসছে। মুসলিম দেশগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা ওআইসি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং অভিন্ন অবস্থান গ্রহণে পদক্ষেপ নিতে পারছে না। জঙ্গীবাদের আশঙ্কায় আক্রান্ত বাংলাদেশ চাইছে মুসলিম দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাত বন্ধ করে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোক। যখন বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দ পরস্পরবিরোধী অবস্থানে তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জঙ্গীরা যাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা চালিয়েছে বহুবার, সেই তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ওআইসিকে পদক্ষেপ নিতেও বলেছেন। বিশ্ববাসীর মতো বাংলাদেশও চায় জঙ্গীবাদের নির্মূল ও বিশ্বশান্তি।