১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিসিসি কী করছে?

রাজধানী ঢাকার প্রায় দুই কোটি মানুষ মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ। কোন কোন এলাকায় এ উৎপাত এত বেশি যে, মশক নিধনের দামী কীটনাশক ব্যবহার করেও রেহাই মিলছে না। ২৮ এপ্রিল মেয়র নির্বাচনের পর দুই মেয়র পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচী হাতে নিলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে রাজধানীতে অবাধে বেড়েছে মশার দৌরাত্ম্য। কোন কোন স্থানে এডিস মশার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য বছর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনের কার্যক্রম চললেও এবার তা বন্ধ। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কারও কারও বক্তব্য বৃষ্টিতে মশার ডিম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মশারও মৃত্যু হয়। বৃষ্টির মধ্যে ওষুধ ছিটালে কোন কাজে আসবে না এমন অজুহাতও তারা তুলে ধরছেন। সে কারণে গত ২০ আগস্ট মশক নিধন দিবসেও সিটি কর্পোরেশনের এ নিয়ে কোন কর্মসূচী ছিল না। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও উদাসীনতাই রাজধানীতে মশার উৎপাত বাড়ান কারণ বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। চিকিৎসকদের অভিমত, বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার সুপ্ত লাভা জীবন্ত হয়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এখন সেই মৌসুম। তাই এই সময়টায় মশক নিধনের কার্যক্রম জোরদার করা জরুরী। তা না হলে এডিস মশার বিস্তার রোধ করা যাবে না, ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বেড়ে যাবে।

প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত রাজধানীর বদ্ধ জলাশয়, কচুরিপানা, নর্দমা পরিষ্কার এবং এ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ স্প্রে করে থাকে ডিসিসি। এবার তা করা হয়নি। এমনকি মে মাসের মাঝামাঝি যে মশক নিধন কর্মসূচী নেয়া হয় তা এবার নেয়নি সিটি কর্পোরেশন। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, শুধু ঢাকা শহরেই পাঁচ শতাধিক জলাশয় রয়েছে। যত্রতত্র ময়লা-আর্বজনা ফেলা, ডোবা ও লেকগুলো কচুরিপানায় পূর্ণ হয়ে থাকা, পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতলের কারণে স্যুয়ারেজের পানি ঠিকমতো নামতে না পারায় নদী-খালের পানি অতিমাত্রায় দূষণের শিকার হচ্ছে। এসব জলাশয় ও লেক পরিষ্কার করার কারও কোন উদ্যোগ নেই। এছাড়া ভাঙ্গাচোরা রাস্তা, উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ফলে সৃষ্ট গর্তে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকাও মশা বৃদ্ধির কারণ। এসব কারণে রাজধানীতে মশাবাহিত রোগের বিস্তারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অবস্থা এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, সন্ধ্যার পর রাজধানী যেন মশার দখলে। শুধু সন্ধ্যায় নয়, কোন কোন স্থানে দিনের বেলায়ও মশার উৎপাতে দৈনন্দিন কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবীদের কর্মক্ষেত্রেও এখন এক বিড়ম্বনার নাম মশার আগ্রাসী তৎপরতা। দুটি সিটি কর্পোরেশনে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ৬৩৮ কর্মী রয়েছে। ফগার মেশিন রয়েছে ৫০০টি। পাশাপাশি মশক নিধনে কোটি টাকার সরঞ্জামও কেনা হয়েছে। পর্যাপ্তসংখ্যক লোকবল ও ব্যাপক সরঞ্জামাদি এবং যথেষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ থাকার পরও মশা নিধন কার্যক্রমে কেন এই হাল- এই প্রশ্ন করা কি অযৌক্তিক? অপরিচ্ছন্ন ডোবা-নালাসহ মশা সৃষ্টির কারণগুলোর ব্যাপারে যথাযথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া কি সত্যিই কঠিন কাজ? আমরা মনে করি, যেসব কারণে মশার উপদ্রব তা থেকে মুক্তি দিতে ডিসিসিকে আরও তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও বৃদ্ধি করা দরকার। সামাজিক সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারাও নিজ উদ্যোগে মশা নিধনে ডিসিসিকে সহযোগিতা করতে পারে।