২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছক কষছেন শীর্ষ নেতারা ॥ থেমে নেই হিযবুত

রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে জঙ্গী সংগঠনগুলোকে এক মঞ্চে আনার মহাপরিকল্পনা

৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে ডিজিটাল কনফারেন্স ডাকের তথ্য ফাঁস

নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও গ্রেফতার তিন শতাধিক হিযবুত ্র তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগাতে চায়

গাফফার খান চৌধুরী ॥ নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও থেমে নেই জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের তৎপরতা। উপরন্তু বাংলাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের স্বপ্ন দেখছে। ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের পক্ষের মানুষজন ও জঙ্গী সংগঠনগুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশে ডিজিটাল ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করেছে। এমন মহাপরিকল্পনা এসেছে গাজীপুরের কাশিমপুরের হাইসিকিউরিটি জেলেবন্দী জঙ্গী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মাথা থেকে। আর পুরো প্রক্রিয়াটির নেপথ্যে কাজ করছে যুদ্ধাপরাধীদের গঠিত একটি ইসলামী দল ও বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের কারাবন্দী শীর্ষ নেতারা। সম্প্রতি গ্রেফতারকৃত হিযুবত তাহরীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে এবং অনুসন্ধানে মিলেছে এমন তথ্য। বাংলাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের পক্ষের সকল মানুষ ও সংগঠনকে একত্রিত করতে চায় নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর। ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের পক্ষে কি পরিমাণ মানুষ আগ্রহী, সে সম্পর্কে ধারণা পেতেই এমন আয়োজন করেছে সংগঠনটি। এটিকে সংগঠনের তরফ থেকে আগাম টেস্টকেস বলা হচ্ছে। আরব বসন্ত ও শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টির ধারণা থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে জঙ্গী সংগঠনটি।

এমন তথ্য মিলেছে গত ২৩ আগস্ট রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে গ্রেফতারকৃত দুই হিযবুত তাহরীর সদস্যের কাছ থেকেও। তাদের ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। দক্ষিণখান থানাধীন আইনুসবাগ শাহী মসজিদের সামনে থেকে ডিজিটাল ভিডিও কনফারেন্সের পক্ষে প্রচারপত্র বিলির সময় গ্রেফতার হয় আলতামাস আহম্মেদ বাবু (৩২) ও সৈয়দ জানে আলম রুবেল (৩০)। একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পালিয়ে যাওয়া ওই হিযুবত নেতা পেশায় একজন নামকরা চিকিৎসক। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই, রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী এবং বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র করার পক্ষের সেøাগান সংবলিত লিফলেট, সংগঠনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়।

গত সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উত্তর বিভাগের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম জানান, গ্রেফতারকৃতরা দক্ষিণখান থানা এলাকায় বসবাস করত। তারা লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ছাত্র-শিক্ষক, পেশাজীবী, চাকরিজীবী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্র ও সরকার সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে আসছিল। ক্ষমতাসীন সরকার উৎখাত বা ক্ষমতাচ্যুত করে খিলাফত রাষ্ট্র (ইসলামী রাষ্ট্র) গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছিল। এজন্য তারা উস্কানিমূলক প্রচার চালাচ্ছিল। মূলত বাংলাদেশকে খিলাফত রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে প্রচারপত্র বিলি করছিল গ্রেফতারকৃতরা।

প্রচারপত্রে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গী সংগঠনটির তরফ থেকে সারাদেশে ডিজিটাল ভিডিও কনফারেন্সের ডাক দেয়া হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের জন্য তারা একটি প্যানেল গঠন করেছে। ভিডিও কনফারেন্সে প্রশ্ন কর্তার প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়া হবে বলেও জানানো হয়।

ডিবির উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহফুজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, গ্রেফতারকৃতরা ব্যবসায়ী। ব্যবসা করে সংগঠনকে নিয়মিত চাঁদা দেয়ার পাশাপাশি নিজেরাও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছিল। লিফলেট বিতরণ, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, ভিডিও কনফারেন্সের বিষয়ে প্রচার চালানো থেকে শুরু করে নানা কাজে জড়িত গ্রেফতারকৃতরা। তারা প্রশিক্ষিত।

ডিবির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মিসরে আরব বসন্তের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের জন্ম হয়। দুটি ঘটনাই ঘটে আদর্শকে সামনে রেখে। এমন ঘটনার পর হিযবুত তাহরীর সারাদেশে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার কৌশল নেয়। আদর্শকে সামনে রেখে যদি গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হতে পারে, তাহলে ধর্মকে সামনে রেখে কেন বাংলাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের পক্ষে জনমত গড়া যাবে না? এমন ধারণা থেকেই কারাবন্দী হিযবুত তাহরীরের শীর্ষ নেতারা নতুন করে দলকে সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি হিযবুত তাহরীরের শীর্ষ নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম মাওলা ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ অন্য জঙ্গী নেতাদের সঙ্গে নানাভাবে আলোচনা করেন। এমনকি হিযবুত তাহরীরের কারাবন্দী ও কারামুক্ত নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। এরপরই শীর্ষ নেতারা হিযবুত তাহরীরের নেতাকর্মীদের কাছে এমন নির্দেশনা পাঠিয়ে দেয়। সেই নির্দেশনা মোতাবেক ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই কাজ করছে হিযবুত।

প্রসঙ্গত, এদিন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদ-ের পরিবর্তে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্টদের মাধ্যমে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ স্বল্প সময়ের মধ্যেই স্থায়ী রূপলাভ করে। যদিও এরজন্য অনেক আগ থেকেই অনলাইন এক্টিভিষ্টরা কাজ করছিলেন। গণজাগরণ মঞ্চের ধারণাকে পূঁজি করেই এগুতে থাকে হিযবুত তাহরীর।

তারাও গোপনে দেশের প্রতিটি বিভাগে কমিটি গঠন করে। বিভাগীয় পর্যায়ে শক্ত কমিটি রয়েছে হিযবুত তাহরীরের। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। বিশেষ প্রাধান্য পায় ঢাকার বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে হিযবুত তাহরীরের কলেজ পর্যায়ে কোন কমিটি গঠন করেনি। গঠন করার প্রয়োজনীয়তাও অনূভব করে না। ভবিষ্যতে তারা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারলেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে।

ইতোমধ্যেই জেলাগুলোতেও কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে জেলা সদরের বিষয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে থানা পর্যায়ে সংগঠনটির তেমন কোন তৎপরতা নেই। এমনকি কোন কমিটিও গঠিত হয়নি। তবে বিষয়টি আলোচনার মধ্যে রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে সারাদেশে সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে হিযবুত তাহরীর। মোটামুটি একটি সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করিয়েছে। সেই কাঠামোর উপর ভিত্তি করেই হিযবুত তাহরীর ডিজিটাল কনফারেন্সের ডাক দিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটির নেপথ্যে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের গঠিত বিশেষ ইসলামী দলটি। এছাড়া অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনের মধ্যে জেএমবির সঙ্গে খানিকটা যোগাযোগ রয়েছে সংগঠনটির।

হিযবুত তাহরীরের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আসছে স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী কতিপয় গোষ্ঠীর কাছ থেকে। এর সঙ্গে দেশী-বিদেশী কয়েকটি এনজিও জড়িত রয়েছে। তারা হিযবুত তাহরীরকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তাদের আর্থিক সহায়তায় জঙ্গী সংগঠনটি বাজারে একটি দৈনিক পত্রিকাও ছেড়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেছেন, গাজীপুরের কাশিমপুর কারগারে পুরো পরিকল্পনা হয়। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক হিযবুত তাহরীর সারাদেশে অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের ডাক দিয়েছে। এর মাস্টারমাইন্ড জঙ্গী সংগঠনটির শীর্ষ নেতা অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা। তিনি কারাগার থেকে নিয়মিত মোবাইল ফোনে কথাও বলেন। এছাড়া আদালতে যাতায়াতের সময় এবং কারাগারের মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় এসব বিষয় নিয়ে অন্যান্য জঙ্গী নেতাদের সঙ্গে তার কথা হয়। মোবাইল ফোনের কথাবার্তা ছাড়াও আদালতে আনা নেয়ার সময় অন্যদের সঙ্গে এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

তবে কারামহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার আহমেদ বলছেন, কারাবন্দী কারও মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ নেই।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহফুজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, রিমান্ডে থাকা দুই জনকে কঠিন জেরার মুখে রাখা হয়েছে। জঙ্গী সংগঠনটির তরফ থেকে ঝিমিয়ে পড়া ইউনিটগুলোকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চাঙ্গা করার কৌশল নিতে পারে। তবে সাংগঠনিকভাবে তারা তেমন শক্ত অবস্থানে নেই। বাংলাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের পক্ষের লোকের সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পেতেও এমন তৎপরতা চালাতে পারে। এটিকে সংগঠনের তরফ থেকে ডিজিটাল ডিভিও কনফারেন্স নাম দেয়া হয়েছে। বিষয়টিকে জঙ্গী সংগঠনটির তরফ থেকে টেস্টকেস হিসেবে দেখা হতে পারে। এটিতে মাঠ পর্যায়ের জরিপও বলা চলে। তবে হিযবুত আগের অবস্থানে নেই। গত প্রায় দুই বছরে শুধু ডিবির হাতেই সংগঠনটির খুবই সক্রিয় প্রায় ১০০ নেতা গ্রেফতার হয়েছে। যদিও তাদের অধিকাংশই এখন জামিনে। জামিনের পর তারা লাপাত্তা হয়ে গেছে। তাদের অনেকেই আর আগের ঠিকানায় বসবাস করছে না। স্থায়ী ঠিকানায় যাতায়াত করে না। ফলে তাদের হদিস মিলছে না। বেনামে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে অনেকেই জঙ্গীবাদে জড়িত থাকার পরেও গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোবাইল ফোনের সিমকার্ড জঙ্গীদের গ্রেফতারের বড় বাঁধা বলে তিনি মনে করেন।

র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পরিচালক উইং কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জনকণ্ঠকে জানান, র‌্যাবের হাতে এখন পর্যন্ত ২৪৩ জন হিযবুত তাহরীর সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। এদের মধ্যে কতজন কারাগারে বা জেলের বাইরে রয়েছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনটির উপর তাদের নজরদারি অব্যাহত আছে। কারাগার থেকে জঙ্গীদের মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলা এবং আদালতে যাতায়াতের সময় তাদের অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার দিকেও তাদের নজরদারি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৩ সালে পূর্ব জেরুজালেমের সাবেক বিচারক তাকিউদ্দিন আল-নাবানী হিযবুত তাহরীর নামের সংগঠনটি সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসীদের সহযোগী জেরুজালেমের প্রধান মুফতি শেখ হাজী আমিন আল হোসাইনীর উগ্র মতবাদ দ্বারা সংগঠনটি প্রভাবিত হয়। এরপরই সংগঠনটি সারাবিশ্বে ইসলামী শাসন কায়েমের লক্ষ্যে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেয়। ২০০২ সালে ডেনমার্কে ইহুদী দেখামাত্র হত্যার ঘোষণা, ২০০৩ সালে তেলআবিবে এক মদের দোকানে বোমা হামলা চালিয়ে ৩ জনকে হত্যা, ২০০৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের মার্কিন ও ইসরাইলী দূতাবাসে আত্মঘাতী বোমা হামলা, ২০০৪ সালে তাজিকিস্তানের তাসখন্দ এলাকায় বোমা হামলা করে ৪৭ জনকে হত্যা ছাড়াও আল কায়েদা ও তালেবানদের বৈশ্বিক জিহাদের জন্য কর্মী সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে।

২০০২ সালে বিগত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম মাওলা হিযবুত তাহরীর নামের সংগঠনটির গোড়াপত্তন করেন। বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত একটি এনজিওর উত্তরা কার্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদকে প্রধান সমন্বয়কারী ও মুখপাত্র, কাজী মোরশেদুল হককে যুগ্ম সমন্বয়কারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম মাওলাকে সিনিয়র উপদেষ্টা, বেসরকারী নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শেখ তৌফিককে রাজনৈতিক উপদেষ্টা, প্রিন্সিপাল মাওলানা মামুনুর রশীদকে গণসংযোগ সচিব, অধ্যাপক মুস্তফা মিনহাজকে মিডিয়া ও প্রচার সচিব ও সাখাওয়াত হোসেন, মামুনুর রশীদ আনসারী, আহাম্মদ জামান, ডা. সাঈদ, মনির হোসেন, ডা. গোলাম মোস্তফা ও শাহজালাল মিয়াকে কার্যকরী সদস্য করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। কমিটি গঠনের পরেই হিযবুত তাহরীরকে প্রথম স্থায়ীভাবে অফিস করার জায়গা দেয় ছাত্রশিবির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁটাবন ঢালে ছাত্রশিবিরের নিজস্ব ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খায়রুন্নেছা ভবনে হিযবুত তাহরীরকে অফিস খোলার জায়গা দেয় শিবির। এরপর সংগঠনটি পুরানা পল্টনের ৫৫ নম্বর সিদ্দিক ম্যানশনে কেন্দ্রীয় স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে।

২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক গোল টেবিল বৈঠকে বাংলাদেশে দলটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেয়া হয়। একমাস পর মার্চ মাস থেকেই হিযবুত তাহরীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। সংগঠনটি দেশী-বিদেশী নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে ওই সময় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তরফ থেকে সরকারকে জানানো হয়। কিন্তু সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ ২০০৮ সালে পাকিস্তানে হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৪ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে হিযবুত তাহরীরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

নিষিদ্ধ ঘোষণার পর সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। যার অধিকাংশই জামিনে মুক্ত। উদ্ধার হয় জঙ্গী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ভিডিও চিত্র, সরঞ্জাম, রাষ্ট্র সরকারবিরোধী লিফলেট। আর নিষিদ্ধ হওয়ার পর তাদের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে দেখা যায়, জব্দ হওয়ার আগেই সংগঠনটি ব্যাংক এ্যাকাউন্টের অধিকাংশ টাকা তুলে নিয়েছে।