২৫ আগস্ট ২০১৫

প্রস্তাবিত সীমান্ত সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মিয়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তাবিত সীমান্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। এদিকে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র দ্বিতীয় ইউনিটের ভূমি উন্নয়ন কাজে। ৪৬২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র প্রকল্প এলাকার দ্বিতীয় ব্লকের ভূমি উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও বাউন্ডারি নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক বৈঠকে।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার মোট পাঁচটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এ সব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। প্রকল্প ব্যয়ের ৩ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা আসবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১৮ কোটি টাকা। প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশী উৎস থেকে ২ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, মিয়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তাবিত সীমান্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পটির আওতায় বাংলাদেশ সীমান্তের ঘুমধুম থেকে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত দুই কিলোমিটার মৈত্রী সড়ক নির্মাণ করা হবে। বৈঠকে সড়কটি দুই লেনে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এই সড়ককে চার লেনে নির্মাণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে বাংলাদেশের অর্থায়নে ৪৫ মিটারের একটি ব্রিজও তৈরি করা হবে। এই ব্রিজও চার লেনে নির্মাণের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভা জানায়, দু’দেশের সীমান্তে দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের ফলে মিয়ানমার, চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এর ফলে বাণিজ্যিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজতৈকি সম্পর্ক শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক নির্মাণ করবে সরকার। সড়কটি এ অঞ্চলের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি সাধনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সুসম্পর্ক জোরদার করবে। শুরুতে প্রকল্পব্যয় ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হলেও এতে ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার ঘন মিটার ভূমি উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া ১৪ হাজার মিটার সীমানা প্রাচীরসহ যানবাহন ভাড়া নেয়া হবে। বিআইডব্লিওটিএ ঘাসিয়াখালি চ্যানেল ড্রেজিং থেকে বালি পরিবহন করে প্রকল্প এলাকা ভরাট করবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ৪৯২ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে অস্বাভাবিক ব্যয়ের কারণে একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প অনুমোদনে অনীহা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকল্পটির ব্যয় ৩০ কোটি টাকায় কমিয়ে আনেন। বৈঠকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় সমন্বিত পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় অনুমোদন পেয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পটিতে ৪০৪ কোটি টাকা সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ৩ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগরীর গুলশান, বনানী, বরিধারা, বসুন্ধরা, মহাখালী, ডিওএইচএস, তেজগাঁও, মগবাজার, ইস্কাটন, ধানম-ি, কলাবাগান, বাড্ডা ও হাতিরঝিল এলাকায় উন্নতমানের পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা। বেগুনবাড়ি খালসহ হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের চতুর্থ সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নতুন সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।