২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কার্ফু অমান্য করে নেপালের রাজপথে বিক্ষোভ ॥ পুলিশের ওপর হামলা

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ নেপালে মঙ্গলবারও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অনির্দিষ্টকালের কার্ফু অমান্য করে শত শত বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে আসে। এ সময় রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ৪২০ কিলোমিটার পশ্চিমের টিকাপুর শহরে বিক্ষোভকারীরা বহু ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। বল্লম, দা, ছুড়ি ও কুড়াল দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সাত পুলিশ ও ১৮ মাস বয়সী এক শিশু নিহতের পর সোমবার থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। নেপালে প্রস্তাবিত নতুন সংবিধানের বিরুদ্ধে পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম কাইলালি জেলায় এই বিক্ষোভের সূচনা। বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর শত শত সদস্যকে টহল দিতে দেখা গেছে। সোমবারের ঘটনার পর সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে ওই এলাকায় কয়েকশ সেনা পাঠায়। খবর এএফপি, বিবিসি ও এনডিটিভি অনলাইনের। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কয়েকশ বিক্ষোভকারী বল্লম, কুড়াল, দা ও ছুড়ি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। বিকেল চারটা থেকে ওই এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করা হয়।

এ বিষয়ে টিকাপুর পুলিশ প্রধান ধন বাহাদুর কাথাইয়াত বলেন, বিক্ষোভরত কয়েকটি গ্রুপ কার্ফু অমান্য করে রাস্তায় নামে। এ সময় ছোটখাটো কিছু বিক্ষোভও হয়েছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা অনেক ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে। পরে আমাদের পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। নিহত শিশুর বাবা নেত্র বাহাদুর সৌদ বলেন, বিক্ষোভ চলার সময় তিনি বারান্দায় বসে থাকার সময় গুলি লেগে তার ১৮ মাস বয়সী শিশু নিহত হয়। সৌদ বলেন, ‘আমার সামনে আমার ছেলে খেলা করছিল। আমি গুলির শব্দ শোনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমার ছেলেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যেতে দেখি। আমি তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সে ইতোমধ্যে মারা যায়।’ তিনি আরও বলেন, আমি গুলির টার্গেটে ছিলাম। কিন্তু আমার ছেলের কি অপরাধ ছিল। তাকে কেন হত্যা করা হলো।

উল্লেখ্য, সাতটি প্রদেশ গঠন করে নেপালকে ফেডারেল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে গত রবিবার দেশটির পার্লামেন্টে নতুন জাতীয় সংবিধান উপস্থাপন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা বলছে, নতুন সংবিধানে অভ্যন্তরীণ নতুন সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে। সংখ্যালঘু থারু আদিবাসীরা নিজেদের পৃথক প্রদেশের দাবিতে বিক্ষোভের সময় সোমবারের সহিংসতার ঘটনাটি ঘটে। আলাদা প্রদেশের দাবিতে বিক্ষোভরত থারু সম্প্রদায়ের সদস্য আইনপ্রণেতা গঙ্গা চৌধুরী বলেন, ‘অবিভক্ত থারু প্রদেশের দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি কানে তুলছে না। সহিংসতার ঘটনাটি দুঃখজনক। সরকার আমাদের দাবি আমলে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসবে।’ এদিকে নেপালের সাবেক মাওবাদী প্রধানমন্ত্রী বাবুরাম ভট্টরাইও সেনা মোতায়েন ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, চলমান সমস্যার সমাধানে আমাদের রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা উচিত। সামরিক শক্তি খাঁটিয়ে আমাদের সমস্যা সমাধানের উপায় খোঁজা ঠিক নয়। ওদিকে নেপালের চলমান নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সকল পক্ষকে ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেন মোদি।