২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে এবার বাম সংগঠনগুলোকে দুষলেন হানিফ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেখ ফজলুল করিম সেলিমের পর এবার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জাসদসহ বাম সংগঠনগুলোকে দুষলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তাঁর অভিযোগ, বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।

মঙ্গলবার রাজধানীর আজিমপুরের গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি বলেন, জাসদ ও ন্যাপসহ যারা বাম রাজনীতি করতেন, বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরে তারা বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন। কেন করেছিলেন, তারাই তা ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তাদের ঔদ্ধত্য এমন পর্যায়ে ছিল যে, একটা সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য যা যা করণীয় তারা তাই করেছিলেন।

হানিফ বলেন, আজকে আমাদের নেতা শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে সুর মেলানোর যে অভিযোগ করা হচ্ছেÑ এটার কোন যৌক্তিকতা নেই। যে যেখান থেকে দেখুক না কেন, ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য হাটবাজার লুটপাট, ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতি, সাধারণ মানুষকে হত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা এমনকি ঈদের নামাজের জামায়াত শেষে আওয়ামী লীগের এমপিদের হত্যা পর্যন্ত করে তারা (জাসদ)।

তিনি বলেন, এ সমস্ত বর্বরোচিত কর্মকা-ের লক্ষ্য ছিল একটাই বঙ্গবন্ধুর সরকারকে অস্থিতিশীল করা। সেই কারণেই কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পেরেছিল। আজকে ওই বাম সংগঠনের অনেক নেতা ইতোমধ্যে তা স্বীকারও করেছেন। তাদের অনেকে বলেছেন, ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় যা করেছিল তারা তা ভুল করেছিল। কিন্তু সেই ভুলের মাসুল জাতিকে দিতে হয়েছে চড়া দামে।

দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, ষড়যন্ত্র এখনও হচ্ছে। পাকিস্তানের নেতৃত্বে তাদের প্রিয় দল জামায়াত এ ষড়যন্ত্র করছে। খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি এ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। গত তিন-চার বছর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য নানা ঘটনা ঘটানো হয়েছে। গত কয়েক দিন আগে বিএনপির এক নেতার মেয়ে ফারাজানা জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগ আটক হয়েছে। এই ফারাজানারা একজন নয়। বিএনপি-জামায়াতের সংগঠনের নেতৃত্বে এ ধরনের অসংখ্য গ্রুপ আছে, যাদের খুঁজলে দেখা যাবে জঙ্গীবাদে মদদ দিচ্ছে, সহায়তা করছে, পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফারজানা আখতারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী এমপি, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুন নাহার বেগম, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ।

জঙ্গী ও মৌলবাদ সমাজের দুষ্ট ব্যাধি- নৌমন্ত্রী ॥ নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ আমাদের সমাজের দুষ্ট ব্যাধি। এগুলোকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। আর খালেদা জিয়ারা যতই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করুক না কেন, কোন লাভ হবে না। এদেশের মানুষ অতীতে যেমন বেগম জিয়ার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত নস্যাত করেছে, ঠিক তেমনি ভবিষ্যতেও তা নস্যাত করে দেবে।

সোমবার মতিঝিলের বিসিসিআই ভবন মিলনায়তনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত দোয়া মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ওরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তারা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করতে চেয়েছিল। জিয়াউর রহমান হত্যাকারীদের সঙ্গে আপোস করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ২০ দলের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চান। শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের একটি কর্মী বেঁচে থাকতে তা হতে দেবে না। বিসিআইসি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি শেখ নুরুজ্জামান হাজীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার এমপি, সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব আবদুল মালেক, বিদ্যুত শ্রমিক ইউনিয়নের সিবিএ সভাপতি আলাউদ্দিন মিয়া, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, মোহাম্মদ মহসিন প্রমুখ।