১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শাখা-প্রশাখার ঠাসবুনন মঞ্জরিবদ্ধ সাদা সুগন্ধী ফুল

শাখা-প্রশাখার ঠাসবুনন মঞ্জরিবদ্ধ সাদা সুগন্ধী ফুল
  • কোমল কুসুম কামিনী

মোরসালিন মিজান ॥ কামিনী সত্যি সুন্দর ফুল। এইটুকুন ফুলের সে কী ঘ্রাণ! সবুজ পাপড়ির মাঝে শুভ্র সাদা ফুলটি চোখ মেলে থাকে। দেখে মন ভরে যায়। কাছে গিয়ে ঘ্রাণ নিতে ইচ্ছে করে। রবীন্দ্রনাথ অবশ্য একটু দূরে থাকার পক্ষে। কবিগুরুর বলাটি এরকম- জান ত কামিনী সতী কোমল কুসুম অতি/ দূর হ’তে দেখিবারে, ছুঁইবারে নহে সে-/ দূর হ’তে মৃদু বায়, গন্ধ তার দিয়ে যায়...। আরও অনেকে লিখেছেন কামিনীর কথা। গল্প উপন্যাসে বার বার এসেছে। বছরে একাধিকবার এ ফুল ফোটে। তবে এখন বলা চলে মৌসুম। বর্ষায় ফুল ফোটার শুরু। এখন শরত। ফুল ফোটা অব্যাহত আছে। শখের বাগান, বাড়ির ছাদ বা বারান্দায় দেখা যাচ্ছে কামিনী। বৃষ্টির জলে ধোয়া শ্বেতশুভ্র কামিনী দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না।

কামিনীর বৈজ্ঞানিক নাম ম্যুরায়া প্যানিকুলাটা। আদি নিবাস বাংলা-ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, মালয়, চীন ও অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশে বহুকাল ধরে আছে। গুল্ম জাতীয় গাছ; উপরের দিকে তেমন বাড়ে না। লম্বায় ৩ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেখতে ঝোঁপের মতো অনেকটা। ঘন সবুজ পাতার ফাঁকে সাদা সুন্দর ফুল যেন হাসি হয়ে ফোটে।

উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মা জানান, কামিনী চিরসবুজ ক্ষুদ্র বৃক্ষ। এর অসংখ্য শাখা-প্রশাখা। ঠাসবুনন। এটি লেবু গোত্রীয়। গোষ্ঠীবৈশিষ্ট্যে পাতাও ফুলের অংশ বিশেষ। ফুলের পাঁচ থেকে সাতটি পত্রিকা। মাঝে হলুদ দেখতে একটি পরাগকেশর। ফুলগুলো সবুজ পাতার মাঝে মঞ্জরিবদ্ধ হয়ে ফোটে থাকে। মিষ্টি ঘ্রাণ বিশেষ করে রাতে অনেকদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিষন্ন মনও তখন ভাল হয়ে যায়।

অবশ্য শুধু ফুল নয়, কামিনীর পাতার সৌন্দর্যও উল্লেখ করার মতো। ছোট ছোট পাতা। ঘন বিন্যস্ত। সবুজ এই পাতা বিয়ের গাড়ি, বাসরঘর সাজাতে ব্যবহার করে দোকানীরা। অন্য ফুলের তোড়া সাজাতেও কামিনীর পাতা ব্যবহার করা হয়। কামিনী থেকে কলম করে কেটে-ছেঁটে নানা আকৃতি তৈরি করা যায়। একই কারণে এ গাছে ভাল বনসাই হয়।

কামিনীর গোল দেখতে ফল হয়। রক্তিম ফল পাখির, বিশেষ করে বুলবুলির প্রিয় খাদ্য। ওষুধি গুণও আছে। গাছটি থেকে তৈরি ওষুধ শরীরের জ্বর সারাতে ব্যবহার করা হয়। ব্যথানাশক হিসেবেও কাজ করে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কামিনীর রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে কওমারিন্স ও এ্যালকানয়েডস। রয়েছে কারবোবেঞ্জল ও ক্যারটিনয়েডস। এর মূল, বীজ ও ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। গাছটির বিভিন্ন অংশ থেকে সংগ্রহ করা লিপিড, কওমারিন্স ও তেল জাতীয় পদার্থ বায়োলজি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়।

সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকাতেও বেশ দেখা যায় কামিনী। বিভিন্ন বাসার বেলকনির দিকে সচেতনভাবে তাকালে সাদা ফুলটি চোখে পড়ে। ছাদেও হয়। ছোটখাটো এসব জায়গায় নিজেকে সুন্দর মেলে ধরে কামিনী। আপনি অসুন্দর অনেক দেখেন। এই সুন্দরটুকু দেখেছেন কি?