১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাতারবাড়ি বিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার আশঙ্কা

  • ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কাজ এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি

রশিদ মামুন ॥ মাতারবাড়ি বিদ্যুত প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজ শুরু করতে না পারায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কাজের জন্য কোন বেসরকারী সংস্থা (এনজিও) এবং সামাজিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে (সোস্যাল কনসাল্টাটিং ফার্ম) এখনও নিয়োগ করতে না পারায় এই জটিলতা দেখা দিয়েছে। একটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলামের সাম্প্রতিক চিঠি থেকে স্থানীয় জনগণের অসন্তোষের কথা জানা গেছে।

সরকারী কোম্পানির দেশের সব থেকে বড় প্রকল্প মাতারবাড়ি-এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত প্রকল্প। কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে বিদ্যুত প্রকল্পটি নির্মাণ করছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে স্থানীয় জেলা প্রশাসন মাতারবাড়িতে এক হাজার ৪১৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত দুই হাজার ৩৪ জনের পুনর্বাসন শুরু করা হয়নি। এতে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুত সচিব তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন এতে করে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুনর্বাসন কাজে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হবে। যাতে দাতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সঙ্গে এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি করবে। যা চুক্তি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলবে। এতে করে সার্বিকভাবে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানানো হয়।

সূত্র মতে কোল পাওয়ার কোম্পানির পক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করবে এনজিও এবং সোস্যাল কনসাল্টাটিং ফার্ম। এ জন্য কোল পাওয়ার কোম্পানি আগ্রহপত্র চাইলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান জমা দেয়। প্রায় ১০০ কোটি টাকার এই পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হয়। বিদ্যুত বিভাগ গত ২ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ওই চিঠিটি লেখে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কোন সহায়তা না পাওয়ায় গত ১৬ জুলাই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের কাছে একই বিষয়ে চিঠি লেখা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থা আগ্রহী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্যুত বিভাগকে কোন কিছু অবহিত করেনি।

সূত্র জানায়, জাইকার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি (এমওডি) অনুযায়ী সরকার সরাসরি এসব ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে এনজিও অথবা সোস্যাল কনসাল্টাটিং ফার্ম দিয়ে কাজটি করাতে হবে। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারা রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কি না তা জানা প্রয়োজন। আর তথ্য না পাওয়ায় এদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। কিন্তু দুইবার চিঠি দিয়েও কোন প্রতিবেদন না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্বাসন কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এজন্য গত ১৬ জুলাই আবারও সংস্থা প্রধানের কাছে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দিয়ে তাগাদা দিলেন বিদ্যুত সচিব।

জানতে চাইলে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা আগামী ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে কিছু কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর আগেই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কাজ শুরু জরুরী। তিনি জানান, ইতোমধ্যে এক হাজার ৪১৫ একর জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। এতে জাইকার হিসেবে দুই হাজার ৩৪ জন বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত বলে দেখা গেছে। যাদের জমি প্রকল্প এলাকায় রয়েছে। তিনি জানান, অন্যসব প্রক্রিয়া শেষ করে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, জাইকার সঙ্গে সকল চুক্তির আগেই তারা পুনর্বাসনের ইস্যুটি সঠিকভাবে করা হয়েছে কি না তা জানতে চাইবে। এসব বিষয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন উঠলে তা প্রকল্পটিকে অনিশ্চিত করে তুলবে। এর আগে প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছে বিদ্যুত বিভাগ।

দেশের গ্রহণ করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে মাতারবাড়িই সব থেকে বড় সরকারী প্রকল্প। বিদ্যুত প্রকল্পটি আমদানি করা কয়লাতে চলবে। একই সঙ্গে জাইকা কয়লা আমদানীর জন্য বন্দর এবং মহেশখালীকে আধুনিক নগরায়ন করবে।

জাইকার অর্থায়নে নির্মিতব্য বিদ্যুত কেন্দ্রটি ২০২২ সালে উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময়ের আরও আগে কেন্দ্রটি চালুর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ অবস্থায় বিদ্যুত বিভাগ চাইছে ২০২০ সালের মধ্যে কেন্দ্রটি চালু করতে। কেন্দ্রটি চালুর সময় এগিয়ে আনার জন্য জাইকার সঙ্গে সরকার ইতোমধ্যে আলোচনাও শুরু করেছে বলে জানা গেছে।