২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন আইনজীবীকে আজ আবার আদালতে হাজির করা হবে

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ জঙ্গী অর্থায়নে গ্রেফতার হওয়া সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীকে হাটহাজারী থানার সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখিয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব। এর আগে গত ১৮ আগস্ট ঢাকার ধানম-ি থেকে গ্রেফতার হওয়া ওই তিন আইনজীবীর বাঁশখালী থানার অস্ত্র ও জঙ্গী প্রশিক্ষণ বিষয়ক মামলায় চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৬৪ ধারার জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। বাঁশখালী আদালতে জঙ্গী অর্থায়নের তথ্য পাওয়ার উপর নির্ভর করে র‌্যাব হাটহাজারী থানার ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার পুনরায় সর্বোচ্চ পৃথকভাবে ৪৮ ও ৭২ ঘণ্টার রিমান্ডে নিয়েছে। আজ বুধবার আবার চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হবে এ তিন আইনজীবীকে। র‌্যাবের একটি সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারী থানা মামলার উপরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে অবশিষ্ট সম্পৃক্তদের বিষয়ে সন্ধান চালাবে র‌্যাব। শাকিলার পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী কে এই ওসমান তা এখনও উদ্ঘাটিত হয়নি।

র‌্যাব সেভেন সূত্রে জানা গেছে, শহীদ হামজা ব্রিগেড নেতা মনিরুজ্জামান ডনের এ্যাকাউন্টে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীর পক্ষ থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রদানের তথ্যে শতভাগ নিশ্চিত র‌্যাব। কারণ, তিনটি ব্যাংকের জমা স্লিপে এই তিন আইনজীবীর অর্থের উৎস, জমাদানকারীর সঙ্গে সম্পর্ক, জমাদানের তারিখ ও স্বাক্ষর এমনকি মোবাইল নাম্বারও উল্লেখ রয়েছে। ফলে অর্থ জমাদানের বিষয়ে সরে আসতে পারছে না এই তিন অভিযুক্ত।

অভিযোগ রয়েছে, জঙ্গী অর্থায়নে শুধু শহীদ হামজা ব্রিগেডের এ্যাকাউন্টেই নয়, হিযবুত তাহরির, জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে অনুদানকারীদের অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে সরকারের পক্ষ থেকে জোর তৎপরতা চালানোর পর ক্রমশ মুখোশধারী ওইসব ব্যাংক গ্রাহকদের চিত্র উঠে আসছে। বিভিন্ন পেশায় কর্মরত থেকে জঙ্গী অর্থায়নে কাজ করছে মুখোশধারী শ্রেণী পেশার লোকজন।

গত সোমবার চট্টগ্রামের আদালতের হাটহাজারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাকে হাটহাজারীর সন্ত্রাস দমন আইনের একটি মামলায় ৪৮ ঘণ্টা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন। শাকিলার অপর দুই সহকারীকেও ৭২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন আদালত। আজ বুধবার সকালে আবারও তাদের একই আদালতে হাজির করা হবে। কিন্তু সোমবার হাটহাজারী মামলার শুনানি শেষে শাকিলাকে নিয়ে যাওয়া হয় কোর্ট হাজতে। সেখানে কোর্ট হাজতের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা সেলিমের মাধ্যমে শাকিলার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা প্রায় আধঘণ্টা দেখা সাক্ষাত করেছেন। এ সময় শাকিলার মা ফরিদা ওয়াহিদ, ভগ্নিপতি ব্যারিস্টার রিয়াদ, শাকিলার বড় বোনসহ কমপক্ষে অর্ধশত নারী-পুরুষ দেখা করেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন শাকিলার বোনের ও ভগ্নিপতির সহকর্মী এ্যাডভোকেট। কিন্তু আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সেলিম কোনক্রমেই মিডিয়ার লোককে প্রবেশ করতে দেননি।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাকিলার ভগ্নিপতি ব্যারিস্টার রিয়াদসহ কয়েক আইনজীবী চট্টগ্রাম নতুন আদালত ভবনের সামনে মিডিয়ার মুখেমুখি হন। এ সময় ব্যারিস্টার রিয়াদ বলেন, এ মামলায় র‌্যাবের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। কিন্তু শাকিলার বোন বলেন, সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে শাকিলাকে জড়ানো হয়েছে। র‌্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিন আদালতে বলেছেন, শাকিলার বিরুদ্ধে র‌্যাবের কোন অভিযোগ নেই। তবে জঙ্গী অর্থায়নের সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে শাকিলাকে আবারও রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই রিমান্ডে নিচ্ছে র‌্যাব। শাকিলা জঙ্গীতে সহায়তাকারী হিসেবে নয়, মামলা পরিচালনার জন্য অর্থ নিয়েছে। সেই অর্থই ফেরত দিয়েছে। মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মামলা পরিচালনার জন্য নিয়েছিল। এরমধ্যে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে। যার তথ্য র‌্যাবের কাছে রয়েছে। বাকি ১২ লাখ টাকা বিভিন্ন খাতে খরচ হয়েছে। ফলে তা আর ফেরত দেয়া হয়নি। হেফাজতে ইসলামের তিন শ’ মামলার জামিন নিতে এ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে জানান ব্যারিস্টার রিয়াদ। তবে জামিন করাতে না পারায় এ অর্থ ফেরত দেয়া হয়েছে। হামজা ব্রিগেডের কোন মামলা শাকিলা পরিচালনা করছে না। তবে হেফাজতের মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। এরই সূত্র ধরে তিনি আরও বলেন, মুফতি ইজাহারের ছেলে মুফতি হারুন ইজাহারের মামলার ওকালতনামায় শাকিলা স্বাক্ষর করেছেন। ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর শাকিলা মুফতি হারুনের জামিন মঞ্জুর করান। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে শাকিলা, যা আদালতে প্রমাণ হয়েছে। যাদের কাছ থেকে শাকিলা টাকা নিয়েছেন শুধুমাত্র তাদের ধরার জন্যই পুনরায় রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে শাকিলা কিছুতেই অর্থায়নের বিষয়টি স্বীকার করেনি। কিন্তু মিডিয়াতে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

ওসমান আমিন নামের একজন শাকিলাকে এ অর্থ প্রদান করেছেন। ওই ওসমান আমিনই সানজিদা এন্টারপ্রাইজের এ্যাকাউন্টে ওই অর্থ জমা দিতে শাকিলা ফারজানাকে বলেছেন। সে অনুযায়ী শাকিলা ওই এ্যাকাউন্টে অর্থ জমাদান করেছে।