২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিনজনকে অভিযুক্ত করে শিশু রাকিব হত্যা মামলার চার্জশীট দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ পৈশাচিকভাবে শিশু রাকিব হাওলাদার (১২) হত্যা মামলার চার্জশীট খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম এম এল বি মেজবাহ উদ্দিনের আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খুলনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী মোস্তাক আহমেদ মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি শরীফ, মিন্টু ও বিউটি বেগমকে অভিযুক্ত করে এ চার্জশীট দাখিল করেন। এর আগে চার্জশীট দাখিলসহ চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর দফতরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, চার্জশীটে এজাহারভুক্ত তিন আসামি মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক ওমর শরীফ, তার কথিত চাচা মিন্টু খান ও শরীফের মা বিউটি বেগমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া চার্জশীটে মোট ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের মধ্যে ৩ জন আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দী দিয়েছেন। বর্তমানে আসামিরা খুলনা কারাগারে রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, চার্জশীটভুক্ত আসামি ওমর শরীফ, মিন্টু খান ও বিউটি বেগম রাকিব হত্যা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। ফলে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে চার্জশীট দাখিলসহ চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিষয়ে অবহিত করতে বেলা ১১টায় কেএমপি সদর দফতরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি। তিনি বলেন, রাকিব হত্যাটি পরিকল্পিত। এটি পশুত্বমূলক ও মানব সমাজের নিকৃষ্টতম ঘটনা। মামলাটির সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে অন্য মামলায় সাক্ষ্য দেয়া, রাজনৈতিক ডিউটি এমনকি তার ছুটিও বন্ধ রাখা হয়েছে। তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে মামলাটি মনিটরিং করা হয়। তিনি নিজেও প্রতিদিন মামলাটির তদন্তের অগ্রগতিসহ অন্যান্য বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। যে কারণে ঘটনার মাত্র ২২ দিনের মাথায় চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির চার্জশীট দাখিল করা সম্ভব হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে চার্জশীটে থাকা সাক্ষীদের নাম পরিচয় প্রকাশ না করতে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের অনুরোধ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শিশু রাকিবের হত্যাকারীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে। এতে রাকিবের বাবা-মায়ের আত্মা শান্তি পাবে।

ব্রিফিংকালে নিহত শিশু রাকিবের বাবা নূরুল আলম, মা লাকি বেগম এবং ছোট বোন রিমি উপস্থিত ছিলেন। কেএমপির পক্ষ থেকে সাহায্য হিসেবে তাদের হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। প্রেস ব্রিফিং শেষে রাকিবের বাবা নূরুল আলম ও মা লাকি বেগম সাংবাদিকদের বলেন, দ্রুততার সঙ্গে মামলার চার্জশীট দেয়ায় তারা সন্তুষ্ট। এখন তারা মামলার দ্রুত বিচার চান। তাদের ছেলেকে নির্মমভাবে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি হোক এটাই তারা আশা করেন।

উল্লেখ্য, এক কর্মস্থল ছেড়ে অন্যস্থানে যোগ দেয়ায় শিশু রাকিবকে গত ৩ আগস্ট মোটরসাইকেলে হাওয়া দেয়া কম্প্রেসার মেশিনের পাইপের মুখ মলদ্বারে ঢুকিয়ে পেটে হাওয়া দেয়ায় তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এই অভিযোগে ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা নগরীর টুটপাড়া কবরখানা এলাকার মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মটর্সের মালিক শরীফ, শরীফের মা বিউটি বেগম ও সহযোগী মিন্টু মিয়াকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনার পরের দিন রাকিবের বাবা নুরুল আলম হাওলাদার বাদী হয়ে শরীফ, মিন্টু ও বিউটি বেগমকে আসামি করে খুলনা থানায় মামলা দায়ের করেন।