২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘শিরোপা জিততে পারলে খুশি হব’

‘শিরোপা জিততে পারলে খুশি হব’
  • অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ যুবদলের উপদেষ্টা স্টুয়ার্ট ল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ একবার বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব নিয়েই প্রথমবারের মতো ২০১২ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে ফাইনালে ওঠান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান স্টুয়ার্ট ল। এরপর নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের সহকারী কোচ পদে সুযোগ পেয়েই বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। আবার স্টুয়ার্ট ল বাংলাদেশে এসেছেন। এবার জাতীয় দল নয়, বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ দলের উপদেষ্টা হয়ে এসেছেন। তার কাজ হচ্ছে, আগামী বছরের শুরুতেই যে বাংলাদেশে বসতে যাচ্ছে অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের আসর, সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ দলকেও যেন আকাশচুম্বি কোন সাফল্য এনে দেন। মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসে স্টুয়ার্ট ল’ও সেই রকম আশাই প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘শিরোপা জিততে পারলে খুশি হব।’

অবশ্য স্টুয়ার্ট ল শিরোপা জেতার ফর্মুলার কথা বলতে গিয়ে একটু বাস্তবেই থেকেছেন। বলেছেন, ‘যে কোন দলকে চ্যাম্পিয়ন করাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। আর এটা একজনের ওপর নির্ভরও করে না। এমন নয় যে একজন এসে কিছু করল আর বলে দিল আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাব। ক্রিকেটাররা যদি পরিশ্রম করে যেতে থাকে, কোচরা তাদের পরিচর্যা করতে থাকে, খুব বেশি বদলানোর চেষ্টা না করে, তাহলেই হবে। ক্রিকেট খুবই বেসিক একটা খেলা। একটা দলকে চ্যাম্পিয়ন করার কোন জাদুকরী ফর্মূলা নেই। সত্যিকারের কঠোর পরিশ্রম আর নির্দিষ্ট দিনে ভাল পারফর্মেন্সের ওপর নির্ভর করে। আমি এই দলটাতে সেটাই আনার চেষ্টা করব। জয়ের নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। চেষ্টা করা যায়, নির্দিষ্ট দিনে মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দেয়া যায়। সেটা করতে পারলে বিফল দিনের চেয়ে সফল দিনই বেশি আসবে।’

দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ হওয়াতে এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশ যুব দলই। এমনই মনে করছেন স্টুয়ার্ট ল, ‘নিজের দেশে বিশ্বকাপ খেলতে পারা বাংলাদেশের ছেলেদের জন্য হতে যাচ্ছে বড় একটা বাড়তি সুবিধা। যে দলগুলো সাধারণ যুব বিশ্বকাপে ভাল করে, অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা, তাদের জন্য এটি অচেনা জায়গা। ভারতের জন্য হয়ত অতটা নয়, কিন্তু অন্যদের জন্য এটা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু ক্রিকেটেরই পরীক্ষা নয়, ক্যারেকটারেরও পরীক্ষা। বাংলাদেশের ছেলেদের শুধু উদ্দীপনা, এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে হবে যে আমরা জিততে পারি।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের জাতীয় দলে কাজ করেছি। ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সের একটা ছেলেকে তৈরি করা ভিন্ন একটা চ্যালেঞ্জ। তরুণরা যখন কথা শোনে, উপদেশ মেনে সেভাবেই অনুশীলন করে নিজেকে তৈরি করে এবং মাঠে দেখায়, তখন সেটা আমাকে দারুণ নাড়া দেয়। সব দলে কাজ করতেই আমার ভাল লাগে। এখন বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ দল আমার দল। আর আমি হারতে পছন্দ করি না। হারতে ঘৃণা করি। কঠোর পরিশ্রম করে বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারলে তাই আমি খুশি থাকব।’

দলের সাফল্য পেতে কিছু না বদলানোর কথাই জানালেন স্টুয়ার্ট ল, ‘আমি এখানে কিছু বদলাতে আসিনি। এমন নয় যে এসেই বলব, এভাবে চলবে না, ওভাবে করতে হবে। এখন যে সিস্টেমটা আছে, আমি সেটার হেল্পিং হ্যান্ড হতে চাই। গত বছর দুয়েক ধরে যে লোকগুলো ক্লান্তিহীনভাবে এই সিস্টেমে কাজ করে যাচ্ছে, তারা সব জানে। পরিকল্পনাও দাঁড় করিয়েছে। আমি সেটায় কিছু ভ্যালু এ্যাড করতে চাই, পুরো বদলে দিতে চাই না।’

বাংলাদেশে আবার ফিরে স্টুয়ার্ট ল ভাল লাগছে। তাই জানালেন, ‘বাংলাদেশে ফিরে ভাল লাগছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশের তারকারা যেখান থেকে আসবে, সেই প্রোগ্রামের অংশ হতে পেরে আমি খুশি। কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি। গত বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় দল যেভাবে খেলছে, সেটি খুবই রোমাঞ্চকর। আমি নিশ্চিত, অনুর্ধ ১৯ দলের তরুণরাও ওদের নায়কদের অনুসরণ করতে চাইবে। ওই পর্যায়ে যেতে চাইবে। এখান থেকে যাওয়ার পরও বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আমি গভীরভাবে অনুসরণ করেছি। বিশ্বকাপে তো বটেই। আমার নিজের শহর ব্রিসবেনে বাংলাদেশ দুই ম্যাচ খেলেছে। যতটা পেরেছি বাংলাদেশের উন্নতির এই পথচলার খবর রেখেছি। ফেসবুকেও অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল আমার। নানা সময় ওদের সঙ্গে কথা হয়েছে, অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশের পারফর্মেন্স দেখে খুব ভাল লেগেছে।’

স্টুয়ার্ট ল থাকার সময় বাংলাদেশ সেরা সাফল্যগুলোর একটি পেয়েছে। এশিয়া কাপে রানার্সআপ হয়েছে। সেই স্মৃতিও স্মরণ করলেন এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ, ‘২০১২ এশিযা কাপে দলকে ভাল করতে দেখা ছিল খুবই তৃপ্তির। আমার জন্য নয়, এই দলের জন্যই। কারণ ছেলেরা অনেক স্ট্রাগল করেছে পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পেতে। ধীরে ধীরে তাদের মনে এই বিশ্বাসটা জন্মেছে যে তারা এই লেভেলেও ভাল করতে পারে। বিশ্বাস করেছে ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাকে তারা হারাতে পারে। সেটা তারা করেছেও। পাকিস্তানের বিপক্ষে যে দুটি ম্যাচ আমরা হেরেছিলাম, দুটিই জেতা উচিত ছিল। ওই টুর্নামেন্ট এখন খেলা হলে বাংলাদেশই ফেবারিট থাকত। বাংলাদেশের ভাল করা উচিতও। ১৬ কোট মানুষের থেকে ১১ ছেলেকে বাছাই করা হচ্ছে, ওই ১১ জনের হওয়ার কথা দুর্দান্ত। চাপ থাকবেই, ভাল করলে তৃপ্তিও তাই বেশি।’ বিসিবির সঙ্গে স্টুয়ার্ট ল’র চুক্তি ১৬ সপ্তাহের। বিশ্বকাপ পর্যন্ত ভাগ-ভাগ করে কাজ করবেন স্টুয়ার্ট ল।