২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গীপনার অর্থায়নের বিভিন্ন মাধ্যম

  • বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের নৈতিক সীমাবদ্ধতা ভেঙ্গে দিয়েছেন। ভেঙ্গে দেয়ার দরুন, সেনাবাহিনীর যে অংশ তার কর্তৃত্বের অধীন এবং অধিকারের অধীন, সেই অংশের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। এই পরিচালনা বৈধ না-হওয়া সত্ত্বেও বার বার তাঁর অধিকারের বিরুদ্ধে ক্যু হওয়া সত্ত্বেও, তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনা অবৈধ এবং এ ধরনের পরিচালনা অধিকারের সীমা লঙ্ঘন : তিনি এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের নৈতিক সীমাবদ্ধতা ভেঙ্গে দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন ক্যুর নিয়ন্ত্রণ করেছেন ক্ষমতার একচ্ছত্র ব্যবহার করে।

জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর প্রধান শত্রু বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ এবং কমিউনিস্ট পার্টি। বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশে একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করেছেন। এই স্বতন্ত্র স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতির ভিত্তি : কৃষক-শ্রমিক-মধ্যবিত্ত; এই তিনটি শ্রেণী দুঃখী। কৃষক-শ্রমিক-মধ্যবিত্তকে শোষণ করেছে পাকিস্তানের রাজনীতি, তাদের মুখ থেকে হাসি কেড়ে নিয়েছে।

এই দুঃখী মানুষগুলোর মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের জন্য আলাদা একটা রাষ্ট্র দরকার, পাকিস্তান আমলে এই দাবির বিরোধিতা করেছে জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ আমলে এই দাবির বিরোধিতা করেছে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও হেফাজতে ইসলাম। এই বিরোধিতার ভিত্তিতে কাজ করেছে ধর্ম, ব্যবহৃত হয়েছে ইসলাম। এই দুঃখী মানুষগুলো, এই শোষিত মানুষগুলো পূর্ববাংলায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত কলোনির বাসিন্দা। সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি এবং হেফাজতে ইসলাম। সেনাবাহিনীর এক অংশ এই মতাদর্শ রক্ষা করার সশস্ত্র শক্তি এবং জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম এই মতাদর্শ রক্ষা করার সিভিল শক্তি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দুই প্রক্রিয়ায় কলোনিয়াল মতাদর্শ টিকে থেকেছে। প্রথম প্রক্রিয়া হচ্ছে : জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও হেফাজতে ইসলাম প্রচারিত সেনাবাহিনীর দেশ শাসন করার অধিকার। দ্বিতীয় প্রক্রিয়া হচ্ছে : সিভিল রাজনীতির মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও হেফাজতে ইসলাম প্রচারিত সশস্ত্রতার বোধ প্রবেশ। যে কোন সমাজব্যবস্থার মধ্যে একটা বদমাইশির অংশ থাকে। জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম এই বদমাইশির অংশ। জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে খালেদা জিয়া সমাজব্যবস্থার মধ্যকার বদমাইশির অংশ থেকে রাজনৈতিক সাহায্য পেয়েছেন। জিয়াউর রহমান থেকে পরবর্তীরা এবং জামায়াতে ইসলামী ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনা করার অধিকার থেকে সাধারণ মানুষকে হটিয়ে দিয়ে বদমাইশি, হত্যা, ভন্ডামিকে রাজনীতির অন্তঃসার করেছেন। ফলে ধর্ম থেকে অন্তর্হিত হয়েছে কল্যাণের বোধ, সমাজ থেকে লুপ্ত হয়েছে সৌভ্রাতৃত্বের বোধ, রাষ্ট্র থেকে উধাও হয়েছে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পৃথিবীকে মোকাবেলা করার বোধ, শিক্ষা থেকে সরে গেছে জ্ঞানের বোধ, ইতিহাস থেকে বিলীন হয়েছে ভবিষ্যত প্রণয়ন করার বোধ। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা, ২১ আগস্ট আইভি রহমানকে হত্যা, ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা। এ সবই ধারাবাহিক বদমাইশির অংশ। জামায়াতে ইসলামী জন্ম থেকেই খুনের রাজনীতি শুরু করেছে। জিয়াউর রহমানরা খুনের রাজনীতির ছবক নিয়েছেন জামায়াত থেকে। রাজনীতি এবং খুন সমার্থক হয়ে ওঠে, জিয়াউর রহমানরা যখন রাষ্ট্রের বিভিন্ন ইনস্টিটিউশন সেনাবাহিনীর সাহায্যে নষ্ট করে দেন। গণতন্ত্র ও সামরিক শাসন পাশাপাশি চলতে পারে না। প্রজাতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের অধিকার পাশাপাশি চলতে পারে না। এভাবে গণতন্ত্র নষ্ট করে, প্রজাতন্ত্র বিপণœ করে জিয়াউর রহমানরা যে শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন, সেই নষ্টামির জের এখনও অব্যাহত। এই রাজনৈতিক দুঃশাসন, প্রজাতন্ত্র ও গণতন্ত্র খুন করার চক্রান্তে, মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে, বিভিন্ন নষ্টামির ষড়যন্ত্রে জিয়াউর রহমানরা প্রকাশ্যে সমর্থন লাভ করেছে জামায়াত থেকে (বিএনপি, হেফাজত থেকে)। সাধারণ মানুষকে জিয়াউর রহমানরা কাছে পায়নি, তারা কাছে পেয়েছে রাজনীতির দিক থেকে জামায়াতকে (বিএনপি ও হেফাজতকে), এভাবে জামায়াত, বিএনপি, হেফাজত এবং জিয়াউর রহমানদের রাজনৈতিক দুঃশাসন এক এবং অভিন্ন হয়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও জিয়াউর রহমানদের বিএনপি (হেফাজত) এক শরীরে তিন মুখে পরিণত হয়।

জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধকালীন খুনখারাবি ও যুদ্ধপরবর্তী খুনের তা-ব বিএনপি (হেফাজতে ইসলাম) সমর্থন করতে থাকে। খুন রাজনীতির বিষয় এবং খুনীরা রাজনৈতিক নেতা : গোলাম ও জিয়াউর রহমান ও বাবুনগরী একই মুখের তিন অংশ। সেজন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে তিন দল এক হয়। আবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে সাদা চামড়াদের রাষ্ট্রগুলো স্বচ্ছতার দাবি তুলতে থাকে। তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার বিরোধিতা করা শুরু করে জামায়াত, বিএনপি এবং হেফাজত। সাদা চামড়ার ব্যক্তিরা বিচারের প্যানেলে নেই বলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার স্বচ্ছ নয় বলে কথা বলতে থাকে সাদা চামড়াদের রাষ্ট্রগুলো এবং তাদের আশ্রিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনগুলো আবার ভোল পাল্টিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জঙ্গী তৎপরতা শুরু করেছে। এই তৎপরতায় যুক্ত মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া; বাংলাদেশেও এই জঙ্গী তৎপরতা শুরু হয়েছে, বিপুল অর্থায়ন বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হচ্ছে। জঙ্গী অর্থায়নের একটি ঘটনায় ধরা পড়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মাহফুজ চৌধুরী বাপন ও হাসানুজ্জামান লিটন। হামজা ব্রিগেড নামক একটি জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে তারা যুক্ত, অর্থায়নের প্রক্রিয়া তাদের জানা। আদালতে তিন আইনজীবীই জবানবন্দীতে জানিয়েছেন, জঙ্গী সংগঠন হামজা ব্রিগেড নেতা গ্রেফতারকৃত মনিরুজ্জামান ডনের পৃথক তিনটি ব্যাংকের এ্যাকাউন্টে তাদের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা বিভিন্ন সময়ে প্রদান করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক এবং বেসরকারী ডাচ-বাংলা ও এক্সিম ব্যাংক। ধারণা করা হচ্ছে : আরও কয়েকটি ব্যাংকে এই তিনজন আইনজীবীর মতো বিভিন্ন মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ জঙ্গীপনার কাজে ব্যবহারের জন্য প্রদান করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান থেকে হামজা ব্রিগেড পর্যন্ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সকল কা-কারখানার হিসাব নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।