২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জুলাইতে কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি অর্থবছরের শুরুতেই কৃষিঋণ বিতরণ হোঁচট খেয়েছে ব্যাংকগুলো। প্রথম মাস জুলাইতে কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ সময়ে জুলাইতে সরকারী ব্যাংকের চেয়ে বেসরকারী ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ বিতরণে এগিয়ে রয়েছে। তবে এ সময়ে বেসরকারী ও বিদেশী খাতের অন্তত ১২টি ব্যাংক কোন ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বন্যার কারণে ফসলের জমি প্রস্তুত করতে বিলম্ব হওয়ায় কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে। চলতি অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের মহাব্যববস্থাপক প্রভাস চন্দ্র মল্লিক বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বন্যার কারণে অনেক কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। এতে যথাসময়ে আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করতে না পারায় কৃষক থেকে ঋণের চাহিদা কম হয়েছে। তবে আমনের ভরা মৌসুম শুরু হওয়ায় আগস্টে কৃষিঋণ বিতরণ বাড়বে। এছাড়া ব্যাংকগুলো যাতে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করে সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাইতে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলে কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ৮৬১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। যা চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। গেল অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছিল ৯০৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। যা ওই অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সরকারী আট ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণ করেছে মাত্র ২১৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। যা ব্যাংকগুলোর পুরো অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে কৃষিতে সরকারী ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, এ সময়ে বেসরকারী ও বিদেশী ব্যাংকগুলো মিলে কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ৬৪৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। যা ব্যাংকগুলোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বেসরকারী ও বিদেশী ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ১১০ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, জুলাই মাসে বিদেশী খাতের ৭টি, বেসরকারী খাতে ৪টি ও সরকারী খাতের ১টি ব্যাংক কোন ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। এর মধ্যে নতুন প্রজন্মের ব্যাংক রয়েছে ৪টি। শূন্যঋণ বিতরণ করা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে-ব্যাংক আল ফালাহ, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, হাবিব ব্যাংক, এইচএসবিসি, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, সাউথবাংলা ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এছাড়া জুলাইতে ২ শতাংশের কম ঋণ বিতরণ করেছে এমন ব্যাক রয়েছে আরও ১০টি। এগুলো হলো- বেসিক ব্যাংক, উরি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।