১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাঁপাইয়ের বরেন্দ্র অঞ্চলে আমনের আগাম আবাদ

  • কৃষকদের মধ্যে উৎসব আমেজ

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ এবার যথাসময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংলগ্ন পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলে আগাম আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আমনের আবাদ নিয়ে এ অঞ্চলের কৃষকরা অনেকটাই বিব্রত অবস্থার মধ্যে ছিল। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে আগাম বীজতলা তৈরিসহ আমন আবাদের ধুম পড়ে যায়। তাই এবার রোজার মাসেও আমন আবাদের কারণে কৃষককে সার্বক্ষণিক মাঠে থাকতে হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ সূত্র জানান এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ রানীমাতা ইলামিত্রের নাচোলসহ গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯ হাজার ১৯৩ হেক্টর। তার মধ্যে রোজার মাসও পরবর্তী এক সপ্তাহে ৩৩ হাজার ৪০৫ হেক্টরে আমন আবাদ শেষ হওয়ার পর কৃষক আর বসে থাকেনি। তাই আবাদ মৌসুম শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরেও অতিরিক্ত তিন হাজার হেক্টরে আমনের আবাদ করা হয়েছে। পুরো আগস্ট মাসে আমন আবাদের মৌসুম থাকার পরেও জেলার পুরো বরেন্দ্র আঞ্চলে আগাম শেষ হয়েছে আমনের আবাদ। সবচেয়ে আমন আবাদি জমির পরিমাণ বেশি বরেন্দ্র প্রাণভূমি নাচোলে। এবার এই উপজেলায় ২১ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে আমনের। জেলায় এবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৯০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে। যা আমন চাষের জন্য উপযোগী ছিল। এবার অপেক্ষা উৎপাদনের। কোন প্রাকৃতির বিপর্যয় না হলে সার, সেচের অভাবের মধ্যে না পড়লে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে উৎপাদন। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যথাসময়ে বৃষ্টিপাতের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। অনাবাদি জমির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় বিধায় আগাম আবাদে বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে এখন চলছে কৃষকদের মধ্যে আনন্দ উৎসবের আমেজ। অনেক দিন ধরেই আনন্দের আমেজ অনুপস্থিত ছিল বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সম্পন্ন আমন আবাদের পর প্রখর দৃষ্টি রাখছে জমির ওপর। যে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় সেচ দিতে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সজাগ করে রেখেছে। কারণ বরেন্দ্র অঞ্চলের গভীর নলকূপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।