২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাম্বার ওয়ান এমেকা

  • প্রিমিয়ার ফুটবল লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা;###;রুমেল খান

মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হতে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব লিমিটেডকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হয়নি। তবে শীর্ষ গোলদাতা ক্ষেত্রে ঠিকই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। লীগে খেলা হয়েছে ২২ রাউন্ডে মোট ১১০টি। লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন শেখ জামালের এমেকা ডার্লিংটন।

লীগে মোট গোল হয়েছে ৩৩২। দলগত সবচেয়ে বেশি গোল করেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা শেখ জামাল ধানম-ি, ৬০। আর সবচেয়ে কম গোল করেছে ১১ দলের মধ্যে নবম স্থানে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড, ১৩। মজার বিষয় হচ্ছে, লীগে ব্যক্তিগতভাবে যারা কমপক্ষে দুই অঙ্কের গোল করেছেন, তাদের সাত জনের মধ্যে ছয় জনই হচ্ছেন বিদেশী, চারজনই আফ্রিকান এবং তিনজনই শেখ জামালের!

সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন এমেকা ডার্লিংটন। শেখ জামালের নির্ভরযোগ্য এই নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড করেছেন ১৯ গোল। যার মধ্যে আছে একটি হ্যাটট্রিকও। গত ৬ জুলাই, ফেনী সকারের বিপক্ষে জামাল ৬-২ গোলে জয়ী হয়। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন এমেকা। যদিও সার্বিকভাবে লীগে এমেকার গোল হতে পারত ২১টি! দুটি ভিন্ন খেলায় রেফারি বিস্ময়করভাবে তার করা দুটি গোল দিয়ে দিয়েছেন অন্যদের! তাছাড়া লালকার্ড পাওয়ায় এমেকা খেলতে পারেননি একটি ম্যাচে।

এমেকার আগে শীর্ষ গোলদাতার আসনে ছিলেন তারই ক্লাব সতীর্থ, হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়েডসন এ্যানসেলমে। তার গোলসংখ্যা ১৭। জামালের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলে সেই সুযোগে তাকে টপকে যান এমেকা। ওয়েডসনেরও এই লীগে একটি হ্যাটট্রিক আছে। গত ২৮ জুন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফরাশগঞ্জকে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শেখ জামাল। ওয়েডসন হ্যাটট্রিকসহ করেন চার গোল। উল্লেখ্য, গত ২০১৩-১৪ মৌসুমের লীগে ২৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন ওয়েডসন। মাত্র ১ গোলের জন্য স্পর্শ করতে পারেননি ১৯৮২ লীগে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের প্রখ্যাত ফরোয়ার্ড আব্দুস সালাম মুর্শেদীর ২৭ গোলের রেকর্ডটি। জামালের শেষ ম্যাচের আগে ওয়েডসন ফিরে এলে এবং খেললে হয় তো পরিসংখ্যান পাল্টাতে পারত। এমেকাকে টপকানোর সম্ভাবনা ছিল আরেকজনের। তার গোলসংখ্যা ১৭। গিনির ফরোয়ার্ড। খেলেন মোহামেডানের হয়ে। নাম ইসমাইল বাঙ্গুরা। অনেকেই মজা করে বলেন, ‘বাঙ্গুরার প্রিয় ফল জাম্বুরা!’ কদিন আগে বাঙ্গুরা আলোচনায় আসেন তিন বিদেশী ফুটবলারের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে সুযোগ পাওয়ার খবরে। পরে অবশ্য বাফুফে ওই প্রক্রিয়া স্থগিত করে। এই লীগে বাঙ্গুরারও আছে একটি হ্যাটট্রিক (১৬ মে, বিপক্ষ: রহমতগঞ্জ, ফল: মোহামেডান ৫-০ গোলে জয়ী)।

এবারের লীগে ওয়েডসন ও এমেকার আগে অনেকটা সময় ধরে এক নম্বর গোলস্কোরার ছিলেন ব্রাদার্সের অগাস্টিন ওয়ালসন। এমেকার মতো লালকার্ড পাওয়ায় এক ম্যাচ খেলতে পারেননি এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড। ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা, পরের মৌসুমে জামাল-রাসেল, মোহামেডান-আবাহনীর মতো আরও বড় দলে খেলতে দেখা যাবে তাকে। লীগে অগাস্টিনও করেছেন একটি হ্যাটট্রিক (২৪ এপ্রিল, বিপক্ষ : মুক্তিযোদ্ধা, ফল : ব্রাদার্স ৫-২ গোলে জয়ী। এ ম্যাচে অগাস্টিন একাই করেন চার গোল)।

এছাড়া ১৪ গোল করে তালিকার চতুর্থ স্থানে আছেন শেখ জামালের গাম্বিয়ান মিডফিল্ডার ল্যান্ডিং ডার্বোয়ে। তালিকায় তিনিই একমাত্র মিডফিল্ডার। তারও আছে ১টি হ্যাটট্রিক (২৫ জুলাই, বিপক্ষ : ব্রাদার্স, ফল : জামাল ৫-১ গোলে জয়ী)।

১৩ গোল করে তালিকার পঞ্চম স্থানে আছেন এনামুল হক। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের এই অধিনায়ক-ফরোয়ার্ডের এই ১৩ গোল হচ্ছে এই লীগে দেশীয় ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া এনামুলের কৃতিত্ব আরেকটি আছে। তা হলো, এই লীগে অধিনায়ক হিসেবে তিনিই সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন। আবার তালিকায় তিনিই একমাত্র গোলদাতা, যার কোন হ্যাটট্রিক নেই! এছাড়া দুই অঙ্কের গোল করেছেন আরও একজনÑ আবাহনীর নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা (১০)। তারও আছে ১টি হ্যাটট্রিক (১৬ জুলাই, বিপক্ষ : শেখ রাসেল, ফল : আবাহনী ৫-০ গোলে জয়ী)।