২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিরল রেকর্ডের হাতছানি সেরেনার

  • মাহমুদা সুবর্ণা

দেড় দশকেরও বেশি সময় আগে শুরু। সেই থেকেই টেনিস কোর্টে রাজত্ব করছেন তিনি। টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি সেই সেরেনা এখনও অপ্রতিরোধ্য। আগামী সেপ্টেম্বরে চৌত্রিশে পা দেবেন তিনি। কিন্তু বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে টেনিস কোর্টে দোর্দ- প্রতাপে খেলে যাচ্ছেন সেরেনা উইলিয়ামস। গত মাসেই জিতেছেন উইম্বল্ডন। সেই সঙ্গে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ‘সেরেনা সøাম’ জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান তারকার সামনে এখন ‘ক্যালেন্ডার সøাম’ জয়ের হাতছানি।

১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ডসøাম জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। সেই যে শুরু, এরপর আর কখনই পেছনের দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এরপর ফ্রেঞ্চ ওপেন ছাড়া বাকি সব গ্র্যান্ডসøামেই ছয়বার করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। আর ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছেন তিনবার। তারপরও থেমে নেই তার গতি। প্রতিপক্ষকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে একের পর এক শিরোপা-উচ্ছ্বাসে ভাসছেন আমেরিকান টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। সদ্যসমাপ্ত সিনসিনাতি মাস্টার্সেও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। গত এক বছরে টেনিস কোর্টে যেভাবে খেলেছেন সেরেনা, তাতে তার শিরোপা জেতাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরও সিসিনাতিতে আমেরিকান তারকার চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে সংশয় ছিল। কারণ অখ্যাত বেলিন্ডা বেনচিচ। সিনসিনাতির আগের টুর্নামেন্ট রজার্স কাপের সেমিফাইনালে সুইজারল্যান্ডের এই তরুণীর কাছেই হেরে ছিটকে গিয়েছিলেন সেরেনা। চলতি মৌসুমে এটাই ছিল সেরেনার সবচেয়ে বড় বিস্ময়। রজার্স কাপের শেষ চারের লড়াইয়ে বেনচিচ ৩-৬, ৭-৫ এবং ৬-৪ গেমে সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে রীতিমতো চমকে দেন টেনিস বিশ্বকেই। মাত্র ১৮ বছর বয়স সুইস তারকার। অথচ ১১ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে কমবয়সী খেলোয়াড় হিসেবে সেরেনাকে হারিয়ে দেন তিনি। তার আগে কম বয়সী খেলোয়াড়ের কাছে সেরেনার পরাজয়টি ছিল ২০০৪ সালে, উইম্বল্ডনের ফাইনালে। সেবার রাশিয়ান টেনিসের প্রতিভাবান তারকা মারিয়া শারাপোভার কাছে হার মেনেছিলেন তিনি। শারাপোভার পর বেনচিচই আমেরিকান তারকাকে পরাজিত করে নতুন বিস্ময়ের সৃষ্টি করেন। এর আগে চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা কেভিতোভার বিপক্ষে হারটিই ছিল চলতি বছরে সেরেনার একমাত্র পরাজয়। ফলে গত সপ্তাহে বেনচিচের কাছে হারটি চলতি মৌসুমে সেরেনা উইলিয়ামসের দ্বিতীয় পরাজয়।

তবে রজার্স কাপের সেই পরাজয়ের ক্ষতটা খুব বেশিদিন বয়ে বেড়াতে হয়নি তার। সিনসিনাতি মাস্টার্স দিয়েই স্বরূপে ফেরেন তিনি। আর রবিবার ফাইনাল জিতে জানান দেন এখনই থামছেন না সেরেনা। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে আমেরিকান টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি এদিন ৬-৩ এবং ৭-৬ (৭/৫) গেমে হারান সিমোনা হ্যালেপকে। সিনসিনাতি মাস্টার্সে এটা তার টানা দ্বিতীয় শিরোপা। আর ক্যারিয়ারের ৬৯তম। সিনসিনাতি জয়ের সৌজন্যে নতুন একটি রেকর্ডও গড়লেন শীর্ষ বাছাই। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ইভোনে গোলাগংকে ছাড়িয়ে টেনিসের উন্মুক্ত যুগে সর্বকালের সেরা ডব্লিউটিএ জয়ীদের তালিকায় পঞ্চমস্থানে উঠে এসেছেন তিনি। এই তালিকায় সবার উপরে আছেন আমেরিকান টেনিসের আরেক কিংবদন্তি মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা। মহিলা এককে তার শিরোপার সংখ্যা ১৬৭। মুকুটে আরেকটি পালক যুক্ত করে উচ্ছ্বসিত সেরেনা উইলিয়ামস। শিরোপা-উচ্ছ্বাসের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সিমোনার বিপক্ষে খেলার পর একটা পরীক্ষাও হয়ে গেছে। আসলে এই লড়াইটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছিলাম। তবে আমার যে আরও উন্নতি করার সুযোগ আছে সেটাও স্বীকার করছি।’

গত বছর ইউএস ওপেন দিয়ে মৌসুম শেষ করেছিলেন সেরেনা। আর চলতি বছরের শুরুটা হয়েছিল প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের সৌজন্যে। এরপর মৌসুমের তিন গ্র্যান্ডসøামের সবকটিতেই চ্যাম্পিয়ন। টেনিসের তিন মেজর শিরোপা ছাড়াও মিয়ামি এবং সর্বশেষ সিনসিনাতি মাস্টার্সের শিরোপা নিজের শোকেসে তুললেন তিনি। এর ফলে চলতি মৌসুমে পাঁচ টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে তার সবকটিতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। তারপরও চ্যালেঞ্জ যেন শেষ হয়নি তার। গত মাসে উইম্বল্ডন জিতে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ‘সেরেনা সøাম’ জয়ের কীর্তি গড়েন তিনি। এখন তার সামনে ‘ক্যালেন্ডার সøাম’ জয়ের চ্যালেঞ্জ। আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে বছরের শেষ গ্র্যান্ডসøাম ইউএস ওপেন। এখানে শিরোপা নিজের করে রাখতে পারলেই স্টেফি গ্রাফের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ‘ক্যালেন্ডার সøাম’ জয়ের স্বাদ পাবেন তেত্রিশ বছর বয়সী সেরেনা উইলিয়ামস। শুধু তাই নয়, টেনিসের উন্মুক্ত যুগে স্টেফি গ্রাফের ২২ গ্র্যান্ডসøাম জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসাবেন তিনি। অসাধারণ সেই কীর্তির আগে এই মুহূর্তে কেমন অনুভব করছেন সেরেনা উইলিয়ামস? এমন প্রশ্নের জবাবে সেরেনা সরাসরি জানিয়ে দিলেন তিনি নির্ভার। বরং এ রকম চাপটাকে পছন্দ করেন তিনি। এ বিষয়ে তার অভিমত হলো, ‘এ রকম চাপটা আমি সবসময়ই পছন্দ করি। অনেকেই হয়তো এই চাপটা নিতে পারে না। সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আমি। অন্য যে কারও চেয়ে চাপ নিতে ভালবাসি আমি।’ তবে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সেরেনা কী পারবেন ইউএস ওপেনের শিরোপা নিজের করে রাখতে? ভক্তদের অপেক্ষা এখন সেটাই দেখার। তবে সিনসিনাতি মাস্টার্সে ফাইনালে সেরেনার কাছে হারলেও টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে সিমোনা হ্যালেপের। সর্বশেষ প্রকাশিত ডব্লিউটিএ র‌্যাঙ্কিংয়ে একধাপ এগিয়ে দুইয়ে উঠে এলেন তিনি। বর্তমানে ৬,১৩০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন হ্যালেপ। রোমানিয়ার এই প্রতিভাবান টেনিস খেলোয়াড় র‌্যাঙ্কিংয়ে পেছনে ফেলেছেন রাশিয়ান গ্ল্যামারগার্ল মারিয়া শারাপোভাকে। বছরের তৃতীয় মেজর শিরোপা উইম্বল্ডনে সেরেনার কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিলেন মাশা। এরপর আর কোন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেননি তিনি। রজার্স কাপ এবং সিনসিনাতি মাস্টার্সে খেলার কথা থাকলেও চোট তাকে খেলতে দেয়নি। এর ফলস্বরূপই র‌্যাঙ্কিংয়ে অবনতি ঘটে তার। শারাপোভার এক ধাপ অবনমন হলেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন সেরেনা। দুইয়ে থাকা সিমোনার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি (১২,৭২১) পয়েন্ট নিয়ে এক নাম্বারে অবস্থান করছেন ২১ গ্র্যান্ডস্মমের মালিকা।