২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রূপগঞ্জে গরু লুট আতঙ্ক

  • রাতভর পাহারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ২৫ আগস্ট ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়ন ও রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ গরুর খামার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। গত এক মাসে প্রায় শতাধিক গরু লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল। বসতবাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে। লুট করে নিচ্ছে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ মালপত্র।

থানা পুলিশের কাছে তেমন কোন সহযোগিতা না পেয়ে নিজেদের যানমাল রক্ষায় রাতভর পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন এলাকাবাসী। সারাদিন মাঠে ও খামারে কাজ করে আবার রাতভর পাহারা দিয়ে এসব খেটে খাওয়া মানুষগুলো দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুটি ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষই গরুর খামারের সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি খামারে অন্তত ৪টি থেকে ১০টি বা ১০ থেকে ৫০টি গরু থাকে। আর এসব খামারে কয়েক হাজার গরু রয়েছে। বেশিরভাগ গরুই গাভী। গরুর খামারি লাল মিয়া বলেন, বাবারে কি আর কমু, সারাদিন খেতে খামারে কাম কইরা এহন রাতভর পাহারা দেওন লাগে। না দিলে খামারের গরু লুট কইরা লইয়া যাইবোগা। পাহারা দিতে দিতে শরিরটা অসুস্থ হইয়া পড়ছে। অপর গরুর খামারি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খামারিরা এত কষ্ট করে পাহারা দিলেও পুলিশের তেমন কোন সহযোগিতা পাই না। গরু লুটের বিষয়ে পুলিশকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানালেও তেমন কোন ফলাফল পাওয়া যায় না। এ জন্য এখন পুলিশকেও কিছু জানাই না। প্রত্যক্ষদর্শী গরুর খামারিরা জানিয়েছেন, কাঞ্চন-কুড়িল বিশ্বরোড (৩শ’ ফুট) সড়কের কাঞ্চন থেকে ইছাপুরা এলাকা পর্যন্ত ডাকাতরা ট্রাকযোগে এসে নেমে বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করছে। এরপর গরু লুট করে ফের ওই সড়কে ট্রাকযোগে নিয়ে যাচ্ছে। ডাকাতদের সামনে এগিয়ে গেলে ধারালো অস্ত্রের হামলার শিকার হতে হয় তাই কেউ এগিয়ে যেতে পর্যন্ত চায় না। রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভুইয়া রানু বলেন, এখন গরু লুটের ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে। খামারিদের পাহারার সঙ্গে পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হলে ডাকাতদের আনাগোনা কমে আসবে। রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত/ওসি) এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, প্রতিটি এলাকায় কমিটি গঠন করে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের বেশ কিছু পদ শূন্য

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেত্রকোনা, ২৫ আগস্ট ॥ নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একইভাবে বেশ কিছুদিন ধরে শূন্য হয়ে আছে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক পদটিও। সার্বিক ও রাজস্ব বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত দু’জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে নিজ দফতরের পাশাপাশি ওই দুটি পদেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ১৪টি সহকারী কমিশনার (ম্যাজিস্ট্রেট) পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দু’জন। ১০ উপজেলার ১০ সহকারী কমিশনার-ভূমি (এসিল্যান্ড) পদের মধ্যেও শূন্য পদ সাতটি। সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওরা এ সব শূন্য পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সব পদ শূন্য থাকায় রাজস্ব আদায়, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম মনিটরিং ও সুপারভিশনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।