২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

  • প্রয়োজন শুকনো খাবার

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। কোন কোন নদীর পানি ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে তারা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। অতিরিক্ত বন্যার কারণে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বন্যা পীড়িতদের এখন প্রয়োজন শুকনো খাবার। স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

কুড়িগ্রাম ॥ কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দী দেড় লাখ মানুষ চরম দুর্দশার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। বন্যায় কুড়িগ্রাম থেকে যাত্রাপুর যাওয়ার মূল সড়কের দু’পাশে অনেক মানুষ আশ্রয় নেয়ায় চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার আট সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা, দুধকুমোরসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার সামন্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তীব্র স্রোতে চর পার্বতীপুর গ্রামের ১৩টি পরিবার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে যাত্রাপুরে চলে এসেছে। পার্বতীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়ায় টিনসেড ঘর ভেঙ্গে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ না পৌঁছায় দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসীরা। চরম সঙ্কটে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষরা। বেকার জীবন কাটাচ্ছে। খাদ্য এবং পানি সঙ্কটের পাশাপাশি পশুর খাদ্য সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী মানুষরা ত্রাণের আশায় স্থানীয় চেয়ারম্যানদের বাড়িতে ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভিড় করছে। জেলা প্রশাসন বন্যাদুর্গতদের জন্য মাত্র ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও তা এখনও বিতরণ শুরু হয়নি। এত কম ত্রাণে বিব্রতবোধ করছেন চেয়ারম্যান, মেম্বাররা। তারা এ মুহূর্তে শুকনা খাবার দেয়ার দাবি করছেন। দুর্গত এলাকার প্রায় সব কাঁচা রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় ও নিমজ্জিত হওয়ায় গ্রামীণ যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। নৌকা বা কলাগাছের ভেলা ছাড়া যাতায়াতের কোন উপায় নেই। কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কের ওপর পানি প্রবাহিত হওয়ায় খানাখন্দে ভরে গেছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

জামালপুর ॥ যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিয়াম ও দশানীসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার পাঁচটি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে দেড় শতাধিক প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যাকবলিত এলাকার সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ এবং বাড়ি-ঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হাজার হাজার পরিবার। অনেক পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাঁধে আশ্রয় নিলেও তারা এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ সামগ্রী পায়নি। তবে জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৬৪ মেট্রিক খয়রাতি চাল ও নগদ দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী ॥ উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়ার কাছে পদ্মার পানি ১৫ সে.মি বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ২৫ সে.মি ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম এবং দৌলতদিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

বেশ কিছু এলাকার ফসল ডুবে গেছে। দৌলতদিয়া ৪ নং ফেরি ঘাট এলাকা থেকে পূর্বাঞ্চলের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে ফেরি চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। ফলে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ৩ শতাধিক ট্রাক আটকে পড়েছে। এদিকে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১০ কেজি করে চাল এবং করে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

গাইবান্ধা ॥ পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে করতোয়া নদীর পানি ২৫ সে. মি. বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার পাঁচ সে. মি. এবং ব্রহ্মপুত্রে এখন ২৬ সে. মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় জেলার চারটি উপজেলার ৫৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ফুলছড়ি উপজেলার ২৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন বন্ধ। এদিকে ঘাঘট নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা বাজারটি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ক্রেতা-বিক্রেতারা দুর্ভোগে পড়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় এ জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ৬৭টি গ্রামের ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এছাড়া এ পর্যন্ত ১১ কি. মি. সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুই হাজার ২৪২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া জরুরী ত্রাণ সাহায্য বাবদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৫২ মে. টন খাদ্য শস্য এবং ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বগুড়া ॥ বগুড়ায় সারিয়াকান্দি ও ধুনটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। যমুনার পানি এখনও বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসত ভিটা ও জমি জিরাত ডুবে গেছে। পানিবন্দী হয়ে আছে আরও অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার। এটি সরকারী হিসাব। সরকারীভাবে বন্যাদুর্গতদের জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। সঙ্গে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে শুকনো খাবার চিড়া ও গুড়ের জন্য। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঢলের পানির গতি দেখে আশা প্রকাশ করেছে দু’য়েক দিনের মধ্যে পানি নামতে শুরু করবে। পানি নেমে যাওয়ার সময় ভাঙ্গনের শঙ্কা করা হচ্ছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার চার ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম ও ধুনটের দুই ইউনিয়নের আটটি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। উঠতি ফসলের ক্ষতি হয়েছে অনেক।