২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোর হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অস্ত্রোপচার রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ওষুধ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে সরকারী ওষুধ সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সেসব ওষুধ রোগীর স্বজনদের দিয়ে কিনে এনে তা কৌশলে আত্মসাত করা হচ্ছে। পরে আত্মসাত করা ওষুধ বাইরের ফার্মেসিতে বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন কতিপয় অসাধু চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অস্ত্রোপচার রোগীর স্বজনদের বোকা বানিয়ে ওষুধ লুটপাটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সেবিকা ও কর্মচারীরা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, অপারেশন করার আগের রাতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীকে চিকিৎসক ওষুধ সামগ্রী কেনার জন্য তালিকা করে দেন। ওষুধ সামগ্রী কেনার পর সকালে রোগী নিয়ে তারা চলে যান অস্ত্রোপচার কক্ষের সামনে। এরই মধ্যে কর্মচারীরা এসে ওষুধ নিয়ে যান অস্ত্রোপচার রুমের ভিতরে। কিছু সময় পর রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে।

গত সোম ও মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতলের অস্ত্রোপচার রুমের সামনে অবস্থান করে দেখা গেছে, চিকিৎসক রোগীর দেয়া তালিকায় যেসব ওষুধ সামগ্রী লিখেছেন তার অধিকাংশ এ হাসপাতালে সরকারীভাবে সরবরাহ রয়েছে। শুধু নামটা ভিন্ন। আবার কোন কোন ওষুধের নামের মিলও রয়েছে। যেমন স্যালাইন লেকটোরিড, হার্টসল, ইনজেকশন ইটোরাক, কোটামিন, আইভি ক্যানোলা, স্যালাইনসেট, পভিসেফ, সেলাই করার জন্য প্রোলিনসহ আরও কয়েক প্রকারের সুতা। এগুলো হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও রোগীর স্বজনদের দিয়ে বাইরে থেকে ক্রয় করানো হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি হাতানো হয়ে থাকে সুতা। যার প্রতিটির দাম ৩শ’ থেকে ৫৫০ টাকা। রোগীর স্বজনদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাদের কাছ থেকে ৩/৪টি হাতিয়ে নেয়া হয়। রোগীর স্বজন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তার রোগীর হাতে অস্ত্রোপচারের সময় ৩টি সুতা দিতে হয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষ করে চিকিৎসক বেরিয়ে যাওয়ার পরও এক কর্মচারী ছোট স্লিপ দিয়ে বলেন, এ সুতাটি তাড়াতাড়ি কিনে আনেন। সেলাই দিতে হবে।

বাবুল হোসেন নামে আরও একজন জানান, তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য ৩৫শ’ টাকার ওষুধ সামগ্রী কিনে দিয়েছি। এরপরও স্লিপ দিয়ে ২টি সুতা কিনে আনতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন রোগীর স্বজন জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের আগে নেয়া ওষুধ সামগ্রী ভিতরে নিয়েও আবার তাদের শর্ট স্লিপের মাধ্যমে বাড়তি ওষুধ সামগ্রী কিনে আনতে বলেন সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীরা। সূত্র জানায়, রোগীর স্বজনদের দিয়ে কেনানো হাজার হাজার টাকার ওষুধ মজুদ রেখে সরকারীভাবে সরবরাহকৃত ওষুধ সামগ্রী দিয়ে অস্ত্রোপচারের কাজ করা হয়। ওষুধ মজুদ করার জন্য সার্জারি বিভাগ, অর্থোপেডিক বিভাগ, ইএনটি বিভাগ ও গাইনী বিভাগের অস্ত্রোপচার রুমে নির্দিষ্ট কর্মচারী রয়েছে।