২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশের রফতানি চিংড়ির মান নিয়ে সন্তুষ্ট ইইউ-এফভিও অডিট মিশন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশ গুলোতে বাংলাদেশের রফতানি করা চিংড়িসহ সব ধরনের মাছের মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ইইউ- ফুড এন্ড ভেটেরিনারি অফিস (এফভিও) অডিট মিশন। একই সঙ্গে তারা এসব মাছ আহরণ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সকল পর্যায়ে মাননিয়ন্ত্রণের বিষয়েও সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে।

আজ বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইইউ-এফভিও অডিট মিশনের পাঠানো চুড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে মাছ রফতানির সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে চারটি নির্দশনা দেওয়া হয়েছে। অফিসিয়াল কন্ট্রোল সিস্টেমের নির্দেশনায় বলা হয় ফিশিং ভ্যাসেলগুলোর তাপমাত্রা নির্ধারিত মাইনাস আঠারো ডিগ্রী ঠিক থাকে না, ট্রলারের হ্যাছাপ ঠিক হচ্ছে না, ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে ডাইঅক্সিন ব্যবহার হয় তা নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাডমিয়ামের যে মাত্রা তা ইইউভূক্ত দেশগুলোর ব্যবহৃত মাত্রা থেকে বেশি থাকায় তাও নিয়ন্ত্রণের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া রাসায়নিক দূষণ নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন দুটি পরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইইউ-এফভিও অডিট মিশনের নির্দেশনায় বলা হয়, মেট্রানিডাজল এবং ক্রিমিনাশক যে ঔষধ ব্যবহার করা হয় তা চিংড়িতে প্রবেশ করে কিনা এবং ইইউতে ব্যবহার বন্ধ হয়েছে এমন এন্টিবায়োটিক বাংলাদেশ ব্যবহৃত হচ্ছে সে গুলো কোনভাবে চিংড়িতে যায় কিনা তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ছয় মাস থেকে এক বছর সময় নেয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ইইউ-এফভিও অডিট মিশনের রিপোর্ট সাফল্যজনক। এ সফলতাকে ধরে রেখে চিংড়ি রফতানি পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য সকলকে কাজ করতে হবে।

উল্লেখ্য, চিংড়ি ও অন্যান্য রফতানি মাছ উৎপাদনে রাসায়নিক পদার্থ/ঔষধ ব্যবহার এবং চিংড়ি ও মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে স্বাস্থ্যকর অবস্থা, মাছের খাদ্যের মান প্রভৃতি বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশ সমূহে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য ইইউ-রেজুলেশন অনুসারে স্বাস্থ্যসম্মত পন্থায় রফতানী হচ্ছে কিনা তা এফভিও মিশন অডিট করে থাকে।

গত ২০ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০১৫ এফভিও অডিট মিশন বাংলাদেশে এ অডিট করে।

অনুষ্ঠানে অডিট প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নৃত্য রঞ্জন বিশ্বাস। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. সেলিনা আফরোজা, অতিরিক্ত সচিব আনিছুর রহমান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

নির্বাচিত সংবাদ