১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঐক্যবদ্ধ থাকুন- নইলে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যেতে পারে

  • নেতাকর্মীদের প্রতি সৈয়দ আশরাফ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ না থাকলে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যেতে পারে। আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই নিরাপদ নই। খালেদা জিয়া প্রতি মুহূর্তে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়ারা ষড়যন্ত্রের জন্য এক সেকেন্ড বসে থাকে না, তারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে তাদের সেই সুযোগ নিতে দেব না। তাই এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে, নিজেদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। বিএনপিকে ষড়যন্ত্রকারী ও খুনীদের দল হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র থেমে নেই। প্রতিদিনই বিভিন্ন কৌশলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলা করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিএনপি খুনীদের দল। ষড়যন্ত্রকারীদের দল। সেই দল সময় সময় পরিকল্পনা করে আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাসহ শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে। সৈয়দ আশরাফ বলেন, এ সব ষড়যন্ত্রের কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধ চায়নি। আর আওয়ামী লীগের একমাত্র পাপ হলো তাদের স্বাদের পাকিস্তানকে ভেঙে বাংলাদেশ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, এর আগেও বার বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনি রেহাই পেলেও ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। বিএনপি-জাময়াত সব সময়ই পরিকল্পনা করে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করার। তাই ঐক্যবদ্ধ না থাকলে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যেতে পারে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, আপনারা আরও দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলুন। সবাই ঐক্যবদ্ধ হন। ক্ষমতায় আছেন বলেই সামান্য দু-চার পয়সার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে কোন্দলে জড়াবেন না। তিনি বলেন, আমাদের সব সময় সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকতে হবে। দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, শেখ হাসিনার স্বার্থে ভাগ-বাটোয়ারা বাদ দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আমরা যদি নিজেদের মধ্যে কোন্দল করি তবে কিন্তু আমরা দুর্বল হয়ে যাব। তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছি ঠিকই। কিন্তু আমরা নিরাপদ নই। এ জন্য আমাদের সব সময় পাহারা দিয়ে রাখতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নানা কৌশলে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে তাদের সেই সুযোগের টাইম দেব না। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে শেখ হাসিনার কিছুই হবে না, আওয়ামী লীগের কিছুই হবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, হেলায় হেলায় বসে থাকার সুযোগ নেই। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করলে অন্যরা সুযোগ নেবে। ব্যক্তি স্বার্থকে গুরুত্ব না দিয়ে দলের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে কাজ করুন।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য ১৪ আগস্ট রাত বেছে নেয়া হয়েছিল, কারণ ওইদিন পাকিস্তানের জš§। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা বঙ্গবন্ধুকে ওইদিন নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এমন ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রয়েছে। ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্টের মধ্যে পার্থক্য আছে উল্লেখ করে আশরাফ বলেন, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট খুনীরা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। আর ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু খুনীরা কোনটিতেই সফল হয়নি। কারণ বাঙালী বঙ্গবন্ধুকে যেমন ভালবাসে তেমনি আওয়ামী লীগকেও ভালবাসে। আর এই ভালবাসাই হচ্ছে আমাদের ভরসা। বঙ্গবন্ধুকে কোনদিন এদেশের মানুষ ভুলবে না। বঙ্গবন্ধু মৃত হলেও তিনিই আমাদের আশা ভরসা। তেমনি আওয়ামী লীগও আমাদের আশা ভরসা। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের মধ্যে পরিপূর্ণ ঐক্যের আহ্বান জানান।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

জাতীয় মহিলা সংস্থার আলোচনা সভা ॥ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতীয় মহিলা সংস্থা এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। সংস্থার ভবনের বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি।

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম এ্যাডভোকেটের সভাপতিত্বে আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিম বেগম এনডিসি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেনÑ মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাহানারা পারভীন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদে মহিলা সংসদ সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মহিলা সংস্থার নির্বাহী কমিটি ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধুসহ নিহত তাঁর পরিবারের সকল সদস্য এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদ আইভি রহমানসহ অন্য শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এবং বিশেষ মোনাজাত করা হয়।