২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তির বিধান নিয়ে সরকার সমালোচনার মুখে

  • গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ৩২ ধারায় মামলা করা যাবে না

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০২ ধারায় মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত আইন করার দাবি ওঠে। কিন্তু মোটরযান আইনের খসড়ায় ৩০২ ধারায় মৃত্যুদ-ের বিষয়টি যুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিবহন মালিক শ্রমিকদের চাপের মুখে পিছু হটতে শুরু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালকদের রক্ষা করা ও সড়ক দুর্ঘটনা উৎসাহিত করতেই দোষীদের কম সাজার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারায় মামলা নেয়ার বিধান নেই। সচিবালয়ে বুধবার নদীর নাব্য ও স্বাভাবিক গতি প্রবাহ অব্যাহত রাখা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, দ-বিধিতে বলা আছে কোন অপরাধের জন্য কোন ধারায় মামলা করা যাবে। সেখানে পরিষ্কার বলা আছে দুর্ঘটনাজনিত কারণে মারা গেলে ৩০৪(খ) ধারায় মামলা হবে। ৩০২ ধারায় মামলার বিধান নেই, ৩০২ ধারা আনছেন কেন? দুর্ঘটনায় চালকদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা না করার জন্য সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।

২০১১ সালে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়া এবং আরও কয়েকটি বড় বড় সড়ক দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে অভিযুক্ত চালকদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০২ ধারায় মামলার দাবি ওঠে। এ ধারায় কিছু মামলাও হয়। এদিকে ৩০৪(খ) ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর কারাদ-। কিন্তু শুরু থেকেই চালকদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলার বিরোধিতা করে আসছেন শাজাহান খানসহ পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা। নৌমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনায় মৃত্যুর শাস্তি ভারত, পাকিস্তানে এখনও দুই বছর, আমাদের এখানে তিন বছর (৩০৪ এর খ ধারায়)। আমাদের এখানে দুটি-তিনটি ধারায় মামলা হয় তখন দেখা যায় তিন বছরের জায়গায় পাঁচ বছরও সাজা হয়, এ দৃষ্টান্তও আছে।’ কিন্তু বাস্তবতা হলো- গাড়ি উৎপাদনের দেশ জাপানে সড়ক দুর্ঘটনার শাস্তি অনেক বেশি। আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটে ৯৯ বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান আছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফুর রহমান বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ৩০২ ধারায় মামলা করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৩০৪(খ) ধারায় মামলা নেয়া উচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মামলার ধারা এভাবে নির্দিষ্ট করে দেয়ার মানে সরাসরি বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ করা। দুর্ঘটনার ধরন অনুসারে ৩০২, ৩০৪ (ক) এবং (খ) যে কোন ধারায় মামলা করতে পারার ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

‘বিচারহীনতা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোন ধারায় চার্জ গঠন হবে এবং কোন্্ ধারায় মামলা নিষ্পত্তি হবে তা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের বলেন, ‘সবগুলো ধারা সংযুক্ত করা মানেই চালকদের শাস্তি দেয়া না, তাদের সতর্ক করা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ধারা সুনির্দিষ্ট করে নিজেই আইন লঙ্ঘন করেছে। নৌমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ ধারা সুনির্দিষ্ট করাটা আরও বেশি দুঃখজনক।’