২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিএসপি ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শর্ত পূরণ

  • সংশোধিত শ্রম আইনের বিধিমালাও অনুমোদনের পথে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ জিএসপি ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া এ্যাকশন প্ল্যানের ১৬ শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। সংশোধিত শ্রম আইনের বিধিমালাটি আগামী সপ্তাহ নাগাদ অনুমোদন দেয়া হতে পারে। এই অনুমোদনের মাধ্যমে এ্যাকশন প্ল্যানের সব শর্ত পূরণ হবে বলে দাবি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শর্তপূরণের পরও কেন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না সেই বিতর্কের জবাবও দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। জার্মানি ও সিঙ্গাপুর সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার প্রাক্কালে তিনি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধার বাইরে রেখেছে। ’৭১ সালেও তাদের অবস্থান বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল।

দেশের প্রধান রফতানি পণ্য অবশ্য কখনও জিএসপি সুবিধা পায়নি। বাণিজ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের রেশ না কাটতেই গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এক অনুষ্ঠানে বলেন, রাজনৈতিক কারণে নয়, শর্তপূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল হয়নি। তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া না দেখালেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া এ্যাকশন প্ল্যানের সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। যেসব দেশ রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া জিএসপি সুবিধা পায় তাদের চেয়ে বাংলাদেশ কমপ্লায়েন্স কারখানা গড়ে তুলতে অনেক বেশি দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছে। দেশের কারখানাগুলো এখন অনেক বেশি কমপ্লায়েন্ট। শ্রম অধিকার ও কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া সব শর্তপূরণ করা হয়েছে। এ্যাকর্ড এবং এ্যালায়েন্স পরিদর্শন করে মাত্র ২ শতাংশ কারখানায় ত্রুটি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়মে এটা সহনীয়। কিন্তু তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধার বাইরে রেখেছে। তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি ফিরে এসে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করবেন।

জানা গেছে, জিএসপি ইস্যুতে শীঘ্রই বাণিজ্য, পররাষ্ট্র ও শ্রম সচিব যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এ্যাকশন প্ল্যানের অগ্রগতি ও এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে ইউএসটিআরে। এছাড়া সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ইউএসটিআর থেকে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে। তারা স্বচক্ষে দেশের কারখানা পরিদর্শন করবে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই সময় এ্যাকশন প্ল্যানের অগ্রগতি বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

এ্যাকশন প্ল্যানের অগ্রগতি ॥ কারখানার নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের পোশাক কারখানা যাচাইবাছাই করার একটি শর্ত ছিল ইউএসটিআরের। এই শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ৩০টি জাতীয় টিম, বিদেশী বায়ারদের মাধ্যমে গড়ে তোলা সংগঠন এ্যালায়েন্স ও এ্যাকর্ড এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৯৩টি পোশাক কারখানা পরির্দশন করেছে। এর মধ্যে আমেরিকার ক্রেতাদের জোট এ্যালায়েন্স ৫৮৭টি এবং এ্যাকর্ড পরিদর্শন করেছে ১ হাজার ১০৬টি কারখানা। এসব পরিদর্শনের পর ১৬টি কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বন্ধ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পোশাক শিল্পে ৩৩৪টি ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে। এটা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অতীতে কোন শ্রম আইন বিদ্যমান ছিল না। কিন্তু মার্কিন বাণিজ্য দফতর ইপিজেডে শ্রম আইন বাস্তবায়নের শর্ত দিয়েছে। এই শর্ত মোতাবেক বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইনের (২০১৪) খসড়া মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন দিয়েছে।

শর্ত অনুযায়ী পোশাক শ্রমিক বাবুল আকতার ও কল্পনা আকতারের বিরুদ্ধে করা নয়টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইউএসটিআর থেকে হটলাইন চালুর শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। এই হটলাইনে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিক যেকোন সমস্যা হলে জানাতে পারেন। অবশ্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর একটি হটলাইন স্থাপন করেছে। আরও দুটি হটলাইন শ্রম অধিদফতর এবং কলকারখানা পরিদর্শন বিভাগে চালু করার কথা। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে, তৈরি পোশাক কারখানার সংশ্লিষ্ট একটি ডাটাবেজ করার শর্ত ছিল। চলতি বছরের ৩০ মার্চ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতর এই ডাটাবেজ চালু করেছে। এছাড়া অনলাইনে ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনের শর্তটি বাস্তবায়নের পথে। এজন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করতে আইএলও একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। শ্রম অধিদফতরের আওতায় প্রমোটিং ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপাল এ্যান্ড রাইটস এ্যাট ওয়ার্ক নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।