২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কথা বলা ও লেখার অধিকার এখন নেই ॥ এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাকস্বাধীনতাহীন গণতন্ত্র মানুষ চায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেছেন, মানুষ এখন কথা বলার ও লেখার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। দেশে এখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত।

বুধবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বরগুনা জেলা জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে বরগুনা জাপার নেতাকর্মীর মধ্যে তুমুল হট্টগোল হয়। এরশাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আমি মানুষ মারিনি, আমার হাতে রক্ত নেই এমন দাবি করে এরশাদ বলেন, কিন্তু এখন প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। কত মানুষ মরছে এর কোন হিসাব নেই। বিচার নেই। এ রকম অরাজকতা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়।

এরশাদ বলেন, আমরা জননন্দিত সরকার ছিলাম। এখনও দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে ক্ষতায় দেখতে চায়। কিন্তু এখন প্রতিদিন মানুষ মারা যায়, রাস্তায় মানুষের লাশ পড়ে থাকে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, মানুষ গুলিতে মারা যাচ্ছে। যারা ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে সেই হিন্দুদের জমি দখল হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন এই দখলবাজির সঙ্গে যুক্ত। নির্বিচারে মানুষকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। নিজের জমি ভোগদখলের সুযোগ নেই। এটা কেমন বাস্তবতা। এর চেয়েও কঠিন বিষয় হলো মানুষের প্রতিবাদের জায়গা নেই, সব সরকারের পক্ষে।

সরকারকে উদ্দেশ করে এরশাদ বলেন, তারা এখন গণতন্ত্রের কথা বলেন। কিন্তু নিজেরাই গণতন্ত্রের পক্ষে নয়। তারাই গণতন্ত্র চর্চা করে না। যেখানে সরকারের শেখানো ছাড়া গণমাধ্যম কথা বলতে পারে না সেখানে কিসের গণতন্ত্র।

মানুষ আজ বাঁচার অধিকার, কথা বলার অধিকার, লেখার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বাকস্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যম এখন কথা বলতে পারছে না। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সরকার যা চাইবে তাই লিখতে হবে। আমর সময় এমন ছিল না। তিনি বলেন, মানুষ কথা বলতে পারছে না। এ ধরনের গণতন্ত্র মানুষ চায় না। মানুষ প্রকৃত গণতন্ত্র চায়। তবে আমাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। এখন সময় এসেছে, মানুষ আমাদের চায়। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে মানুষ বাঁচতে পারবে, সন্ত্রাস থেকে মুক্তি পাবে। জনগণ কথা বলতে পারবে, সাংবাদিকরা লিখতে পারবে।

নেতাকর্মীর উদ্দেশে তিনি বলেন, পার্টিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। আগামী নির্বাচনে ‘এরশাদ ১৫১’, এটা মুখের কথা না, বাস্তব কথা। এজন্য তৃণমূল পর্যন্ত দলকে শক্তিশালী করার জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি। এরশাদ বলেন, বিগত সময়ে আমাদের ওপর একটার পর একটা অবিচার করা হয়েছে। আমাদের সময়ে আমরা কোন অবিচার করিনি। ক্ষমতায় টিকে থাকতে কোন এলিট ফোর্স গঠন করিনি। মায়ের পেটে শিশু গুলিবিদ্ধ হয়নি। এজন্য আমরা এখনও বেঁচে আছি। মানুষ ভালবাসে। ভোট দেয়। ভোট দেয় বলেই আমরা এখন বিরোধী দল। সাবেক সেনাপ্রধান এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি মানুষ মারার রাজনীতি করে না। কোনদিন করবেও না। আমরা জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। মানুষের সম্পদ নষ্টে বিশ্বাসী নই। জাতীয় পার্টি মানুষের ভালবাসায় বিশ্বাস করে। আমাদের উদ্দেশ্য এখন আগামী নির্বাচন। মতবিনিময় সভায় বরগুনা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য জাফরুল হাসান ফরহাদকে আহ্বায়ক করে জাতীয় পার্টি বরগুনা জেলা কমিটির ঘোষণা করেন এরশাদ।

আহ্বায়ক কমিটির প্রধান জাফরুল হাসান ফরহাদকে আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার সবাইকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বলেন পার্টির চেয়ারম্যান। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু। এছাড়া দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিরবিয়া টিপু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, শাহজাহান মনসুর, সাবেক সংসদ সদস্য ও বরগুনা জেলা জাতীয় পার্টির নেতা জাফরুল হাসান ফরহাদ, মকবুল হোসেন এবং লতিফ ফরাজী।

এদিকে জাতীয় পার্টির বরগুনা জেলা কমিটির মতবিনিময় সভায় এক নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হট্টগোল করেছেন জেলার নেতাকর্মীরা।