২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অষ্ট্রেলিয়াকে মোকাবেলার আগে মালয় পরীক্ষা বাংলাদেশের

অষ্ট্রেলিয়াকে মোকাবেলার আগে মালয় পরীক্ষা বাংলাদেশের
  • ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে মালয়েশিয়া গেল মামুনুলরা

রুমেল খান ॥ ১৯৭২ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল এর আগে সাফ, এএফসি, এশিয়া কাপ, ফিফা বিশ্বকাপ বাছাই এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলতে এশিয়ার অনেক দেশে গেছে। তবে এখনও আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে যাওয়া হয়নি ‘বেঙ্গল টাইগার্স’দের। পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন, এ তালিকায় অস্ট্রেলিয়া বা ওশানিয়া মহাদেশের নাম নেই কেন? এর উত্তর হচ্ছেÑ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল আর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রথমবারের মতো এই মহাদেশে ফুটবল খেলতে যাচ্ছে। সেটা ফিফা বিশ্বকাপের এবং এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলাটা সম্ভব হয়েছে দেশটি এশিয়া জোনে (এএফসি) নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হওয়ায়। তাছাড়া সর্বশেষ অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের শিরোপা জিতেছে ‘সকারুস’ খ্যাত অস্ট্রেলিয়াই। পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে (এ্যাওয়ে ম্যাচ) বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর। তবে অস্ট্রেলিয়াকে মোকাবেলা করার আগে মালয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে তাদের মাটিতে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৯ আগস্ট। এ লক্ষ্যে বুধবার রাত ১টা ২০ মিনিটে বিমানযোগে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ স্কোয়াড। তার মানে অসি-পরীক্ষার আগে মালয়-পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে লোডভিক ডি ক্রুইফের শিষ্যদের।

উল্লেখ্য, ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এশিয়া জোনের ‘বি’ গ্রুপে গত দুই ম্যাচে নিজেদের মাঠে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারের পর তাজিকিস্তানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। পক্ষান্তরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কিরগিজস্তানকে ২-১ গোলে হারায় অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার টিম কাহিল, জেডিনাক, টম রজিক, মাসিমো লুয়োনগো, রবি ক্রুনেসর মতো তারকা ফুটবলারের সঙ্গে বাংলাদেশের মামুনুল, হেমন্ত, এমিলি, জামাল, এনামুলদের তুলনা করলে যোজন ব্যবধানে পিছিয়েই থাকবে বাংলাদেশ। অনেকেই বলবেনÑ এটা হবে ‘অসম লড়াই।’ তারপরও এটা যেহেতু ফুটবল, তাই এখানে সবই সম্ভব। তাই ৩ সেপ্টেম্বর অসিভূমে অস্ট্রেলিয়া দলকে ভয় নয় বরং বিশ্বকাপ খেলুড়ে এই দলের তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে লড়াইটাকে অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলাররা।

বুধবার রাতে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে ৩৩ সদস্যের বাংলাদেশ জাতীয় দল (২৩ ফুটবলার)। সেখানে পৌঁছে ২৯ আগস্ট মালয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে প্রস্তুতিটা সেরে নেবে মামুনুল স্কোয়াড। এই ম্যাচটাতে ভাল করতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটায় আত্মবিশ্বাসটা বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন দলীয় অধিনায়ক মামুনুল ইসলামÑ ‘মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে এর আগে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে খেলেছি। এবার তাদের মাটিতে তাদের বিপক্ষে খেলব। অভিজ্ঞতাটা অন্যরকম হবে। তবে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সফল হলে আত্মবিশ্বাসটা বহুগুণে বেড়ে যাবে। তাই প্রস্তুতি ম্যাচটাতে ভাল করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা এখন রিফ্রেশম্যান্টে আছি। কোন মানসিক চাপ নেই। লীগে ভাল করেছি। শেখ জামাল এএফসিতে ভাল করেছে। সবমিলিয়ে আমরা উজ্জীবিত। তাই নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ভাল কিছু করা সম্ভব।’ অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে আটকে রাখতে হলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হবে। কোচ ক্রুইফও অবশ্য সেদিকেই নজর দিয়েছেন। দলে নাসির, তপু, ইয়াসিনসহ ৭ ডিফেন্ডারকে নিয়েছেন তিনি। দলের জার্মান গোলরক্ষক কোচ ক্রিস্টিয়ান শোয়েচলার মনে করছেন তিন সেরা গোলরক্ষককেই সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন তারাÑ ‘আমাদের সঙ্গে আমরা সেরা তিন গোলরক্ষককেই নিয়ে যাচ্ছি। হেড কোচ আর আমি এ বিষয়ে একমত। বিশেষত সোহেলকে পেয়ে আমি খুব খুশি। সে লীগে ভাল করেছে। দলের সঙ্গে সে যোগ হয়েছে সেটা খুব ভাল হয়েছে। তবে লিটন আর রানাও অনেক ভালমানের গোলরক্ষক।’

জামালের হয়ে খেলা গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেলও চান যদি অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে খেলার সুযোগ পান তবে নিজের সেরাটাই উপহার দিতে। দলের নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার জামাল ভুইয়া বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া দলে কাহিল ছাড়াও ক্রিস্টার প্যালেসে মিডফিল্ডে খেলে যারা, তারা দারুণ খেলেন। আমি মিডফিল্ডে খেলি। এখানে অনেক চাপ। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভাল ফল করা সম্ভব। যেকোন ম্যাচই হোক তা অস্ট্রেলিয়া কিংবা অন্য দল শতভাগ দিয়ে খেলতে পারলে যেকোন কিছু সম্ভব। অস্ট্রেলিয়া এশিয়ার এক নম্বর দল এটা সবারই জানা। মিডফিল্ডে প্রতিটি ম্যাচে আমি এবং মামুনুল যা করি এই ম্যাচেও তাই করব। আশাকরি ভাল কিছু উপহার দিব। আমাকে শুধু মিডফিল্ড নয়, প্রয়োজনে ডিফেন্সও সামলাতে হবে। মামুনুল মাঝে থাকবে। এছাড়া আমাদের জুয়েল রানা, সোহেল এবং জাহিদের মতো দ্রুতগতির উইঙ্গার আছে। তারা ভাল খেললে ভাল একটা ফল আসবে।’

ডাচ্ কোচ ক্রুইফ বলেন, ‘গোলকিপার কোচের ওপর আমি সন্তুষ্ট। তিনি অনুর্ধ-১৬ এবং ১৯-এর হয়ে দারুণ কাজ করেছেন। এখন তিনি সোহেলকে নিয়ে কাজ করছেন। সোহেল আমাদের সবচেয়ে লম্বা গোলকিপার। অনেক দিন ইনজুরিতে ছিল। গোলকিপার হচ্ছে দলের সবচেয়ে ভিন্ন খেলোয়াড়, তাদের নিয়ে আলাদা কাজ করতে হয়। তাদের ঠিকমতো পরির্চযা করলে ডেডলাইন থেকে কম গোল হয়। তাদের নিয়ে কাজ করলে তারা শুধু গোলকিপারের নয়, ডিফেন্সেরও দায়িত্ব পালন করতে পারে, যাতে সেটপিসসহ অন্যান্য গোল কম হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের ৯০ মিনিট আক্রমণাত্মক খেলা অসম্ভব। আমাদের যতটা সম্ভব তাদের বিপক্ষে ডিফেন্সিভ খেলতে হবে। আমরা ৮০-৮৫ ভাগ ডিফেন্সিভ খেলব অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। নাসির দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আর্মি থেকে সে এসেছে। তাকে খুব মিস করব। তিন সপ্তাহের আগে তাকে পাওয়া সম্ভব নয়। ইয়াসিন হ্যামস্ট্রিংয়ে আক্রান্ত। তার সেরে ওঠতে তিন-চার দিন লাগবে।’

এখন দেখার বিষয় মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে কেমন ফল করে বাংলাদেশ।