২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্রীলঙ্কা-ভারত শেষ রোমাঞ্চের অপেক্ষা...

  • শুক্রবার শুরু সিরিজ নির্ধারণী শেষ টেস্ট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শ্রীলঙ্কার মাটিতে দীর্ঘ ২২ বছর টেস্ট সিরিজে জয় নেই ভারতের। তরুণ বিরাট কোহলির দল এবার লঙ্কায় পা রাখার পর থেকেই এ নিয়ে চলছে আলোচনা। পারবে কি মোড়ল ভারত? আড়াই দিন এগিয়ে থাকার পরও গলের প্রথম টেস্টে নাটকীয়ভাবে ৬৩ রানে হারের পর আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অনেকে। বদলে গেছে দৃশ্যপট। কলম্বোর পি সারা ওভালে দ্বিতীয় টেস্টে ২৭৮ রানের বড় জয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা। সিরিজ ১-১। রাজধানী কলম্বোর-ই অপর ভেন্যু সিংহলি স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি হয়ে উঠেছে ‘অঘোষিত ফাইনাল’। সিরিজ ফয়সালার লড়াইয়ে প্রস্তুত দু’দল। গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারার বিদায়ে এ ক’দিন বুদ হয়ে ছিল গোটা দ্বীপদেশ, এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের নেতৃত্বাধীন লঙ্কানরা মরণকামড় দিতে মরিয়া, সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে আত্মবিশ্বাসী কোহলি বাহিনীও। অবশ্য সিরিজ নির্ধারণী মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার আগে দু’দলই পড়েছে একাধিক সমস্যায়। মোহাম্মদ আজহার উদ্দীনের নেতৃত্বে সেই ১৯৯৩ সালের পর লঙ্কার মাটিতে সিরিজ জিততে ব্যর্থ ভারত শেষ টেস্টে পাচ্ছে না দুই নিয়মিত ওপেনার মুরলি বিজয় ও শিখর ধাওয়ানকে। এমনকি মহেন্দ্র সিং ধোনি অবসরে যাওয়ার পর ক্রমশ নিজেকে মেলে ধরা উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমানও ইনজুরিতে। ব্যাটসম্যান নিয়ে সমস্যা নেই, কিন্তু বিকল্প কোন উইকেটরক্ষক না থাকায় এখানটাতেই বড় সমস্যায় পড়তে হবে কোহলিকে। লোকেশ রাহুলকে দিয়ে কিপিংয়ের কাজ চালাতে হবে, অথবা অভিষেক হতে পারে ৩২ বছর বয়সী নামান ওঝার। মুরলি বিজয় ছিটকে যাওয়ায় সিংহলি স্পোর্টস ক্লাবের শেষ লড়াইয়ে ওপেনিং জুটি হবেন লোকেশ রাহুল ও চেতেশ্বর পূজারা। কোহলি বলেন, ‘যদি পূজারাকে দলের প্রয়োজনে ওপেন করতে বলা হয়, ও খুব খুশির সঙ্গে সেটা করবে এবং এ রকম আস্থা সতীর্থ এবং ম্যানেজমেন্ট থেকে আমাদের কাম্য। আমি বিশ্বাস করি কোন নির্দিষ্ট ম্যাচে সেই ম্যাচের উপযুক্ত সেরা এগারোকেই খেলানো প্রয়োজন।’ যুক্তি দেখিয়ে অধিনায়ক আরও বলেন, ‘পূজারা সলিড টেকনিক্যাল ব্যাটসম্যান। উপমহাদেশের নতুন বলের বোলারদের বিপক্ষে ও আগেও ওপেন করেছে। ভারতে কয়েকটা ম্যাচে ওর ওপেন করার ব্যাপারটা আমার মনে আছে। মূলত সেটা থেকেই সিরিজ নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ টেস্টে ওকে ওপেনিংয়ে নামানোর চিন্তাটা মাথায় এসেছে।’ বোলিং নিয়ে সমস্যা নেই ভারতের। দ্বিতীয় টেস্টে সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন আশ্বিন ও অমিত মিশ্রর। দু’জন মিলে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। দুই টেস্টে ১৭ উইকেট নেয়া আশ্বিনই হয়ে উঠেছেন তুরুপের তাস। অতিথি অফস্পিনারকে নিয়ে টেনশন গোপন করেননি স্বাগতিক অধিনায়কও। চার ইনিংসেই গ্রেট সাঙ্গাকারাকে আউট করা আশ্বিন সম্পর্কে ম্যাথুস বলেন, ‘ওকে পাল্টা আক্রমণ করার জন্য আমাদের একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে। এক ওভারে সে ভাল-খারাপ দুই ধরনের বলই করবে। সেটা হিসেব করে আমাদের রান করতে হবে।’ গ্রেট সাঙ্গাকারার অবসরের পর নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। মাহেলা জয়াবর্ধনে আগেই বিদায় নিয়েছেন। যে কারণে দলটির টপ-অর্ডার ব্যাটিংয়ে তৈরি হয়েছে বড় রকমের শূন্যতা। ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতার বড় অভাব। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৬২ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের। অধিনায়ক ম্যাথুস খেলেছেন ৫২টি টেস্ট। জয় দিয়ে সাঙ্গাকারাকে বিদায় জানাতে না পেরে হতাশ অধিনায়ক বলেন, ‘সাঙ্গা গ্রেট, আমাদের অনুপ্রেরণা, বিদায় বেলায় তাকে জয় উপহার দিতে চেয়েছিলাম; কিন্তু পারিনি। তবে শেষ টেস্টে ভাল খেলে সিরিজ জিতব বলে প্রতিজ্ঞা করেছি।’ সাঙ্গার পরিবর্তে ২০ টেস্টে ৩১ গড়ে ১,১১৩ রান করা উপুল থারাঙ্গাকে নামানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাহেলার পর সাঙ্গার বিদায়, তার ওপর দ্বিতীয় টেস্টে কোহলিদের আগুনঝরানো পারফর্মেন্স, সব মিলিয়ে শেষ টেস্টে কিছুটা হলেও চাপে থাকছে স্বাগতিক লঙ্কানরা।