১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘ঘুম থেকে উঠেই মনে হলো, আমি এখন সাবেক’

  • কুমার সাঙ্গাকারা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা। বিচক্ষণ বুদ্ধিমত্তা আর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব যাকে আর দশজন ক্রিকেটার থেকে আলাদা মর্যাদার আসন দিয়েছে। আবেগের বশে বিদায় বেলায় গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ই বলতে ভুলে গিয়েছিলেন সেই সাঙ্গা। উল্লেখ করা হয়নি প্রিয় স্ত্রীর নাম। আদর্শ সাঙ্গাকারা হয়ে উঠতে বাবার পরই যার অবদান সবচেয়ে বেশি। চিন্তার অবকাশ পেয়ে এবার সেটিই জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি লঙ্কান গ্রেট ‘সাবেক’ উপাধিটাও উপলব্ধি করতে পারছেন।

‘কলম্বো টেস্টের পরদিন ঘুম থেকে উঠতে প্রথম একটি কথাই মনে হলো, আমি এখন সাবেক ক্রিকেটার’Ñ বলেন সাঙ্গাকারা। তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিদায় বেলায় স্ত্রীর কথা বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে ইয়েহালি এতটুকু রাগ করেনি।’ স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাঙ্গাকারা বলেন, ‘আমার ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে বড় নেপথ্য কুশীলব ইয়েহালিই। একজন এশীয় ক্রিকেটারের স্ত্রী হিসেবে সে আমার মাঠের বাইরের জীবনটা সামলেছে অসম্ভব কারিশমার সঙ্গে। যৌক্তিক, অযৌক্তিক সমালোচনাগুলোও অনেক সময় সে সামলে আমায় ভারমুক্ত করেছে। আমার যমজ দুই সন্তানের পুরো টেনশন সে নিয়েছে, সংসারের কোন বিষয়েই জড়িয়ে বিব্রত করতে চায়নি। আমি যেন আমার বেশিরভাগ ভাবনা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে দিতে পারিÑ ইয়েহালি এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতাই করেছে। ওর আত্মত্যাগ ছাড়া আমি আজকের সাঙ্গাকারা হয়ে উঠতে পারতাম না।’

মাঠের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘অন্যদের মতো আমিও রূপকথার মতো শেষ চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম শেষ টেস্টে একটা সেঞ্চুরি, অথবা শ্রীলঙ্কার জয়। কিছুটা হতাশ, তবে অনুতপ্ত নই। ভারত এই ম্যাচে ভাল খেলেছে। জয়টা ওদেরই প্রাপ্য ছিল। তবে পাঁচটা দিন আমার জন্য ছিল খুবই স্পেশাল। বিশেষ করে শেষ দিন, যেদিন আমার মতো সবাই কান্না চাপাতে পারেনি। ভারতীয় খেলোয়াড়রা আমার জন্য যা যা করেছে, তা আমাকে ছুঁয়ে গেছে। ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ মানেই টাফ ক্রিকেট। মাঠের বাইরে আমরা একে অন্যকে শ্রদ্ধা করি। আমি শেষবার আউট হওয়ার পর ওরা আমাকে যেভাবে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে আমাকে ঘিরে ধরে, হ্যান্ডশেক করে, শুভেচ্ছা জানায়, তা আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।’

বিদায়ী তারকা আরও উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আমার গোটা পরিবার যেভাবে পি সারা ওভালে এসেছিল, তাতে উপলক্ষটা আলাদা মাত্রা পেয়েছে। আসলে আমাদের সবার এভাবে এক হওয়াটা একেবারেই হয়ে ওঠে না। ওরা সবাই মাঠে ছিল, সাইডলাইনে বসে খেলা দেখেছে। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। আবেগে গলাটা এমন শুকিয়ে গেল, শব্দগুলো এভাবে হারিয়ে গেল যে বিদায়ী বক্তৃতায় স্ত্রী ইয়েহালির কথা বলতেই ভুলে গেলাম!’