২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘নজরুল তারিখ অভিধান’ প্রসঙ্গে

  • মাহবুবুল হক

গত কয়েক দশকে কাজী নজরুল ইসলামের জীবনবৃত্তান্ত রচনার কাজে উল্লেখযোগ্য নানা প্রচেষ্টা চলেছে। কিছু জীবনীগ্রন্থও রচিত হয়েছে। কিন্তু রফিকুল ইসলাম, অরুণকুমার বসু প্রমুখ কয়েকজন সনিষ্ঠ গবেষকের গ্রন্থ ছাড়া অন্য জীবনীগুলো নানা সীমাবদ্ধতা-চিহ্নিত। নজরুলের জীবনবৃত্তান্ত রচনার কাজে নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সার্বিক বিবেচনায় বলতে হয়, নজরুলের তথ্যনিষ্ঠ সুগ্রথিত পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচনার কাজ এখনও অসমাপ্ত রয়ে গেছে বলা চলে।

নজরুলের পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচনার ক্ষেত্রে বাস্তব কিছু সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, কবির কর্ম ও সৃজনের সঙ্গে যাঁরা সুপরিচিত ছিলেন, তাঁদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে প্রয়াত। দ্বিতীয়ত, তাঁর জীবন ও সৃষ্টি সংক্রান্ত তথ্য-উপকরণগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সুপরিকল্পিত সার্বিক উদ্যোগ নেয়া হয়নি বললেই চলে। যতই দিন যাচ্ছে নজরুল-জীবনীর আকর-উপাদান প্রাপ্তি বা উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তৃতীয়ত, সাহিত্যিক জীবনে নজরুল পত্র-পত্রিকায় গুরুত্ব ও প্রচার পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সম্পর্কিত সব সংবাদ-তথ্য সংগৃহীত, সংরক্ষিত ও সংকলিত হয়নি; চতুর্থত, নজরুল জীবনের লুপ্তপ্রায় তথ্য-উপকরণ উদ্ধার ও সংগ্রহের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছাড়াও যে বিপুল ও ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ দরকার, সে রকম কোন সুপরিকল্পিত, সুসমন্বি^ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে নজরুলের তথ্যনির্ভর, কালানুক্রমিক ও ধারাবাহিক জীবনপঞ্জি রচনার সহায়ক কাজ হিসেবে আমি নজরুল তারিখ অভিধান প্রণয়নে আগ্রহী হই। কাজে হাত দিয়েই বুঝতে পারি, কাজটি সহজ নয়। প্রামাণ্য তথ্যের অভাব, সন-তারিখের বিভ্রান্তি, নজরুলকে নিয়ে নানা গালগল্প ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। এগুলোকে বিবেচনায় নিয়েই দীর্ঘদিনের শ্রমে আমি একটি পা-ুলিপি প্রণয়ন করি। নজরুলের জন্মশতবর্ষে তা প্রকাশের জন্য নজরুল ইনস্টিটিউটে জমা দিই। ইনস্টিটিউটের তৎকালীন পরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা সানন্দে এটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তখন নানা কারণে এটি প্রকাশিত হয়নি। এই অবস্থায় সেই ১৯৯৯ থেকে ২০১০Ñ এই কালপর্বে আমি তথ্য অনুসন্ধান, ভ্রান্তি নিরসন ও তথ্য সংযোজনের মাধ্যমে নজরুলের জীবনপঞ্জি পুনর্গঠনের কাজ অব্যাহত রাখি। ২০১০ সালের জুনে এটি আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ আকারে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

নজরুলের পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচনার ক্ষেত্রে সহায়ক উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে নজরুল রচনাবলী, নজরুলের লেখা ও নজরুলকে লেখা চিঠিপত্র, সরকারী দলিলপত্র, সান্নিধ্যে আসা ব্যক্তিদের স্মৃতিভাষ্য এবং নজরুলের জীবন ও সৃষ্টির তথ্য সংবলিত বই ও পত্রপত্রিকা। নজরুল তারিখ অভিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমি এসব উপকরণ ব্যবহার করেছি।

জীবনী রচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ লেখকের সৃষ্টিকর্ম। সেগুলোতে প্রত্যক্ষ উপাদান পাওয়া না গেলেও কিছু না কিছু পরোক্ষ উপাদান মেলে। নজরুলের কবিতা-গানের রচনাকাল থেকে সে সময়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য মেলে। দুঃখের বিষয়, নজরুলের সব সৃষ্টিকর্মের রচনাকাল জানা যায় না। সব সংস্করণও পাওয়া যায় না। এ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁর কিছু কবিতা ও গানে রচনার তারিখ ও স্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।

নজরুলের চিঠিপত্র তাঁর জীবনপঞ্জি রচনার বিশেষ সহায়ক উপাদান হিসেবে বিবেচ্য। কিন্তু আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও ভক্ত-অনুরক্তদের কাছে লেখা তাঁর বহু চিঠির কোন হদিস নেই। আবার নজরুলকে লেখা বিভিন্ন জনের চিঠিপত্রও সংরক্ষিত বা সংগৃহীত হয়নি। যেমন ঢাকার ফজিলাতুন্নেসার প্রেমে পড়ে তাঁকে নজরুল যেসব চিঠি লিখেছিলেন, সেগুলো উদ্ধার বা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত খুব অল্পসংখ্যক চিঠিই নজরুল তারিখ অভিধানে কাজে এসেছে।

সরকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক দলিলপত্র নজরুল জীবনপঞ্জি রচনার জন্য অপরিহার্য। কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, পুলিশের মহাফেজখানায় নজরুল সম্পর্কিত নানা প্রতিবেদনমূলক দলিল আছে। শিশির কর, ভূঁইয়া ইকবাল প্রমুখ গবেষক কিছু দলিল সন্ধান করে সেগুলো থেকে তথ্য উদ্ধার করেছেন। সক্রিয় কর্মজীবনের শেষ কয়েক বছরে নজরুল কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। বেতার জগৎ পত্রিকার অনুষ্ঠান পরিচিতিতে তাঁর বহু অনুষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। সে সব তথ্য তুলে ধরেছেন ব্রহ্মমোহন ঠাকুর। এসব তথ্য এ বই প্রণয়নে কাজে লেগেছে।

নজরুল-সম্পর্কিত স্মৃতিকথা নজরুল-জীবনী রচনার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলেও সব পুরোপুরি প্রামাণিক তথ্যনির্ভর নয়। কোন কোন স্মৃতিকথায় রয়েছে অতিরঞ্জিত গালগল্প, কোন কোন স্মৃতিকথায় ঘটেছে পরস্পরবিরোধী তথ্যের সমাবেশ। স্মৃতিভ্রমজনিত তথ্য-বিভ্রান্তিও দুর্লক্ষ্য নয়। তাই প্রামাণিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে উপকরণ হিসেবে স্মৃতিকথার ওপর সব সময় নির্ভর করা চলে না। নজরুল-জীবনীর উপকরণ হিসেবে যেসব স্মৃতিকথা পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে মুজফ্ফর আহমদের নজরুল ইসলাম : স্মৃতিকথা নজরুল জীবনের নানা তথ্যে সমৃদ্ধ ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। এ ছাড়া প্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায়, খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন, শামসুন নাহার মাহমুদ, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন প্রমুখের স্মৃতি-গ্রন্থে নজরুল-জীবনের নানা তথ্য-উপকরণ পাওয়া যায়। নজরুলের আত্মীয়স্বজন এবং সংগীত-শিল্পীদের স্মৃতিচারণও নজরুল-জীবনীর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এসব উপকরণ নজরুল তারিখ অভিধান রচনার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

নজরুলের জীবন-তথ্যে সমৃদ্ধ কিছু গবেষণাধর্মী কাজও নজরুল তারিখ অভিধান প্রণয়নে বেশ কাজে লেগেছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য রফিকুল ইসলাম, অরুণকুমার বস, আজহারউদ্দীন খান, আবদুল আজীজ আল আমান, সুশীল কুমার গুপ্ত, গোপাল হালদার, শেখ দরবার আলম, কল্পতরু সেনগুপ্ত, অজিত দাস, নীরদবরণ হাজরা প্রমুখের গ্রন্থ। আবদুল কাদির সম্পাদিত নজরুল রচনাবলী-র জন্মশতবর্ষ সংস্করণ (১০ খ-), পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসংগ্রহ (৭ খ-) ইত্যাদিও বর্তমান গ্রন্থ প্রণয়নে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছে।

নজরুল তারিখ অভিধান রচনায় স্থানিক তথ্য-উপকরণও ব্যবহৃত হয়েছে। নজরুল বিভিন্ন সময়ে যেসব এলাকায় বসবাস করেছেন, যেসব স্থান সফর করেছেন, সেসব সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য-উপাদান সন্নিবেশিত হয়েছে এ গ্রন্থে। নজরুল যেসব ব্যক্তির সান্নিধ্যে এসেছিলেন তাঁদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সম্পর্কের তথ্যও এখানে উঠে এসেছে। নজরুলের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক জীবন, চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনে তাঁর ভূমিকা ও অবদানের দিকগুলোও বাদ যায়নি। তবে এও সত্য যে, বহু তথ্য এখনও অজানা রয়ে গেছে।

নজরুল তারিখ অভিধান রচনা করতে গিয়ে প্রাপ্ত সব ধরনের তথ্য যাচাই, বিশ্লেষণ, বিচার করতে হয়েছে। নিরূপণ ও নিরসন করতে হয়েছে তথ্যভ্রান্তি। এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। ম. ইনামুল হক কার্পাসডাঙ্গায় নজরুল (১৯৯১) পুস্তিকায় জানিয়েছেন যে, নজরুল ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে স্ত্রী প্রমীলা, পুত্র সব্যসাচী ও অনিরুদ্ধকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার কার্পাসডাঙ্গায় আসেন। কার্পাসডাঙ্গায় তিনি কংগ্রেস নেতা হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাড়িতে দু’মাস ছিলেন। এখানে মারাত্মক তথ্যভ্রান্তি রয়েছে। কারণ, ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে সব্যসাচী ও অনিরুদ্ধর জন্মই হয়নি; সব্যসাচীর জন্ম ১৯২৯-এ, আর অনিরুদ্ধের জন্ম ১৯৩১-এ।

নজরুলের জীবনপঞ্জি রচনার ক্ষেত্রে তারিখ-সমস্যা একটা বড় সমস্যা। এ ব্যাপারে সংশয় ও বিভ্রান্তি অনেক। যেমন, নজরুলের জন্মতারিখ নিয়ে দীর্ঘদিন আমরা সংশয়াচ্ছন্ন থেকেছি। তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে অনেক। সুফী জুলফিকার হায়দার নজরুলের বরাত দিয়ে তাঁর জন্ম তারিখ ১১ জ্যৈষ্ঠের বদলে ১১ বৈশাখ বলে উল্লেখ করে সংশয় সৃষ্টি করেছিলেন। নজরুলের জন্ম তারিখ এখন ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ অর্থাৎ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪-এ মে বলে সবাই মেনে নিয়েছেন। কিন্তু ঐ দিনটি কি বার ছিল তা নিয়ে বিভ্রান্তি এখনও কাটেনি। আবদুল কাদির লিখেছিলেন বুধবার, রফিকুল ইসলাম লিখেছেন মঙ্গলবার। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত নজরুল-রচনাবলী-তে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে মঙ্গলবার। আবার পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্রে দিনটি সম্পর্কে বলা হয়েছে মঙ্গলবার (মতান্তরে বুধবার)। কিন্তু কলকাতা থেকে প্রকাশিত ১৩০৬ বঙ্গাব্দের গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা নিরীক্ষণে দেখা যায় দিনটি ছিল বুধবার।

নজরুলের কয়েকটি গ্রন্থের প্রকাশকালের সন-তারিখগত পার্থক্যও প্রসঙ্গত উল্লেখ্য। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত জন্মশতবর্ষ সংস্করণ নজরুল-রচনাবলী এবং পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্রে নজরুলের বেশ কয়েকটি গ্রন্থের প্রকাশকালের সন-তারিখগত বিভিন্নতা দেখা যায়। যেমন : নজরুল-রচনাবলী-তে ‘রিক্তের বেদন’-এর প্রকাশকাল ১ মার্চ ১৯২২, রচনাসমগ্রে প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ১৯২২। নজরুল-রচনাবলী-তে ‘ব্যথার দান’-এর প্রকাশকাল ১২ জানুয়ারি ১৯২৫, রচনাসমগ্রে প্রকাশকাল ডিসেম্বর ১৯২৪। নজরুল-রচনাবলী-তে ‘রুদ্রমঙ্গল’-এর প্রকাশকাল ১৯২৭, রচনাসমগ্রে ১৯২৫-১৯২৬। সন-তারিখগত এ রকম পার্থক্য আরও আছে।

পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্রের ৭ম খ-ে নজরুলের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি দেয়া হয়েছে। এটিও তথ্য বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত নয়। যেমন:

১. নজরুলের পিতার মৃত্যু ১৩১৪ বঙ্গাব্দের ৭ চৈত্র অনুযায়ী হবে ২০ মার্চ ১৯০৮। কিন্তু লিপিবদ্ধ হয়েছে ৮ এপ্রিল (পৃ. ৬৪৯)।

২. নজরুলের তৃতীয় পুত্রের জন্ম তারিখ বলা হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। আসলে তা হবে ৯ অক্টোবর।

বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত নজরুল-রচনাবলী প্রথম খ-ে সন-তারিখের ভুলসহ বিভিন্ন ভুল ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন: ‘বিষের বাঁশি’ ১৬ শ্রাবণ প্রকাশিত হয় বলে গ্রন্থ পরিচয়ে উল্লেখ আছে। সে হিসেবে খ্রিস্টাব্দে প্রকাশকাল হবে ১ আগস্ট, কিন্তু ছাপা হয়েছে ১০ আগস্ট।

এ জাতীয় ভুলভ্রান্তি নজরুল-জীবনীর প্রামাণিকতা, নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে সংশয়াচ্ছন্ন করে তোলে। নজরুল তারিখ অভিধান-এ তাই প্রামাণ্য তারিখ যথাসম্ভব নির্দিষ্ট করে এ ধরনের বিভ্রান্তি নিরসনে প্রয়াসী হয়েছি। তারিখ নির্দেশের ক্ষেত্রে বঙ্গাব্দের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ খ্রিস্টীয় সন ব্যবহৃত হয়েছে।

নজরুল জীবনীর উপকরণ পাওয়ার সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তাই লুপ্তপ্রায় উপকরণ সন্ধান ও সংগ্রহ বিশেষ জরুরী। এ ব্যাপারে সুপরিকল্পিত, সুসমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা দরকার। যে সব উপকরণ পাওয়া গেছে সেগুলোর প্রামাণিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রামাণ্য বা নির্ভরযোগ্য জীবনী গ্রন্থ রচনার জন্য অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রেও সমন্বিত গবেষণার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। নজরুলের জীবন পরিক্রমা দুই বঙ্গে পরিব্যাপ্ত ছিল। তাই নজরুল জীবনী রচনার কাজে উভয় বঙ্গেই যৌথ ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণের কথা ভাবা যেতে পারে।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়