২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনে জয়ী হব ॥ সুচি

  • ‘গণতন্ত্রের পথে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়’

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সুচি মঙ্গলবার বলেছেন, তার দেশের আসন্ন ঐতিহাসিক নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে তার দলই বিজয়ী হবে বলে তিনি আস্থাশীল। তবে তিনি গণতন্ত্রের পথে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর এএফপির

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সুচি এএফপির সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে আশা ব্যক্ত করেন যে, তার ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) নবেম্বরের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবে। এনএলডি সরকারবিরোধী দল।

এনএলডি ২৫ বছরের মধ্যে এ প্রথম কোন দেশভিত্তিক নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। দেশটিতে প্রায় অর্ধশতক ধরে সামরিক শাসন চলে। দলটি ১৯৯০ সালে পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে, কিন্তু সেনাবাহিনী দলটিকে ক্ষমতায় যেতে দেয়নি।

তিনি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হবেন বলে আস্থাশীল কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই যদি নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়। তিনি এএফপিকে বলেন, যদি আমরা ইতিপূর্বেকার সরকারগুলোর দিকে তাকাই, তা হলে আমাদের আরও ভাল এক সরকার গঠনে সক্ষম হওয়া উচিত। এটি ছিল দেশটির নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসার এ সময়ে তার অন্যতম আশাব্যঞ্জক মন্তব্য। এটিই দেশের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ নির্বাচন হবে বলে অনেকে আশা করছেন।

২০১১ সালে বর্তমান আধা-সামরিক সরকার সেনা শাসনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর সুচির নেতৃত্বে দলটি পার্লামেন্টে বেশকিছু সংখ্যক আসনে জয়ী হয়। কিন্তু মিয়ানমারের জান্তা আমলের সংবিধান তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। সম্প্রতি সেই বাধা দূর করার চেষ্টা করা হলে এখনও শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও এর মিত্ররা তা ব্যর্থ করে দেয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রবীণ এই নেত্রী বলেন, তিনি নির্বাচনের আসে বিভিন্ন অনিয়মগুলো নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দীর্ঘদিন একঘরে থাকা দেশটিকে গণতান্ত্রিক বলে অভিহিত হতে হলে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। সুচি বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার দলের বিরুদ্ধে ধর্মকে কাজে লাগানোতে তারা উদ্বিগ্ন। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে চরমপন্থী জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার করতে থাকায় তিনি এ উদ্বেগ ব্যক্ত করলেন। তিনি বলেন, আমরা প্রতারণা ও অন্যান্য অনিয়ম নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।

চলতি মাসের প্রথম দিকে প্রেসিডেন্ট ও সাবেক জেনারেল থেইন সেইন নিরাপত্তা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী শোয়ে মানকে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দলের ভিতর এক নাটকীয় অভ্যুত্থান ঘটান। একে নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী ও এর মিত্রদের সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়।

শোয়েমানের সঙ্গে বিরোধী নেত্রী সুচির আন্তরিক সম্পর্ক থেকে এ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছিল যে, তারা শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রতি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠত এমন এক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছিলেন। পার্লামেন্টের স্পীকার হিসেবে শোয়ে মান এখনও যথেষ্ট প্রভাবের অধিকারী।

পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এনএলডি দলে সুচির কোন স্পষ্ট উত্তরাধিকারী না থাকায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। বিশেষত ৮ নবেম্বরের নির্বাচনের পরের মাসগুলোতে যখন পার্লামেন্ট কোন প্রেসিডেন্ট বাছাই করবে তখন সেই অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হতে পারে।