২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চীনের শেয়ার বাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ধস থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চীনের শেয়ারবাজারে। বুধবার লেনদেন শুরু হওয়ার পর সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কম্পোজিট সূচকের পতন ঘটে ১ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে সূচকটি ২৯৩০ পয়েন্টে নেমে এসেছিল। তবে সে অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বাজার। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চীনের শেয়ারবাজারের সূচক ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার পয়েন্টের ওপরে এসে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে চীনের শেয়ারবাজারের সূচকের পতন হয়েছে ১৬ শতাংশ।

চীনের শেয়ারবাজারের পতনের প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শেয়ারাবাজারে সোমবার বড় ধরনের পতন ঘটে। বড় ধরনের পতনের কারণে শেয়ারবাজারের জন্য ‘কালো সোমবার’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম।

তবে সোমবারের বড় ধরনের পতনের পর মঙ্গলবার ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পতন থেকে বের হতে পারেনি চীনের বাজার। সোমবার ৮ দশমিক ৫ শতাংশ পতনের পর মঙ্গলবার আরও ৭ দশমিক ৬ শতাংশ পতন ঘটে সূচকের। ফলে দেশটির সাংহাই কম্পোজিট সূচক নেমে আসে ৩ হাজার পয়েন্টের নিচে। বাজার পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেয়। ০ দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে সুদের হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। মূলত শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সুদের হার কমায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছরের নবেম্বরের পর এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সুদের হার কমাল দেশটি। কিন্তু সুদের হার কমানোর পরও বুধবার লেনদেন শুরু পর বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। তবে লেনদেনের সময় বাড়ার সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাজার। সুদের হার কমানোর ফলে ব্যাংক থেকে ব্যবসায় ও ব্যক্তিগত ঋণ নেয়া আগের থেকে সহজ হবে।

এদিকে ঋণের সুদের হার কমানোর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ারবাজারে প্রভাব পড়ার চেয়ে চীনের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিদিনের শেযারবাজারের লেনদেনে হস্তক্ষেপ না করে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতির জন্য ফলপ্রসূ হবেÑ এমন বিষয়টি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে চীনের পলিসি লেভেল থেকে বলা হয়েছে।

মার্জিন লোন নিয়ে বিনিয়োগের কারণে গত এক বছরে চীনের শেয়ারবাজার ফুলে ফেঁপে উঠে। দেশটির শেয়ারবাজারের সূচক এ সময়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। গত জুন মাসে মার্জিন লোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে শেয়ারবাজারে ধস শুরু হয়। এরপর দেশটির সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েও বাজারের গতি ফেরাতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির মুদ্রা ইয়েনের মান ডলারের তুলনায় দুই দফায় প্রায় ৩ শতাংশ অবমূল্যায়ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রফতানি আয় কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়। মুদ্রার মান কমে যাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ভীতির সঞ্চার করে।