২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেললাইন প্রকল্পে ধীরগতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা ॥ ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেললাইন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে না। প্রথম অবস্থায় চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার সময় নির্ধারিত থাকলেও এখনও মাটি ভরাট কাজই শেষ হয়নি। অথচ এটি সরকারের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক মোঃ সুবক্তগীন জানিয়েছেন, বর্ষণজনিত কারণে মাটি ভরাটে সমস্যা, মাটি পরীক্ষা কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। তাই আগামী জুনের মধ্যেও এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৪৫ থেকে ৫০% কাজ হয়েছে। রেলওয়ের পাকশী বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, বর্ষার কারণে মাটি ভরাট কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মাটি ভরাটের পাশাপাশি মাঝগ্রাম, দাশুড়িয়া, টেবুনিয়া ও পাবনায় স্টেশন নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। ঢালারচর পর্যন্ত মোট ১১টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেললাইন প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আসাদুজ্জামানের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নতুন এখানে এসেছি, সবকিছু এখনও জানার সুযোগ হয়নি। মাঝগ্রাম থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ১শ’ ২টি ছোট ব্রিজ এবং ১১টি বড় ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ঈশ্বরদীর মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত ৩৬টি ছোট ও ২টি বড় ব্রিজ এবং পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৬টি ছোট ও ৯টি বড় ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ফেজে ৫টি প্যাকেজে ১৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট, রেললাইন স্থাপন, রেলক্রসিং গেট, পাবনা পর্যন্ত স্টেশন নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। গত ৪ মার্চ নিয়মিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেললাইন প্রকল্পে ৬৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বানের অনুমোদন দেয়া হয়। সেই টেন্ডার অনুযায়ী কাজ চলছে। ঈশ্বরদী-ঢালারচর ভায়া পাবনা রেলপথের কাজ ২০১০ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়। এর আগে ওই বছরেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি পাস করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদীর অদূরে মাঝগ্রাম রেলস্টেশন থেকে পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার রেললাইন ও ১১টি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের সময় এক টেলি-কনফারেন্সে পাবনায় রেলপথ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সেই অনুযায়ী প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। এই রেলপথ নির্মাণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের আমুল পরিবর্তন হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গুনগত পরিবর্তন ঘটবে। রেলপথে পণ্য পরিবহনে স্বল্প খরচে এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি পণ্য সহজেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। মানুষও কম সময় ও খরচে যাতায়াত করতে পারবে। পাবনা জেলাবাসী দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এ রেলপথ চালুর শুভ দিনের অপেক্ষায় রয়েছে।