১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘গ্রাস’ দিয়ে ফিরলেন রানী সরকার

এক সময় দাপুটে অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। মাঝে কয়েকটা সিনেমায় অভিনয় করলেও নিয়মিত এখন আর তিনি অভিনয় করেন না। বাংলা সিনেমার সোনালী সময়ে অভিনয় করেছেন দাপটের সঙ্গে। ঝগড়াটে মহিলার চরিত্রে তিনি ছিলেন বেশ জনপ্রিয়। নবীন নির্মাতা মারিয়া তুষারের মুক্তি প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘গ্রাস’-এ অভিনয় করেছেন তিনি। আনন্দকণ্ঠের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে তিনি মেলে ধরেছেন স্মৃতির ঝাঁপি। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন ইমরান হোসেন

সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন ‘ঘানি’, ‘সেই তুফান’ সহ আরও বে কিছু সিনেমায়। তাও বছর চারেক আগে। অনেকদিন পর অভিনয় করছেন? কেমন অনুভব করছেন জানতে চাইলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বললেন, ‘আসলে অভিনয়টা আমার ভালবাসা। অভিনয়টা কখনই আমার অভিনয় মনে হয় না। তবে অভিনয় করতে গিয়ে মনে হলো মাত্র কিছুদিন আমি অভিনয়ের বাইরে ছিলাম।’ গ্রাস এক তরুণ যুবকের গল্প। যার ধ্যানজ্ঞানই হচ্ছে একটি সিনেমা বানানো। অনেক কষ্টে সে তার গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণ শুরু করে। সেই গল্পে চরিত্র দুটি এক বৃদ্ধ আর তার বৃদ্ধা স্ত্রী। যিনি অনেক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। এই বৃদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রানী সরকার। এক সময় তার ডাক নাম ছিল মেরী। রানী সরকারের আড়ালে সেই মেরী নাম আজ হারিয়ে গেছে। টানা চারদিন শূটিং করেছেন উত্তরা, মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজারের লোকেশনে। পুরনো দিনের সিনেমার কথা উঠতেই কিছুটা চোখ ছলছল করে উঠল এই অভিনেত্রীর। যারা এই চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন তাদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন। বললেন, ‘আমরা ছিলাম সবাই এক হদয়ের মানুষ।’ একদিন একজন প্রোডাকশন ম্যানেজার কাকে যেন ধমক দিচ্ছিলেন। সেই সময় পরিচালক ফতেহ লোহানী সেখানে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একটি হাঁড়ির ভাত। সবাই বুকে বুক মিলিয়ে চলবে। এক পরিবারের সদস্য। কেউ কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে না।’ এভাবেই বর্ণনা করছিলেন রানী সরকার। এরকমই ছিলেন সেই সময়ের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষজন। বর্তমান সময়ের সিনেমার দুরবস্থা নিয়ে নিজের দুঃখের কথা জানালেন। ‘মরতে মরতে আমিও বেঁচে আছি। আমাদের সিনেমাও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। খারাপ লাগে কারণ সুদিন তো একদিন ছিল। কিছুতেই মনকে বোঝাতে পারি না।’ সেই সোনালী সময়ে কোন পরিচালক আপনার চোখে সবচেয়ে গুণী ছিলেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘জহির রায়হান (মেজদা), এহতেশাম সাহেব এবং মোস্তাফিজ সাহেব ছিলেন সেই সময়ের সবচেয়ে নামকরা পরিচালক। আর মানুষ হিসেবে তারা ছিলেন অনুকরণীয়।’ ‘চান্দা’ ছবিতে রানী সরকার অভিনয় করেছিলেন। পরিচালক এজে কারদারের ‘দূর হ্যায় সুক কা গাও’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম দ্বিতীয় নায়িকার চরিত্র পান। সব মিলিয়ে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে জহির রায়হানের ‘আনোয়ারা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় তার জন্য ছিল একটি বিশেষ ঘটনা। সেবার সিরাজগঞ্জের এক প্রত্যন্ত গ্রামে শূটিং করছিলেন জহির রায়হান। সেই সিনেমায় ছিলেন নায়ক রাজ্জাক, সুচন্দা এবং রানী সরকার। তিনি রাজ্জাকের মামি শাশুড়ি ছিলেন। একটি দৃশ্য ছিল যেই দৃশ্যে রানী সরকার টাকার লোভে খাড়া দিয়ে রাজ্জাককে খুন করতে যান। রানী সরকার এই রকম ঘৃন্য কাজ করতে চাচ্ছিলেন। যদিও সেটা অভিনয়ই ছিল। পরিচালক জহির রায়হান তাকে বকে দেন। কি আর করা। তিনি রাজি হন। এরপর একটি বাঁশ বাগানের মধ্য দিয়ে দৌড়ে গিয়ে তিনি যখন কোপ মেরে বসেন তখন দেখেন যে তিনি আসলে তার ছেলেকেই রাজ্জাক ভেবে হত্যা করেছেন। সেই সব দিন ভীষণ মনে পড়ে রানী সরকারের। এখন বেশিরভাগ সময় বাসাতেই থাকেন। পুরনো দিনের কথা ভাবেন। আড্ডার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ নিজ থেকেই বলে উঠলেন, ‘সামাজিকতা যতই বলিষ্ঠ হবে, যত বাধা বিঘœই থাকুক, সিনেমা প্রমিনেন্ট হবে। ক্যামেরা সামনে চরিত্র যতই বাস্তবানুগ হবে ততই ভাল সিনেমা হবে। উঠে আসবে সমাজের ভাল-মন্দ। ফিরে আসবে সিনেমার সুদিন।’ এক সময় আলাপন শেষ হয়। রানী সরকার ফিরে চলে যান তার আলয়ে। স্মৃতিতে থাকে সিনেমার সোনালী দিন।