২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আয়ে শীর্ষে জেনিফার

হলিউডের ২৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর জন্মস্থান আমেরিকার কেন্টাকি। ‘হাঙ্গার গেমস’ খ্যাত এই অভিনেত্রী ফোর্বস ম্যাগাজিনের শীর্ষ আয়ের তালিকায় উঠে এসেছেন একদম শীর্ষে। কিছুদিন আগে অবশ্য বেশ হইচই পড়ে গিয়েছিল তাকে নিয়ে। কারণ সেই সময়ে হলিউডের বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর শ’ খানেক নগ্ন ছবি ফঁাঁস হয়েছিল ইন্টারনেটে। সেসব ছবির একটা বড় অংশ জুড়েই ছিল লরেন্সের ছবি। অস্কারজযী এই অভিনেত্রীকে দেখা গিয়েছে ‘দ্য হাঙ্গার গেমস : মকিংগে পার্ট ওয়ান’, ‘সেরিনা’ এবং ‘এক্স মেন : ডেজ অফ ফিউচার পাস্ট’-এর মতো ব্যবসাসফল সিনেমাগুলোতে। সামনেই মুক্তি পাচ্ছে তার তিনটি সিনেমা ‘জয়’, ‘দ্য হাঙ্গার গেমস : মকিংগে পার্ট টু’, ‘এক্স মেন এ্যাপোক্যালিপ্স’-এ। গত বছর আয়ের শীর্ষে থাকা আরেক অভিনেত্রী সান্ড্রা বুলক এই বছর নেমে অবস্থান করছেন ১৫তম অবস্থানে। শীর্ষ দশে থাকা অন্য অভিনেত্রীরা হচ্ছেন জুলিয়া রবার্টস, এ্যানা হ্যাথাওয়ে এবং ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। লরেন্সের প্রথম উল্লেখযোগ্য অভিনয় ছিল ‘দ্য বিং ইংভাল শো’ নামের একটি সিটকম-এ। ২০০৮ সালে ‘দ্য বার্নি প্লেইন’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১০ সালে ‘উইনটারস বোন’ নামে আরেকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এই দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি একাডেমি এ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন লাভ করেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে একাডেমি এ্যাওয়ার্ড মনোনয়নে তিনিই সর্ব কনিষ্ট ব্যক্তি। মাত্র ২২ বছর বয়সে জেনিফার লরেন্স টিফ্যানি ম্যাক্সওয়েলের পরিচালনায় রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্র ‘সিলভার লিঙ্গিস প্লেবুক’-এ অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পেয়ে যান ‘গ্লোব এ্যাওয়ার্ডস ফর বেস্ট এ্যাক্ট্রেস’ এবং ‘এ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট এ্যাক্ট্রেস’ পুরস্কার। তবে ২০১৩ সালে কমেডি ড্রামা ‘আমেরিকান হ্যাসাল’-এ অভিনয়ের জন্য জেনিফার লরেন্স ‘গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার’ পান। সেই সঙ্গে মেলে ‘বাফটা এ্যাওয়ার্ড’ এবং তৃতীয় বারের মতো একাডেমি এ্যাওয়ার্ড জয় করেন।

নিজের নগ্ন ছবি প্রকাশ করায় ভীষণই ক্ষেপেছিলেন লরেন্স। হ্যাকার জেনিফারসহ বেশ কয়েকজন তারকার আইডি হ্যাক করে তাদের কিছু অর্ধনগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেয়। বেশ কিছুদিন চুপ থাকার পর এই ব্যাপারে মুখ খুললেন লরেন্স। শীর্ষস্থানীয় এক ম্যাগাজিনকে ২৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী তার ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এটা আমার শরীর। এটা আমার সম্পদ। তাই আমার শরীর নিয়ে আমি কি করব তা নির্ধারণ করার ক্ষমতার অধিকার শুধু আমার। কেউ যদি আমার মতের সঙ্গে একমত না হন তাহলে বলব এটা একবারেই বেমানান একটি বিষয়। আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারি না যে, এমন দুনিয়ায় কিভাবে আমরা বসবাস করব। নগ্ন ছবি ফাঁসের ঘটনা একটি স্ক্যান্ডাল নয়। বরং এটা যৌন জীবনের যে অধিকার তার লঙ্ঘন। তাই আমি চাই ভার্চুয়াল বিশ্বকে শাসন করে এমন আইনের পরিবর্তন চাই আমি।’

কিছুদিন আগে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জেনিফার পারিশ্রমিক হাঁকিয়েছে ২ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় একশ’ ষাট কোটি টাকায়। তবে অভিনেত্রীটি জেনিফার লরেন্স আর তাকে নিজেদের সিনেমায় পেতে মরিয়া হলিউডের সব নামী-দামী প্রযোজকই। বৈজ্ঞানিক হল্প কাহিনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘প্যাসেঞ্জার’-এ এই পারিশ্রমিকেই তাকে চুক্তিবদ্ধ করেছে তাকে। হলিউডের অভিনেত্রীরা বরাবরই অভিনেতাদের চেয়ে কম পারিশ্রমিক পেতেন। তবে সমান অধিকারে প্রশ্নে সচেতন জেনিফার অনেক আগে থেকেই ঠিক করেছেন চলচ্চিত্রে প্রধান অভিনেতা যত পারিশ্রমিক পাবেন অভিনেত্রীকেও সেই হারেই পারিশ্রমিক দিতে হবে। অবশ্য বিতর্ক যেন নিত্যসঙ্গী জেনিফার লরেন্সের। কিছুদিন আগে একটি ফটোশূটে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে এক বিশাল অজগর সাপ শরীরে পেঁচিয়ে তাকে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছে। ভ্যানিটি ফেযার ম্যাগাজিনের জন্য এই ফটোশূটে তিনি অংশ নেন। ফরাসী ফটোগ্রাফার প্যাট্রিক ডেমার্সেলিয়ারের তোলা এই ছবিতে দেখা গিয়েছে তিনি উপুড় হয়ে শুয়ে রয়েছেন। আর তার দেহে জড়িয়ে রয়েছে একটি কলম্বিয়ান লাল লেজবিশিষ্ট বোয়া সাপ। তবে নানা বিতর্কে জড়ালেও পুরুষশাসিত হলিউডে একজন অভিনেত্রীর সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড করাটা মোটেও কম গৌরবের ব্যাপার নয়। আর সেই অভিনেত্রীর বয়স যখন মাত্র ২৫ বছর তখন তো সাধুবাদ জানাতেই হয়।