২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাজে আসছে না ॥ নওগাঁ শহররক্ষা প্রকল্প

  • ৮ কোটি টাকা ব্যয়

বিশ্বজিৎ মনি, নওগাঁ ॥ অপরিকল্পিত আউটলেট নির্মাণের ফলে নওগাঁবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশিত ‘শহররক্ষা প্রকল্প’ শহরবাসীর কোন কল্যাণে আসছে না। ফলে ৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্প পুরোটায় ভেস্তে যেতে বসেছে।

নওগাঁ শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে নওগাঁবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে অবশেষে সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নওগাঁ শহর রক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করে। নওগাঁ শহরের ডিগ্রী কলেজের মোড় থেকে দক্ষিণ-নওগাঁ পর্যন্ত ছোট যমুনা নদীর উভয় তীরে ফ্লাডওয়াল নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি এখনও নির্মাণাধীন। এই প্রকল্পের আওতায় উভয় পাশে মোট ৯০টি আউটলেট নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে নদীর পশ্চিম তীরে ৫৪টি আউটলেট নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের পশ্চিম অংশ কিছুটা নিচু হওয়ায় এই অংশের আউটলেটগুলো বিশেষভাবে অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই আউটলেটের লে-আউট এবং ডিজাইন দু’টোয় নওগাঁ ছোট যমুনা নদীর জন্য প্রযোজ্য নয়। নদীর পাড় থেকে শহরের উচ্চতা কম। এর ফলে শহরের পানি নদীতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দুরূহ। ফলে নদীর এই আউটলেটগুলো দিয়ে শহরের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এর মূল কারণ হলো, এসব আউটলেটের সঙ্গে শহরের কোন এলাকার পানি নিষ্কাশনের কোন সংযোগই স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

যে দু’-একটি আউটলেট দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পানি নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে, তাও প্রক্রিয়াগতভাবে নয়। এর ফলে নেমে আসা পানির ধাক্কায় নদীর ধারের ব্লকগুলো ধসে পড়ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আউটলেটে নদীর ধারের ব্লক ধসে গেছে। এভাবে ধসে যেতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যে পুরো শহররক্ষা প্রকল্পের ব্লক ধসে ফ্লাডওয়ালকে হুমকির মুখে ফেলে দিবে। নির্মাণের চুক্তি মোতাবেক এরই মধ্যে পর পর দু’বছর ধসে যাওয়া ব্লকগুলো সংস্কার করে দিয়েছে ফ্লাডওয়াল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেওয়ান ছেকার আহম্মেদ শিষান। তিনি বলেছেন, দু’বছর পর্যন্ত প্রকল্পের সংস্কার কাজ করে দেয়ার কথা। ফলে এর পরে প্রকল্পের ভাগ্যে কি আছে তা অনিশ্চিত। গত বছর এবং এ বছর একইভাবে অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে ঢলের পানি নেমে আসার ফলে নদীতে পানি বৃদ্ধি ঘটলে বাঙ্গাবাড়িয়া, বিহারী কলোনি এবং উকিলপাড়া এবং পার-নওগাঁ এলাকার আউটলেটগুলো দিয়ে নদীর পানি শহরে প্রবেশ করে কোন কোন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন বাড়িঘরে পানি ঢুকে জনজীবন বিপন্ন করে তোলে।

শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মহল্লার আব্দুস সামাদ এবং জোসনা বেগম বলেছেন, আমরা নদীর ধারে বসবাস করি। প্রতি বছর বন্যার যে ভয়াবহতা আমরা দেখেছি। ফ্লাডওয়াল নির্মাণের ফলে আমরা ভেবেছিলাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেলাম। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আউটলেট দিয়ে পানি এসে আগের মতোই বাড়িঘর ডুবিয়ে দিচ্ছে। ফ্লাডওয়াল নির্মাণকারী ঠিকাদার দেওয়ান ছেকার আহম্মেদ শিষান বলেছেন, ফ্লাডওয়াল নির্মাণ করা আমার কাজ ছিল না। এটি ভিন্ন প্যাকেজের আওতায় অন্য ঠিকাদার এগুলো নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, আউটলেটগুলোর নির্মাণকৌশল সঠিক হয়নি বলেই সেগুলো অকার্যকর। তিনি আরও জানান, গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ইসমাইল হোসেন প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আগামীতে যাতে এই আউটলেটগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায় এবং শহরের পানি যাতে আউটলেট দিয়ে নদীতে নিষ্কাশিত হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন অপরিকল্পিতভাবে আউটলেট নির্মাণ করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যথাযথ বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং ডিজাইন মোতাবেক সেগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এগুলোতে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তখন আর এই সমস্যা থাকবে না।