১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি

  • শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

সুধীর বরন মাঝি, শিক্ষক,

ডক্টর মালিকা কলেজ ,৭/এ, ধানমন্ডি,

ঢাকা-১২০৯, মোবাইল- ০১৯১২-২৯৫০৮৫

..................................................................

প্রস্তুতি: ৪র্থ অধ্যায়

(পূর্ব প্রকাশের পর)

৪। প্রজনন স্বাস্থ্য কাকে বলে ? অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের প্রতিরোধ সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ঃ জন্ম থেকে মানুষের জীবনের বৃদ্ধি ও বিকাশ এক অবিচ্ছিন্ন ধারায় এগিয়ে চলে।এই এগিয়ে চলার ধারা অব্যাহত রাখার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়। প্রজনন স্বাস্থ্য ঃ বিখ্যাত শিক্ষাবিদ আরনেস্ট জোনস বলেন,”বিকাশমান জীবনের শুরু থেকে অর্থাৎ জন্ম থেকে প্রৌঢ়ত্ব-প্রতিটি স্তরেই তার সাধারণ স্বাস্থ্যের সাথে প্রজনন স্বাস্থ্যের ব্যাপরটি জড়িত। ” শরীরের যে সব অঙ্গ সন্তান জন্মদানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত,সেসব অঙ্গের স¦াস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়কে প্রজনন স্বাস্থ্য বলে ।

অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের প্রতিরোধ ঃ দেশের প্রচলিত আইনে বিয়ের বয়স হওয়ার আগে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিলে তা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের প্রতিরোধে নিন্ম লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন;

১। বাল্য বিবাহ বন্ধ করা ঃ অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের প্রতিরোধ কারার জন্য অপরিণত বয়সে বিয়ে অর্থাৎ বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। ২। কুসংস্কার দূর করা ঃ কুড়িতে বুড়ি, এই ধরণের কুসংস্কার দূর করতে হবে।

৩। শিক্ষার প্রসার ঘটানো ঃ শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটানোর মধ্য দিয়ে বিশেষ করে নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে পারলে অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ প্রতিরোধ সম্ভব।

৪। কর্ম সংস্থান সৃষ্টি ঃ প্রবাদ আছে ,অলস মস্তিকে শয়তানের কারখানা। তাই নতুন নতুন কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করে অপরিণত বয়সে গর্ভধারণর প্রতিরোধ করা যায়।

৫। সচেতনতা বৃদ্ধি ঃ অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের কুফল সম্পর্কে সংবাদপত্র, রেডিও ,টেলিভিশন, নাটক,গান প্রভৃতির মাধ্যমে জনগনের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রয়োজনে সভা , সেমিনার, ওয়ার্কসপ প্রভৃতির মাধ্যমে । অপরিণত বয়সে গর্ভধারণকে নিরুৎসাহিত করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারী-বেসরকারী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হাবে।

৫। প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষার উপায় ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।

ভূমিক ঃ প্রজনন স্বাস্থ্য সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি অংশ। আমাদের পরবর্তি প্রজন্মের নিরাপদ জন্ম ও সুস্বাস্থ্য এবং বর্তমান প্রজন্মের সার্বিক সুস্বাস্থ্য প্রজনন স্বাস্থ্যর উপর নির্ভর করে।

প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষার উপায় ঃ প্রজনন স্বস্থ্য রক্ষার প্রথম কথা হলো বয়ঃসন্ধি যে সব শারীরিক পরিবর্তন, সে সব বিষয়ে একটি কিশোর - কোশোরীর করণীয় কী তা ভালোভাবে জেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এ সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঋতু¯্রাব বা বীর্যপাত ঘটলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকা , নিয়মিত গোসল করা দরকার। এ সময় পুষ্টিকর খাবার ও প্রচুর পানি পান করতে হবে। কোন শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ঃ আামাদের দেশে প্রতিবছর সন্তান জন্মদান করতে গিয়ে অনেক মা মৃত্যুবরণ করেন। এর কারণ অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে ও সন্তান ধারণ। ফলে বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয় এবং স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যায়। এতে পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয় এবং পরিবারে অশান্তি নেমে আসে। মেয়েরা পরিণত বয়সে অর্থাৎ ২০ বছরের পর গর্ভধারণ করলে প্রসূতি মায়ের ও শিশুমৃত্যুর হার কমবে। আবার ঘনঘন সন্তান নিলে মা ও শিশুর জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। এই ঝুঁকি কমানোর জন্য সন্তান জন্মদানের মধ্যে বিরতি দিতে হবে। এর ফলে প্রজনন স্বাস্থ্যের সুস্থতাও বজায় থাকবে এবং শিশুরা স্বাস্থ্যবান ও নিরোগ হবে এবং পরিবারে ও সমাজে শান্তি বিরাজ করবে।

যবানিকা ঃ উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি আগমী প্রজন্মের জাতীয় সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে বর্তমান প্রজন্মের সুস্থ প্রজনন স্বাস্থ্যর উপর। তাই এই বিষয়ে সকলের সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।