২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুলনা প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিংয়ে শুল্ক গোয়েন্দা দলের অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনা প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডে অভিযান পরিচালনা করছে একটি শুল্ক গোয়েন্দা দল। অভিযানে র‌্যাব ও পুলিশও অংশ নেয়। শুল্ক গোয়েন্দা দলটি ৭৬টি লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা ঋণপত্রের বিষয়ে সরেজমিন তদন্তে এসেছে। তবে তারা গুদামে প্রবেশ করতে পারেনি। খুলনা প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড লকপুর গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূূত্র জানায়, সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ গত ১৪ জুলাই এক আদেশে ৭৬টি এলসির সঠিক তথ্য নিরূপণ করতে এনবিআরকে নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী ২৬ জুলাই থেকে ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আদালতকে জানাতে হবে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হোসেন আহমেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যর তদন্ত দল গঠন করা হয়। তারা চট্টগ্রাম বন্দর ঘুরে ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার থেকে খুলনায় তদন্ত শুরু করেছে। এতে র‌্যাব, রূপসা থানা পুলিশ ও মংলা কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। কিন্তু তদন্ত দলটি মূল গুদামে প্রবেশ করতে না পারায় পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ঠিক করতে বুধবার বিকেলে মংলা কাস্টম হাউসে বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি সূত্র জানায়, ৭৬টি এলসির তথ্য খুলনা প্যাকেজিংয়ের কাছে নেই। আমদানি করা কয়েকটি পণ্যের জন্য তাদের বন্ড লাইসেন্সও নবায়ন করা ছিল না। পরে নবায়ন করে পণ্য খালাস করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শুল্ক বিভাগে ব্যাপক অস্পষ্টতা দেখা দেয়ার প্রেক্ষাপটে সুপ্রীমকোর্ট এই নির্দেশনা দেয়। এদিকে, মংলা কাস্টম হাউস সূত্রে জানা যায়, তাদের কাস্টম হাউসের আওতায় খুলনায় মোট ৫টি বন্ডেড ওয়্যার হাউস রয়েছে। তার মধ্যে তিনটি বন্ডেড ওয়্যার হাউস বা শুল্ক মুক্ত গুদামই লকপুর গ্রুপের। সম্প্রতি এই বন্ডেড হাউসের অনিয়ম ধরা পড়ায় খুলনা প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং লি.কে মংলা কাস্টম হাউস ৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৬ টাকা জরিমানা করে। তাদের অভিযোগ ছিল, শুল্কমুক্ত গুদামে ৯শ’ ৬৬ দশমিক ২০ মেট্রিক টন বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়, যা শুল্ক কর্তৃপক্ষের নথিতে ছিল না। শুল্ক কর্তৃপক্ষের এই জরিমানার পত্র পাওয়ার পর খুলনা প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং লি. রাজস্ব বোর্ডে আপীল করেছিল।

এ বিষয়ে খুলনা প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং লি.র নির্বাহী পরিচালক আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের কাছে তাদের প্রতিষ্ঠানে র‌্যাব-পুলিশ নিয়ে অভিযানের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, উচ্চ আদালত ৭৬ এলসির নথিপত্র পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তদন্ত দল র‌্যাব, পুলিশসহযোগে অভিযান পরিচালনা করছে; যা আদালত অবমাননার শামিল।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া