২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বার কাউন্সিলে জয়ের পথে সরকার সমর্থকরা

  • প্রাথমিক ভোট গণণা ॥ চৌদ্দ পদের নয়টিতে এগিয়ে

আরাফাত মুন্না ॥ ঐক্যবদ্ধ প্যানেল ঘোষণার মাধ্যমে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও তদারক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কর্তৃত্ব ফিরে পেতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলোর সমর্থক আইনজীবীদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। বুধবার বার কাউন্সিলের নির্বাচনে সাধারণ সাত আসনের মধ্যে তিনটিতে এবং সাতটি গ্রুপ আসনের মধ্যে ছয়টিতেই এগিয়ে রয়েছেন তাঁরা। এর ফলে বার কাউন্সিলের ১৪ আসনের মধ্যে নয়টিতে জয় লাভের পথে সমন্বয় পরিষদ।

রাত পৌনে দুইটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সারাদেশের ৭৭ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ও ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ ৫৭ কেন্দ্রের প্রথমিক ভোটগণনার ফল পাওয়া গেছে। এতে ১১ হাজার ৫৭৬ ভোট পেয়ে প্রথমে অবস্থান করছেন জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের (নীল প্যানেল) প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। ১১ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) প্রার্থী আব্দুল বাসেদ মজুমদার। ১০ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন নীল প্যানেলের প্রার্থী খন্দকার মাহবুব হোসেন। ১০ হাজার ৩৬৮ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন সাদা প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার এম আমির-উল-ইসলাম। ১০ হাজার ২৩৯ ভোট পেয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন সাদা প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল মতিন খসরু। ৯ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন নীল প্যানেলের প্রার্থী এজে মোহাম্মদ আলী এবং ৯ হাজার ৮৪৭ ভোট পেয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছেন নীল প্যানেলের প্রার্থী সানাউল্লাহ মিয়া। এছাড়া, ৯ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়ে সাদা প্যানেলের প্রার্থী জেডআই খান পান্না অষ্টম অবস্থানে, ৯ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়ে সাদা প্যানেলের শম রেজাউল করিম নবম অবস্থানে, ৯ হাজার ৬০ ভোট পেয়ে নীল প্যানেলের ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল রয়েছেন দশম অবস্থানে।

গ্রুপ আসনে যারা এগিয়ে ॥ সাতটি গ্রুপ আসনের মধ্যে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) প্রার্থীরা ছয়টিতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে যাচ্ছেন বলে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে। এরা হলেন ‘এ’ গ্রুপ থেকে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, ‘বি’ গ্রুপ থেকে এইচ আর জাহিদ আনোয়ার, ‘সি’ গ্রুপ থেকে ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, ‘ই’ গ্রুপ থেকে পারভেজ আলম খান, ‘এফ’ গ্রুপ থেকে মোঃ ইয়াহিয়া ও ‘জি’ গ্রুপ থেকে মোঃ রেজাউল করিম। একমাত্র ‘ডি’ গ্রুপ থেকে জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের (নীল প্যানেল) প্রার্থী কাইমুল হক জয় লাভ করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার বেলা দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সারাদেশে ৭৭ কেন্দ্রে এই ভোটগ্রহণ চলে। সব কেন্দ্রের ফল বার কাউন্সিলে পৌঁছানোর পর সংস্থার চেয়ারম্যান এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম একটি সময় নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করবেন বলে কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল আহসান জনকণ্ঠকে জানান।

বার কাউন্সিলের ১৪ সদস্য পদের বিপরীতে এবার ৬১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সংশোধিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩০২। বরাবরের মতো এবারও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের দুটি প্যানেলের মধ্যে এ নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। এবার দেশের সব বারে জয়ের আশা করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। অন্যদিকে, বিএনপি-জামায়াত সমর্থক আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদও জয়ের আশাবাদ ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

তিন বছর পর পর বার কাউন্সিলের নির্বাচন হয়। সারাদেশের আইনজীবীরা মোট ১৪ জনকে ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচিত করেন। এর মধ্যে সাধারণ আসনে সাত এবং সাতটি অঞ্চলভিত্তিক আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে আরও সাতজন নির্বাচিত হন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৪ জন। পরে নিজেদের মধ্যে ভোটাভুটি করে বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। আর এ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।