২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জুলাই মাসে সঞ্চয়পক্র বিক্রি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ লাগাম টানতে সুদের হার কমানো হলেও গেল অর্থবছর জুড়ে রেকর্ড পরিমাণে বিক্রি হয়েছে সঞ্চয়পত্র। বিক্রির এই ধারাবাহিকতা চলতি অর্থবছরেও দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের জুলাই মাসের তুলনায় ১১৮ কোটি টাকা বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে সঞ্চয়পত্রে ‘বিক্রির উলম্ফন’ ঠেকাতে সুদের হার কমানো হলেও বিক্রিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। তাই চলতি বছরেও রেকর্ড পরিমাণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হবে বলে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। মূলত ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে সুদের হার কিছুটা বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এ নিয়ে ব্যাংকগুলোর তরফ থেকে চাপ এবং নানামুখী আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গত অর্থবছরের মে মাসের শুরুতে অর্থমন্ত্রী সঞ্চয়পত্রের সুদের হার গড়ে ২ শতাংশ হারে কমানোর ঘোষণা দেন। কিন্তু এরপরও এ খাতে বিক্রি ঠেকানো যায় নি। এ পরিস্থিতিতে সরকারের নীতি নির্ধারকদের কেউ কেউ এ খাতের সুদের হার আরেক দফা কমানোর দাবি তুলছেন। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে এ খাতে নীট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১১৮ কোটি টাকা বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি আসে ১ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ২৬০ কোটি ১২ লাখ টাকা। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৭৭৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৮৮৯ কোটি ০৫ লাখ টাকা। তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি হয়েছে ৪৫১ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১৫৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। মূলত এই তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিক্রিই বেশি হয়ে থাকে।