২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা বার কাউন্সিলের কর্তৃত্ব ফিরে পেলেন

  • চৌদ্দটির দশটিতে জয়ী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঐক্যবদ্ধ প্যানেল ঘোষণার মাধ্যমে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও তদারক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কর্তৃত্ব ফিরে পেয়েছে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলোর সমর্থক আইনজীবীদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল)। বুধবার অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিলের নির্বাচনে ১৪ আসনের মধ্যে ১০টি পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছেন তারা। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক নীল প্যানেল পেয়েছে ৪ আসন।

বৃহস্পতিবার একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া অনানুষ্ঠানিক ফল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সব কেন্দ্রের অফিসিয়াল ফল বার কাউন্সিলে পৌঁছার পর সংস্থার চেয়ারম্যান এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম একটি সময় নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করবেন বলে কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল আহসান জনকণ্ঠকে জানান। বার কাউন্সিলে গত মেয়াদেই (২০১২-১৫) স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো কর্তৃত্ব পেয়েছিল বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা (নীল প্যানেল)। শুধু নিজেদের অন্তর্কোন্দলের কারণেই কর্তৃত্ব হারাতে হয়েছিল সমন্বয় পরিষদকে।

বুধবার সারাদেশে ৭৭ কেন্দ্রে একযোগে বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পরে রাতে ভোটগণনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সারাদেশ থেকে পাওয়া অনানুষ্ঠানিক ফলে দেখা গেছে, সাধারণ সাত আসনের মধ্যে সাদা প্যানেল পেয়েছে ৪টি এবং নীল প্যানেল পেয়েছে ৩ আসন। অন্যদিকে, সাতটি গ্রুপ আসনের মধ্যে সরকার সমর্থক সাদা প্যানেল ছয় আসনই পেয়েছে। বিএনপি-জামায়াত সমর্থক নীল প্যানেল পেয়েছে এক আসন।

সাদা প্যানেলে জয় পেয়েছেন যারা ॥ সাধারণ আসনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী আব্দুল বাসেত মজুমদার সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ২৩৫ ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে অবস্থান করছেন। এ প্যানেলের আব্দুল মতিন খসরু ১৪ হাজার ৩৯৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। সাদা প্যানেলের অন্যতম প্রার্থী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ১৪ হাজার ১৮১ ভোট পেয়ে রয়েছেন পঞ্চম স্থানে এবং জেড আই খান পান্না ১৩ হাজার ১৯০ ভোট পেয়ে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছেন।

গ্রুপ আসনে সরকার সমর্থক নির্বাচিত ছয়জন হলেনÑ ‘এ’ গ্রুপ থেকে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, ‘বি’ গ্রুপ থেকে এইচ আর জাহিদ আনোয়ার, ‘সি’ গ্রুপ থেকে ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, ‘ই’ গ্রুপ থেকে পারভেজ আলম খান, ‘এফ’ গ্রুপ থেকে মোঃ ইয়াহিয়া ও ‘জি’ গ্রুপ থেকে মোঃ রেজাউল করিম।

নীল প্যানেল থেকে যারা জয় পেয়েছেন ॥ বিএনপি-জামায়াত সমর্থক নীল প্যানেল থেকে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ১৫ হাজার ১৩৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এই প্যানেলের অন্যতম প্রার্থী খন্দকার মাহবুব হোসেন ১৪ হাজার ৩৫৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন এবং নীল প্যানেল থেকে এজে মোহাম্মদ আলী ১৩ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন। এই প্যানেল থেকে একমাত্র ‘ডি’ গ্রুপ থেকে কাইমুল হক জয়লাভ করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার বার কাউন্সিল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার চেয়ারম্যান ও এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচনের সব তথ্য সারাদেশ থেকে এলেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ঢাকাসহ আশপাশের তথ্যগুলো আমরা পেয়েছি। আশা করছি রবি-সোমবারের মধ্যে বাকিগুলোও পেয়ে যাব। তারপর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করতে পারব। তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, অমোচনীয় কালি ব্যবহার করা হয়েছে; যেভাবে জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। অন্যায়ভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ ছিল না। আইনজীবীরা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরেছেন। কোথাও থেকে কোন অভিযোগ আসেনি।

দুই প্যানেলের প্রতিক্রিয়া

সরকার সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) প্রার্থী এ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বৃহস্পতিবার সুপ্রীমকোর্টে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা বার কাউন্সিলের নেতৃত্বে থেকে একটি নির্দিষ্ট দলের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি বলেন, বার কাউন্সিল আইনজীবীদের কল্যাণকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা (বিএনপি সমর্থিতরা) কল্যাণমূলক কাজ করেননি। আমরা আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করব। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করব।

অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক নীল প্যানেলের প্রার্থী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সরকার সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীরা সারাদেশে হেলিকপ্টারে ঘুরে ঘুরে আইনজীবীদের রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে প্রভাবিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল পাইনি। তবে শুনেছি সাদা প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার সমর্থিতরা যেভাবে আইনজীবীদের রঙিন স্বপ্ন দেখিয়েছেন সেটা বাস্তবায়ন হলে আমি খুশি। আমি শুধু এতটুকুই বলব, আনইজীবীরা যেন হতাশ না হন, আমরাও বার কাউন্সিলে আইনজীবীদের পাশে থাকবÑ যোগ করেন তিনি।

বার কাউন্সিলের ১৪ সদস্য পদের বিপরীতে এবার ৬১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সংশোধিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩০২। বরাবরের মতো এবারও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের দুটি প্যানেলের মধ্যে এ নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। এবার দেশের সব বারে জয়ের আশা করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

তিন বছর পর পর বার কাউন্সিলের নির্বাচন হয়। সারাদেশের আইনজীবীরা মোট ১৪ জনকে ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচিত করেন। এর মধ্যে সাধারণ আসনে সাত এবং সাতটি অঞ্চলভিত্তিক আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে আরও সাতজন নির্বাচিত হন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৪ জন। পরে নিজেদের মধ্যে ভোটাভুটি করে বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। আর এ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।