২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সোনারগাঁয়ে হত্যা মামলার আসামিকে পিটিয়ে ও চোখ তুলে হত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২৭ আগস্ট ॥ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি আল আমিনকে (৩৩) পিটিয়ে ও চোখ উপড়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় সনমান্দি ্ইউনিয়নের ফতেপুর এলাকায় আল আমিনকে পিটিয়ে আহত করার পর চিকিৎসার নামে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডেমরার আমুলিয়া এলাকার জঙ্গল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোনারগাঁ থানায় মামলা হয়নি। তবে নিহতের স্বজনরা মামলা দিতে আসবে বলে ওসি জানায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় বিল্লাল হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি আল আমিন কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে ফতেপুর দড়িকান্দি এলাকায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা নিহত বিল্লাল চেয়ারম্যানের লোকজন আল আমিনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আল আমিনকে পিটিয়ে হাত, পা ও বুকের পাঁজর ভেঙ্গে দেয়। পরে আল আমিনকে হামলাকারীরা চিকিৎসার নামে তুলে নিয়ে যায়। আল আমিন ফতেপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

নিহত আল আমিনের চাচাত ভাই মোবারক হোসেন জানান, নিহত বিল্লাল হোসেনের ছেলে মাসুম ও তার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে আল আমিনের ওপর হামলা চালিয়ে হাত-পা ও বুকের পাঁজর ভেঙ্গে দেয়। তাছাড়া বাম পাশের চোখ তুলে ফেলে। হামলার পর হামলাকারীরা আল আমিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তার লাশ আমুলিয়া জঙ্গলে পাওয়া যায়। এসময় তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি শাহ মোঃ মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, আল আমিনের লাশ আমুলিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে লাশ রয়েছে। তিনি জানান, নিহতের স্বজনরা পুলিশকে জানিয়েছেন, নিহত বিল্লাল হোসেনের স্বজনরাই তাকে হত্যা করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ জুন বিকেলে জমিসংক্রান্ত বিরোধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় বিল্লাল হোসেনকে। পরে তার ছেলে মাসুম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১২ জনের নামে গত ১৯ এপ্রিল আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। চার্জশীটে আল আমিনের নাম রয়েছে। আসামিদের মধ্য থেকে ৮ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে এ মামলায় ৩ জন ১৬৪ ধারায় জাবানবন্দী দিয়েছে আদালত।