২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অজ্ঞান পার্টির অর্ধ শতচক্র দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে

শংকর কুমার দে ॥ ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত অজ্ঞান পার্টির নামটিই এখন মহাআতঙ্ক। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে অন্তত অজ্ঞান পার্টির অর্ধশতাধিক চক্র। অজ্ঞান পার্টির ৩০ চক্রের সদস্য সংখ্যা ৩ শতাধিক। গত ১ মাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ শতাধিক। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। ঈদকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন করে যাত্রী সাধারণ, পথচারীসহ সর্বসাধারণকে রক্ষার জন্য অজ্ঞান পার্টির বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি একেএম শহীদুল হক।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে রাজধানীতে শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এককভাবে গ্রেফতার করেছে ১০৯ অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে ৭৮ জনের। বিচারাধীন আছে ২৬টি মামলা। কেবলমাত্র রাজধানীর আশপাশে অন্তত অর্ধশতাধিকেরও বেশি অজ্ঞান পার্টির চক্র তৎপরতা চালাচ্ছে, যাদের সদস্য সংখ্যা ৩ শতাধিক। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা নানা কৌশলে যাত্রী বা কেনাকাটা করতে আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভাব জমায়। এরপর তারাও খায়, শিকারকেও খেতে দেয়। তারা যেটা খায় সেটার মধ্যে নেশাজাতীয় কিছু নেই, আর তাদের শিকারকে যেটা খেতে দেয় সেটার মধ্যে থাকে নেশাজাতীয় পদার্থ। আর এর মধ্যেই থাকে অজ্ঞান পার্টির কৌশল ও কারসাজি। পবিত্র ঈদের সময়ে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়াতে পারে অজ্ঞান পার্টি চক্র।

ডিএমপি সূত্র জানান, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা হকার, ফেরিওয়ালা, অচেনা সহযাত্রী বা হঠাৎ করে বন্ধু বেশে মিশে গিয়ে খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় পদার্থ খাইয়ে বা পান করিয়ে অজ্ঞান করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। অস্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ দোকানের উন্মুক্ত খাবার, ডাবের পানি, জুস, চা, কফি, পান, খেজুর, ঝালমুড়ি, শক্তিবর্ধক হালুয়া, ক্রিম জাতীয় বিস্কুট, চকোলেট, নানা ধরনের পানীয়তে মেশায় নেশাজাতীয় ওষুধ যা মানুষকে অজ্ঞান করে। সচেতনার অভাবে মানুষ প্রলোভনে পড়ে এ সব খাইয়ে বা পান করে অজ্ঞান অবস্থায় অসুস্থ এমনকি মৃত্যুও ঘটায়। চলন্ত বাস, বাস টার্মিনালে, লঞ্চঘাট ও লঞ্চে, রেলস্টেশনে এবং রেলগাড়িতে তৎপরতা চালায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়াদের সবার কাহিনী প্রায় অভিন্ন ও একই রকম? অপরিচিত ব্যক্তিরা সখ্যতা গড়ে কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে সবকিছু নিয়ে যায় তাদের। আর অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়াদের উদ্ধার করা হয় রাস্তা, বাসস্টেশন বা লঞ্চঘাট থেকে? পথচারীরাই সহানভূতি হিসেবে অচেতন অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, খাবারের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ‘ডায়াজিপিন’ ট্যাবলেট কিংবা সিরাপ মিশিয়ে অজ্ঞান করার কাজ করে প্রতারক চক্র। অজ্ঞান হওয়া ছাড়াও প্রতিক্রিয়া হিসেবে ডায়াবেটিস ও লিভারের সমস্যাগ্রস্ত রোগীরা মারাও যেতে পারেন। অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়া রোগীদের পরীক্ষা করে চিকিৎসায় দেয়া এই চিকিৎসক জানান, এ প্রতারক চক্রই এখন অজ্ঞান পার্টি নামে পরিচিত।