২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে গণপরিবহন বাড়াতে হবে ঢাকায়

  • গোলটেবিলে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রাজধানীর সড়কগুলোতে ২ লাখ ১৬ হাজার যানবাহন চলতে পারে। ঢাকায় চলছে আরও প্রায় ৯ লাখ বেশি। দেশে নিবন্ধিত প্রাইভেটকারের ৭৫ শতাংশ চলছে রাজধানীতে। অথচ এসবে যাতায়াত করছে মাত্র ৮ ভাগ যাত্রী। এছাড়া ঢাকায় ব্যক্তিনির্ভরতার কারণে কোম্পানিভিত্তিক বাস ব্যবসা গড়ে উঠছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেসরকারীভাবে বাস নেটওয়ার্ক গড়ে কোম্পানির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। একই রুটের টিকেটও একই রঙের। তাই মাঝপথে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর দিকে তাদের নজর থাকে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আন্তর্জাতিক মানদ-ে রাজধানীতে গণপরিবহন বৃদ্ধির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘গণপরিবহন সঙ্কট : যাত্রী দুর্ভোগ উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত গোলটেবিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিআরটিএ’র জুলাই মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকায় নিবন্ধিত বিভিন্ন ধরনের গাড়ি রয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার। এর মধ্যে বাস ও মিনিবাস রয়েছে ৩৩ হাজার ২৮টি। কিন্তু পরিবহন সমিতিগুলোর হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকায় চলাচল করছে ৪ হাজার বাস। বক্তারা বলেন, ঢাকায় দিনে অন্তত ৬ লাখ মানুষ নানা প্রয়োজনে আসছেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি বাস ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে। ঢাকায় গতি ঘণ্টায় মাত্র ৭ কিলোমিটার। ২০১৩ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। তাই দিনে অন্তত ২১ লাখ ট্রিপের প্রয়োজন। কিন্তু যানজটে ২১ লাখের তিন ভাগের এক ভাগ ট্রিপও হচ্ছে না।

সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজধানীর প্রতি ৩ হাজার যাত্রীর যাতায়াতের জন্য বাস ও মিনিবাস আছে মাত্র ১টি। তারা জানান, রাজধানীর অটোরিক্সাগুলোর এক-তৃতীয়াংশ অচল। গণপরিবহনের সঙ্কটের বিপরীতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মোটরসাইকেল, ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৮৭টি প্রাইভেটকার রয়েছে। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, একটি টাস্কফোর্স থাকা চাই; যেখানে সবাই নিজেদের মত দেবে। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার দুর্নীতি দমন করতে হবে। বেসরকারীভাবেও বাস নামানো উৎসাহিত করতে হবে। নারীদের জন্য বাস সার্ভিস বাড়াতে হবে। মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল থাকতে হবে। ঢাকাকে মডেল ধরে প্রথমে এখানে আধুনিক ব্যবস্থা চালু করে দেখতে হবে।

আবুল মকসুদ বলেন, গণপরিবহন বিপর্যস্ত হলে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে। এসব সঙ্কটে সবচেয়ে ভুক্তভোগী হচ্ছেন নারী ও শিশু।