১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্ত্রী নিয়ে ঝামেলায় ম্যারাডোনা!

স্ত্রী নিয়ে ঝামেলায় ম্যারাডোনা!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘আপোস রফার বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে। এখন দেখা যাক ম্যারাডোনা এবং তার আইনজীবী কি করেন। এই মামলাটি হয়ত এখন আদালতে গড়াবে। সেটা এখানেও হতে পারে অথবা যুক্তরাষ্ট্রে।’ কথাগুলো জীবন্ত কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার সাবেক স্ত্রী ক্লডিয়া ভিলাফ্যানের। গত জুলাই মাসে আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর ছয় মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরির দায়ে সাবেক স্ত্রীকে দোষী করেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার কথা থাকলেও সেটা হয়নি। এ কারণে বৃহস্পতিবার ক্লডিয়া ম্যারাডোনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, বিষয়টির মীমাংসা হওয়ার জন্য আদালতে যেতে হতে পারে। গত মাসে ম্যারাডোনা দাবি করেন, আর্জেন্টিনা ও তার বিদেশী ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থেকে ছয় মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ লোপাট হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। ক্লডিয়া ম্যারাডোনার দুই মেয়ে ডালমা ও জিয়ান্নিনার মা। ৫৩ বছর বয়সী ওই মহিলা ম্যারাডোনার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছেন। পাশাপাশি সাবেক স্বামীর ধন সম্পদ যেন তার মেয়েদের কাছেই থাকে সে বিষয়ে তিনি স্বামীকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। ওই দুই মেয়ে তাদের মায়ের পক্ষে আছে। দুবাইয়ের ক্রীড়া দূত হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ম্যারাডোনা বড় একটি ফান্ড পেয়েছেন। সেখান থেকে কিছু অর্থ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করেছেন। আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়ক ও কোচের ধারণা, তার অর্থ আত্মসাত করেছেন ক্লডিয়াই। অর্থাৎ সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ম্যারাডোনা অর্থ চুরির অভিযোগই করেছেন! বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও সমঝোতা হয়নি। অবশ্য শুরু থেকেই ম্যারাডোনার দুই মেয়ে জোর গলাতেই বলছেন, তাদের মা এমন কাজ করতেই পারেন না। ডালমা তো তার মাকে পৃথিবীর অন্যতম সেরা বলে অভিহিত করেন। আর্জেন্টিনার এক রেডিওকে দেয়া সাক্ষাতকারে ডালমা আগেই জানান, আমার মা পৃথিবীর সবচেয়ে সৎ মানুষ। আমি এটা নিশ্চিত করেই বলছি। এই বিষয়টাকে বাইরে টেনে নিয়ে যাওয়াতেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। বলেন, সংবাদ মাধ্যমের জন্য এটা খুবই ভাল বিষয়। কিন্তু আমাদের জন্য বিষয়টা খুবই বেদনাদায়ক।

এর আগে সন্তান নিয়েও বেশ কয়েকার ঝামেলায় জড়াতে হয়ে ম্যারাডোনকে। ২০১৩ সালে এ কারণে সাবেক প্রেমিকা ভেরোনিকা ওজেদার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। ভেরোনিকা ওজেদা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুত্র দিয়াগো ফার্নান্ডোর ছবি টুইটারে পোস্ট করায় মামলাটি করেছিলেন ম্যারাডোনা। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওজেদা জন্ম দেন ফার্নান্ডোর। আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যমের খবর ছিল, এই সন্তান কিছুতেই চাচ্ছিলেন না ম্যারাডোনা। এ কারণেই ওজেদার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। কিন্তু তাতে কোন সমস্যাই হয়নি বর্ণিল চরিত্রের ম্যারাডোনার। জুটিয়ে নেন নতুন প্রেমিকা। নাম রোসিও ওলিভা। সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতিতে জানা যায়, ভেরোনিকা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে তাদের সন্তান ফার্নান্ডোর ছবি প্রকাশ করেন। এতে কথার বরখেলাপ করেন ওজেদা। কেননা সন্তানের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ম্যারাডোনা আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। তাতে আদালত প্রথমে ১৫ দিন করলেও পরে সন্তানের ছবি প্রকাশের উপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওজেদা ছবি প্রকাশ করায় মামলা করেন ম্যারাডোনা।