২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লঙ্কা-ভারত সিরিজ নির্ধারণী টেস্ট শুরু আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ স্থান এক, ভেন্যু আলাদা। কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ায়ের শেষ টেস্ট খেলেছেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা। এবার সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তাকে ছাড়াই উজ্জীবিত ভারতকে মোকাবেলা করার জন্য নামছে লঙ্কানরা। না আছে মাহেলা জয়াবর্ধনে, না সাঙ্গাকারা। আগের ম্যাচটিতে ২৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে স্বাগতিকরা। সিরিজে এখন সমতা ১-১। তাই উভয় দলেরই সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। কিন্তু লঙ্কানরা গত ২২ বছরের মধ্যে এই প্রথম সম্ভবত ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে এতটা ব্যাকফুটে আছে। ব্যাটিং স্তম্ভ সাঙ্গা নেই এবং দ্বিতীয় টেস্টে বাজে রকমের হারে মানসিকভাবে তেমন স্বস্তি নেই লঙ্কান ক্রিকেটারদের মধ্যে। এমনকি সে কারণে আত্মবিশ্বাসেও আছে যথেষ্ট ঘাটতি। আর ২২ বছরে এই প্রথম লঙ্কান মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের মোক্ষম সুযোগ বিরাট কোহলির ভারতের। সিরিজের ফাইনালে পরিণত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে অবশ্য শুধুই দর্শক হয়ে থাকবেন অবসরে চলে যাওয়া সাঙ্গাকারা। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে।

পি সারা ওভালে হওয়া দ্বিতীয় টেস্ট ছিল সাঙ্গাকারার বিদায়ী ম্যাচ। বিদায় মুহূর্তে হয় তো মানসিকভাবে আবেগী হয়ে পড়ার কারণেই তেমন কিছু করতে পারেননি। দলও হেরে গেছে। প্রথম টেস্টে নাটকীয়ভাবে জয়ের পরেও এ পরাজয় এখন সিরিজে সমতা এনেছে। তবে সাঙ্গাকারা বিদায় নেয়ার সময় দীর্ঘদিনের সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করার জন্য অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘এ্যানজি, তুমি একটা দারুণ দল পেয়েছ। চমৎকার একটি ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে তোমার জন্য।’ কিন্তু সাঙ্গাকারা থাকতেই পি সারা ওভালে ভরাডুবি হয়েছে লঙ্কানদের। এবার তাকে ছাড়া নতুন এক লড়াইয়ে নামতে হবে স্বাগতিকদের। তবে ভারতীয় দল এবার বেশ উজ্জীবিত। শ্রীলঙ্কার মাটিতে দীর্ঘ ২২ বছর টেস্ট সিরিজে জয় নেই ভারতের। তরুণ বিরাট কোহলির দল এবার লঙ্কায় পা রাখার পর থেকেই এ নিয়ে চলছে আলোচনা। এবার কি পারবে ভারত? আড়াই দিন এগিয়ে থাকার পরও গলের প্রথম টেস্টে নাটকীয়ভাবে ৬৩ রানে হারের পর আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু পরে দেখা গেল বিপরীত চিত্র। সাঙ্গাকারার বিদায়ে যখন বিমর্ষ পুরো লঙ্কাদ্বীপ, সে সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে তাদের পরাজয়ের দুঃখ উপহার দিল সফরকারী ভারত। দ্বিতীয় টেস্টে ২৭৮ রানের বড় জয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা। তবে সাঙ্গা বিরহ এবং ওই পরাজয়ের যন্ত্রণা ভুলে ফুরফুরে মেজাজে থাকা অনুপ্রাণিত ভারতের বিপক্ষে লড়াই করাটা বেশ কঠিন হবে স্বাগতিকদের জন্য। মোহাম্মদ আজহার উদ্দীনের নেতৃত্বে সেই ১৯৯৩ সালে সর্বশেষবার লঙ্কান মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর দীর্ঘ খরা। এবার সেটা কাটিয়ে উঠতে সঙ্কল্পবদ্ধ শ্রীলঙ্কা। যদিও এ মাঠে নিজেদের শেষ ৫ টেস্টে জয় নেই ভারতের, ২টিতে হার ও ৩টি ড্র। অবশ্য কোহলিদের অনুপ্রেরণা হতে পারে এখানে জিতেই ১৯৯৩ সালে সিরিজ জিতেছিল আজহার উদ্দীনের দল।

সিরিজ বাঁচানোর লড়াই উভয় দলের জন্য। সেদিক থেকে অবশ্য দু’দলই একই পজিশনে আছে। কিন্তু নানাবিধ সমস্যা আছে দু’দলের জন্যই। ভারত শেষ টেস্টে পাচ্ছে না দুই নিয়মিত ওপেনার মুরলি বিজয় ও শিখর ধাওয়ানকে। মহেন্দ্র সিং ধোনি অবসরে যাওয়ার পর উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পাওয়া ঋদ্ধিমান সাহাও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন। তার পরিবর্তে আজ নামান ওঝাকে প্রথমবার টেস্ট ক্যাপ পরাতে পারে ভারত। অথবা লোকেশ রাহুলকে দিয়ে কিপিংয়ের কাজ চালাতে হবে। মুরলি বিজয় ছিটকে যাওয়ায় সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের শেষ লড়াইয়ে ওপেনিং জুটি হবেন লোকেশ রাহুল ও চেতেশ্বর পুজারা। এছাড়া বাকি সবকিছু দ্বিতীয় টেস্টের মতোই থাকছে। বোলিং নিয়ে সমস্যা নেই ভারতের। দ্বিতীয় টেস্টে সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও অমিত মিশ্রর। দুজন মিলে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। দুই টেস্টে ১৭ উইকেট নেয়া অশ্বিনই হয়ে উঠেছেন তুরুপের তাস।

সাঙ্গাকারাকে ছাড়াই এবার নতুন অধ্যায় শুরু হবে শ্রীলঙ্কার। জয়াবর্ধনে আগেই বিদায় নিয়েছেন। যে কারণে দলটির টপঅর্ডার ব্যাটিংয়ে তৈরি হয়েছে বড় রকমের শূন্যতা। ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতার বড় অভাব। সাঙ্গার পরিবর্তে ২০ টেস্টে ৩১ গড়ে ১,১১৩ রান করা উপুল থারাঙ্গাকে নামানো হবে আজ। আর অভিজ্ঞ জেহান মুবারককে শূন্যতা পূরণের জন্য দলে নিয়ে তেমন উপকৃত হয়নি লঙ্কানরা। ব্যাট হাতে কিছুই করে দেখাতে পারেননি তিনি। এ কারণে শেষ টেস্টে তার বদলে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কুসাল পেরেরাকে নামানোর সম্ভাবনা আছে স্বাগতিকদের। সেক্ষেত্রে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে ফর্মে থাকা দিনেশ চান্দিমালকে চাপ কমানোর জন্য। দ্বিতীয় টেস্টে হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় খেলেননি পেসার নুয়ান প্রদীপ। তিনি এ টেস্টে ফিরছেন। দুশমন্ত চামিরা সেক্ষেত্রে বাদ পড়বেন।

নির্বাচিত সংবাদ