২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর!

সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মৃত্যুবরণ করলে এখন থেকে দায়ী চালকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা যাবে না- এমন সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পদক্ষেপটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি এতে উদ্বিগ্ন হওয়ারও কারণ সৃষ্টি হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে এর আগে সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে চালকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফৌজদারি দ-বিধি আইনের ৩০২ ধারা অর্থাৎ হত্যামামলা দায়ের করার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-। এ উদ্যোগে জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসে। গণপরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদের মধ্যেও কিছুটা বাড়তি সতর্কতা দেখা দেয়। সবমিলিয়ে মোটামুটি একটি স্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হলেও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়নি বরং তা অব্যাহত রয়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন সিদ্ধান্তটিতে অস্বস্তির পাশাপাশি আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা দিল।

বিশ্বের সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনায় শত শত প্রাণহানি ঘটছে। অমূল্য প্রাণ ঝরে গিয়ে শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারেই শূন্যতা সৃষ্টি করে না, কারও কারও মৃত্যুতে দেশ-জাতি, সমাজেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়। এসব দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে চালকের অদক্ষতা, অসতর্কতা-অবহেলা, অপ্রাপ্তবয়স্ক, দীর্ঘ কর্মঘণ্টার চাপ, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাহন চালনা।

কারোর দায়িত্বহীনতার কারণে যদি কোন মৃত্যু বা অঙ্গহানি ঘটেÑ সে ক্ষেত্রে সরল হিসেবেই দায়-দায়িত্ব তার ঘাড়েই যে বর্তায় একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। অপরাধীর যথাযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত না হলে আইনের শাসন নিয়ে নাগরিকের সংশয় জাগে। ৩০২ ধারা প্রয়োগের স্থলে ৩০৪(খ) ধারা প্রয়োগ করতে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাতে চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের কারাদ-। ব্যাপারটা দাঁড়াল এমনÑ আগে শাস্তির সঙ্গে ছিল মৃত্যুর ভয়, এখন তা কমে হলো লঘুদ-। এ বাস্তবতায় সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী চালকের শাস্তির মেয়াদ যদি কমে যায় তবে তার মধ্যে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দায়িত্বহীনতা, বেপরোয়াভাব দেখা দেয়া বিচিত্র নয়। এই লঘু শাস্তির জন্য তার মধ্যে অপরাধপ্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

সড়ক পথে দুর্ঘটনারোধে এ আইনটির শাস্তির মেয়াদ ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভাবা আবশ্যক। এর পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল প্রতিরোধ, শিক্ষিত-প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও দক্ষ চালক নিশ্চিত করা জরুরী। সতর্ক থাকা দরকার চালকের মাদক বা নেশাদ্রব্য ব্যবহারের ব্যাপারেও। তাদের কর্মঘণ্টার ব্যাপারে মালিক বা কর্তৃপক্ষেরও সজাগ থাকা দরকার। দীর্ঘ সময় পরিশ্রমের পর তার বিশ্রাম নিশ্চিত না হলে কর্মক্লান্ত ও অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানোয় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। এ ব্যাপারে সরকারী প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধ ও সড়কসংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোরও দায়িত্ব কোন অংশে কম নয়।

নির্বাচিত সংবাদ