২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শান্তি চুক্তি নিয়ে ভালভাবে ভেবে দেখুন ॥ সুচি

  • মিয়ানমারের বিদ্রোহী দলগুলোর প্রতি আহ্বান

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী বিরোধীদলীয় নেত্রী আউং সান সুচি দেশব্যাপী এক অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সতর্কতার সঙ্গে ভেবে দেখার জন্য সংখ্যালঘু সশস্ত্র জাতিগত গ্রুপগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার দলের শীর্ষস্থানীয় এক সহকর্মী এ কথা বলেছেন। সুচির এ আহ্বান তাকে প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনবিরোধী এক অবস্থানে নিয়ে যাবে। থেইন সেইন নবেম্বরে নির্বাচনের আগেই গ্রুপগুলোর সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাবার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। খবর ওয়েবসাইটের

এক ডজনেরও বেশি বিদ্রোহী গ্রুপ ও সরকারের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৮ মাস ধরে। বিরোধী দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) নির্বাহী কর্মকর্তা উইন তেইন বলেছেন, দলের নেত্রী সুচি শনিবার কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) মেজর তো তোলেয়েতের সঙ্গে এক বৈঠকে তার মত ব্যক্ত করেন। কেএনইউ ঘোষণা করেছে চুক্তি স্বাক্ষরে তারা প্রস্তুত। যে বৃহৎ জাতিগত গ্রুপগুলো অধিকতর স্বায়ত্তশাসন অর্জনে কয়েক দশক ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে সেগুলোর মধ্যে কেএনইউ অন্যতম। নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সুচি বলেছেন যে, ৮ নবেম্বর নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর না করার কথা জাতিগত গ্রুপগুলোকে বিবেচনা করতে হবে। কারণ, চুক্তি অর্থবহ হতে হবে। সুচি চুক্তির বিষয়ে এ পর্যন্ত বেশ নীরব থেকেছেন। কিন্তু নির্বাচন এগিয়ে আসায় এবং তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ব্যাপকভাবে আস্থাশীল হওয়ায় তিনি কোন কোন বিষয়ে অধিকতর সোচ্চার হওয়া শুরু করেছেন। নির্বাচনের আগে কোন চুক্তি স্বাক্ষর হলে এনএলডির প্রধান বিরোধী থেইন সেইনের ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশের প্রশাসনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সেনাবাহিনী এক অজুহাত হিসেবে এ জাতিগত অসন্তোষকে ব্যবহার করে আসছে। বিষয়টি দেশের ঐক্য সম্পৃক্ত হওয়ায় অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি বড় জাতিগত দল সুচির দলের সঙ্গে হাল্কাভাবে জোটবদ্ধ রয়েছে। তারপরও বলা যায়, অস্ত্রবিরতি প্রশ্নে জাতিগত গ্রুপগুলোর অবস্থানের ব্যাপারে সুচি প্রভাব রাখতে পারবেন। এমন সম্ভাবনা নেই, যদি না তারা মনে করে যে, তার দল ক্ষমতায় যেতে পারবে এবং অধিকতর সুবিধাজনক চুক্তি করতে পারবে।

নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, সংবিধানের যে কোন সংশোধনীর ব্যাপারে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে সেনাবাহিনীর। তার দল ক্ষমতা নিয়ে সংবিধানে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন আনতে চাইলেও তা সম্ভব হবে না।

সরকার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বলে আসছে যে, অস্ত্রবিরতি চুক্তি আসন্ন। কিন্তু বেশ কিছু গ্রুপের সঙ্গে লড়াই চলছেই। সরকার এ পর্যন্ত বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর বেশকিছু দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জাতিগত গ্রুপগুলো ও সরকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বেশকিছু অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু সেগুলো সাধারণত মুখ থুবড়ে পড়ে।